আত্মরক্ষায় কারাতে

 

 

মোঃ আলতাফ হোসেন ঃঃ
জুডো, কুংফু ও কারাত একটি অপরটির পরিপূরক। কুংফু হচ্ছে এক প্রকারের কারাতে বা মার্শাল আর্ট। জুডো হলো জাপানি। জু দো অর্থাৎ “ধীরপথ” । একটি আধুনিক মার্শাল আর্ট। যুদ্ধ বিষয়ক খেলা এবং অলিম্পিক খেলা যেটার উৎপত্তি ১৮৮২ সালে, জাপানে, জিগরো কানোর মাধ্যমে। জুডোর ািবশেষভাবে লক্ষ্যণীয় দিকটি হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক উপদান, যেখানে লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষকে মাটিতে নিক্ষেপ করা বা আছাড় মারা, প্রতিপক্ষকে আকঁড়াইয়া ধরা অথবা প্রয়োগে গিঁট আবদ্ধের মাধ্যমে বা শ্বাস রোধের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আত্মসম্পর্ন করাতে বাধ্য করা। হাত ও পায়ের মাধ্যমে আঘাত করা এবং ধাক্কা অধিকন্ড প্রতিরক্ষা জুডোর অংশ কিন্তু শুধুমাত্র কাতাতে এবং জুডো প্রতিযোগিতা ও মুক্ত অনুশীলনে অনুমোদনহীন। আর কারাতে অর্থ খালি হাতে খেলার একটি পদ্ধতি। শারীরি সুস্থতার জন্য এবং শারীরিক ফিটনেসসহ ওজন কমানোর উপায় হিসেবে মার্শাল আর্ট ও কুংফু কারাতে খুব কার্যকরী ব্যায়াম। কারাতে শিক্ষার মাধ্যমে আত্মরক্ষা, আত্মবিশ্বাসী হওয়া যায়। খালি হাতে যুদ্ধ করার কলা কৌশলকে কারাতে বা মার্শাল আর্ট বলে।

আসলে জুডো, কুংফু কারাতে বা মার্শাল আর্ট যে নামেরই ডাকি না কেনো মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই। একেক দেশে একেক নামে ডাকে। প্রিয় পাঠক আত্মরক্ষার কারাতে ধারাবাহিক প্রতিেিবদনের অষ্টম পর্বে আজ যাচ্ছে উসাঠাকির অর্থাৎ বেক কিক তা লাথি।
উসাঠাকিরীঃ কিক বা লাথির ভেতর বেশ কয়েকটি আইটেস আছে এর মধ্যে যেমন কিঙ্গারী, উসাঠাকিরী উল্কাগিরী, মাউশিগিরী এবং ইটাগিরী। আজকের পরে থাকছে উসাঠাকিরী অর্থাৎ বেক কিক। যে কোনো কঠোর প্রশিক্ষণের পূর্বে ওয়ার্ম আপ ও ব্যায়ামের প্রয়োজন। আর ওয়ার্ম আপের মাধ্যমেই শরীরকে ব্যায়ামের উপযোগী করে নিয়ে তার পর প্রশিক্ষণ গুরু করতে হয়। তাছাড়া ওয়ার্ম আপ বা ব্যায়াম ছাড়া কারাতে প্রশিক্ষণের জন্য হবে অনুপযোগী। শরীরকে প্রশিক্ষণের উপযোগী করেই প্র্যাকট্রিজ করতে হয়। ওয়ার্মা আপ বা ব্যায়াম করে না নিলে তা হবে শারীরের জন্য বিপজ্জনক। আর মানে রাখতে হবে, প্রতিটি ব্যায়ামের ওয়ার্ম আপ কিন্তু ভিন্ন রকম হতে পারে। তাই কারাতে প্রশিক্ষণের পূর্বেও কারেতের উপযোগী ব্যায়াম করে নিলে ভালো হয়। ঠিক পূর্বের ন্যায় ছালাম বো, কিবাডাসী পজিশনে থেকে প্র্যাকট্রিজ শুরু করতে হবে। নতুন লেসনের সাথে পুরানো লেসনগুলাও প্র্যাকট্রিজ করে নিতে হবে। যাতে দক্ষতা বৃদ্ধি হয়। আর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়েই রপ্ত করে নিতে হবে কারাতে প্রশিক্ষণের প্রতিটি কৌশল ও লেসন। গেল লেসনে ছিল কিঙ্গারী। আজ থাকছে উসাঠাকিরী। প্র্যাকট্রিজের সময় অবশ্যই কিবাডাসী অবস্থায় থাকতে হবে এবং হাত দুটি মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় কোমড়ের দুই পাশে থাকবে। প্রথমে ডান পায়ে উসাঠাকিরী করার সময় একই সাথে কোমড়ে থাকা মুষ্টিবদ্ধ দুই হাত বুক বরাবর ডান হাতের উপরে বাম হাত ক্রস অবস্থায় চলে যাবে এবং সেই সাথে ডান মাটি বাম পা টাচ করে সোজা পেছনের দিকে সজোরে লাথি বা কিক করতে হবে অর্থাৎ উসাঠাকিরী মারতে হবে। মারার সময় টো দিয়ে কিক করতে হবে হোইস শব্দের মাধ্যমে। উসাঠাকিরী মারার সময় ঘাড় একটু ডান দিকে ঘুরে আড় চোখে কিক করতে হবে। আনার সময় কিবাডাসী অবস্থায় যাওয়ার পুর্বে হাটুটি একটু ঘুড়িয়ে তারপর কিবাডাসী পজিশনে যেতে হবে। তেমনি ভাবে কিবাডাসী পজিশনের আসার পর আবার একই কায়দায় ঠিক ডান পায়ে উসাঠাকিরী করার সময় যেমন হাত দুটি ক্রোস করা হয়েছিল এখন ঠিক তার বিপরীত । এবার বাম পায়ে যখন উসাঠাকিরী করা হবে তখন বাম হাতের ওপরে ক্রোস অবস্থায় ডান হাতটি থাকবে সেই সাথে হাটুটি ভেঙ্গে সোজা পেছনের দিকে টো দিয়ে লাথি মারতে হবে অর্থাৎ উসাঠাকিরীর মারতে হবে। এবার ও মারার সময় বাম দিকে ঘাড়টি একটু ঘুরে আড় চোখে মারতে হবে। আনার সময় হাটুটি একটু ঘুড়িয়ে আবার কিবাডাসী প্রজিশনে চলে যেতে হবে। এভাবে একবার ডান পায়ে একবার বাম পায়ে উসাঠাকিরী করতে হবে। মারার সময় অবশ্যই হাতের ও পায়ের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে হবে। তা না হলে আর্ট অসুন্দর হবে এবং শিক্ষার্থীর উসাঠাকিরী সহজেই আয়ত্বে আসবে না।

উসাঠাকিরী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষনার্রীর হাত ও পায়ের ব্যালেন্সের সমন্বয় সাধিত হয়। পেছনে শত্রু পক্ষকে আঘাত করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে এ উসাঠাকিরী। এছাড়াও পায়ের শক্তি ও বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। যে যতো বেশি প্র্যাকট্রিজ করবে তার আয়ত্বে হবে উসাঠাকিরী । যতক্ষণ পর্যন্ত পারফেক্ট না হবে প্রশিক্ষণার্থীর উসাঠাকিরী অতক্ষণ পর্যন্ত তাকে লেসন দেবে না প্রশিক্ষক। কারণ সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই প্রতিটি শিক্ষণার্রীকে রপ্ত করে নিতে হবে তার প্রতিটি লেসন। তা না হলে একজন দক্ষ বা অভিজ্ঞ ফাহটার হতে পারবে সে। পরবর্তী ধাপগুলোতে পৌঁছাতে হলে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে সঠিকভাবে তার লেসন শিখে নিয়ে অনুশীল করতে হবে। তবেই সে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে অর্জন করে নিতে সক্ষম হবে এ কারাতে প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ।
পৃথিবীতে যারা বিখ্যাত মার্শাল হিরোর আসনে অলংকৃত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ব্রুসলি ও জেকি চাঁন এর নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁদের অনুস্মরণ করে আমাদের জীবনের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাতের সর্বোচ্চ আসনে নিজেকে একজন যোগ্য দক্ষও আভিজ্ঞ মার্শাল হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গড়ে তুলতে হবে। ছেলেদের পাশাপাশি এখন মেয়েরাও বিভিন্ন মার্শাল আর্ট স্কুলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। মার্শাল আর্ট একদিকে শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য রক্ষাকবজ অপর দিকে শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে, আত্ম বিশ্বাস অর্জনে এবং আত্মরক্ষায় কারাতের কোনো বিকল্প নেই।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ (কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) সভাপতি শারীরিক
শিক্ষাবিদ সমিতি,চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট