আত্মরক্ষায় কারাতে

মো: আলতাফ হোসেন ঃঃ
মার্শাল আর্ট পরিভাষাটি ব্যাপকভাবে প্রাচ্য এশীয় লড়াইয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মানুষ আত্মরক্ষার জন্য এটা ব্যবহার করে । সুস্থ্য থাকা থাকা এবং ওজন কমানোর উপায় হিসেবে মার্শাল আর্ট কুংফু ও কারাতে খুব জনপ্রিয় ব্যায়াম। কারাতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠতে থাকে ষাট ও সত্তর দশকে ওরিয়েণ্টার মার্শাল আর্ট হিসেবে বিংশ শতাদ্বীর মাঝামাঝি কারাতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিনব বৈশিষ্টের কারনেই অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মরক্ষার কৌশলটি পুরোপুরি রপ্ত করা যায়। দেশের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের স্বাধীনভাবে চলা ফেরা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ । ইভটিংসহ নানা ভাদ্রর রয়েছে। তাই স্কুলে কলেজের মেয়েরা কারাতে প্রশিক্ষণ নিলে আত্ম বিশ্বাসের সাথে চলাফেরা করতে পারবে। কারাতে আক্রমন প্রতিবেশী কৌশল সন্বলিত একজাতীয় এশীয় খেলা এ খেলায় হাত ও পায়ের ব্যবহারই মুখ্য ।

ইচাগিরী: আজ ১১ তম পূর্বে ইচাগিরী শুরু করার পূর্বে আগের লেসনগুলো করে নেবো। আগের লেসন গুলো করা শেষ হলে ইচাগিরী জন্য প্রস্তত হবে শিক্ষার্থী। ইচাগিরী শুরু করার পূর্বে প্রথমে শিক্ষার্থীকে সলোম, বো করে দুই হাটুর উপর ভর করে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় কোমড়ে থাকবে। পরিমান মতো পা দুটি একটু ফাঁক করে দাঁড়তে হবে, হাটু দুুটি ভাঙ্গা অবস্থায় থাকবে সেই সাথে দুই হাটুর উপর ভর করে দাঁড়াতে হবে, যাতে শরীর সোজা অবস্থায় থাকে এবং হাটুর ওপর শরীরের ভারসাম্য থাকে। এ অবস্থাকে কিবাডাসী পজিশণ হলে। শিক্ষার্থীকে মনে রাখতে হবে যে কোনো লেসন শুরুর পূর্বেই সালাম বো করে কিবাডাসী অবস্থা থেকেই শুরু করতে হবে। আজকের লেসন ইচাগিরীর ব্যবহার ও এর কার্যকরিতা সম্পর্কে শিক্ষার্থী অবগত হবে। প্রথমে কিবাডাসী থেকে ইচাগিরী করার সময় ডান পা টি বাম পায়ে টাচ করে পেছনে চলে যাবে একই সাথে বাম হাটুর উপর বাম হাতটি মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় থাকবে এবং ডান হাতটি ডান কোমড়ে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় থাকবে। অর্থাৎ সায়মন সখী পজিশনে থাকবে। সায়মন সখী পজিশন থেকে প্রথমে ডান পাটির হাটু ভেঙ্গে একটু ঘুরে শরীর আটফুল রেখে সজোরে হাটু দ্বারা আঘাত করতে হবে। সেই সাথে হাতের পজিশণ ও স্ব স্ব অবস্থানে থাকবে। অর্থাৎ ডান পায়ে ইচাগিরী মারার সময় হাটু ভাঙ্গা ডান পায় উপরে ডান হাত এবং বাম হাতটি একটু ভেঙ্গে ডান হাতের সাপথে ব্যালেন্স করে আটফুল অবস্থায় থাকবে। আবার বাম পায়ে ইচাগিরী কারা সময় ঠিক একই সময় মারতে হবে। ডান পায়ে ইচাগিরী করার সময় ডান হাটু দ্বারা মজোরে মারা করা হয়েছিল ডান হাতটি ছিল ডান হাটুর উপর এবং বাম হাতটি ডান হাতের সাথে ব্যালেন্স করে আটফুল অবস্থায় ছিল। এবার বাম পায়ে ইচাগিরী মারার সময় বাম হাটু দিয়ে মজোবে মারতে হবে। মারার সময় হাটুটি ভাঙ্গা অবস্থায় থাকবে। বাম হাতটিও হাটু ভাঙ্গা বাম পায়ের উপর থাকবে সেই সাথে ডান আটটি একটু ভেঙ্গে আটফুল অবস্থায় থাকবে। এভাবে একবার ডানহাটু দিয়ে ইচাগিরী মারতে হবে আবার বাম হাটু দিয়ে মারতে হবে। এভাবে পা বদল করেও ইচাগিরী করা যেতে পারে আবার এক বার ডান পায়ে বেশ কয়েকবার ইচাগিরী করে নিয়ে তার আবার বাম পায়েও করা যেতে পারে। তবে প্রশিক্ষনার্থীকৈ মনে রাখতে হবে যে কোনে লেসনই শিখুক না কেনো তাকে মনো যোগসহকারে রন্ত করতে হবে প্রতিটি মারার কৌশল। কারণ মার্শাল আর্ট তথা কারাতের মূল মন্ত্র হলো কৌশল । প্রতি পক্ষকে আঘাত করতে হলে শক্রিয় চেয়ে কৌশল বেশি কার্যকর। উইলিয়াম ব্লেইক বলেন বাঘের শক্তির ঘোড়ার কৌশল বেশি কার্যকর “ইচাগিরী অনুশীলনের মাধ্য একজন শিক্ষার্থী হয়ে ওঠতে পারে আরো। কৌশলী । এ কিকের মাধ্যমে হাটুর শক্তি বৃদ্ধি করে সেই সাথে শিক্ষার্থী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ইচাগিরী ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। এট কিকের মাধ্যমে খুব কাছ থেকেই হাত ও পায়ের ব্যবহার পাশাপাশি যেমন অন্যান্য কিকের মতো সুযোগে প্রতিপক্ষকে আচমাকা আঘাত করার জন্য ইচাগিরীর কার্যকারিতা অনেক বেশি।

কারাতে শিক্ষা একজন খেলোয়াড়কে অতি পটু করে তুলতে পারে বলেই খেলোয়াড়দের মধ্যে গড়ে ওঠে অতিরিক্ত আত্ম বিশ্বাস । আর আত্ম বিশ্বাসদই হলো সাফল্য অর্জনের রহস্য। কারাতে যারা শিখবেন তাদেরকে ক্রোধ দমনের ক্ষমতা থাকতে হবে। ক্রোধ যে কোনো মূহুর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে ভয়ানক কিছু ঘটাতে। তাছাড়া ও বিদ্যামানব কল্যাণের জণ্য নিপীড়নের জন্য নয়। কথা টা মনে রাখতে হবে। এ বিদ্যার দেহিক শক্তি কৌশলের সাথে থাকা

চাই উপস্থিত বৃদ্ধি যা বেশি করে উপকারে আসে। খেলা হিসেবে কারাতে দর্শকের কাছে আকর্ষনীয় বটে আর একজন খেলোয়াড়ের কাছে কারাতে হচ্ছে শারীরিক ফিটনেসের রক্ষা কাজ।

প্রিয় পাঠক আত্ম রক্ষায় কারাতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজকের ১১ তম পর্বে থাকবে ইচাগিরী যে কোনো খেলাধুলার পূর্বে কিছুক্ষণ ওয়ার্ম আপ করে নিলে ভালো হয় । যেহেতু কারাতে প্রশিক্ষণ একটি কঠিন অনুশীলন তাই ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে কারাতে প্রশিক্ষণের জণ্য শরীরকে প্রথমে নমরীয় করতে হয় এর পর কারাতের ব্যায়াম করে নিতে হবে। শরীর সুস্থ্য থাকলে মান ও ভাল থাকে। তাই সুস্থ্য শরীরের জন্য খেলাধুর পূর্বে ওর্য়াম আপ এবং ব্যায়াম অপরি হার্য। খেলাধূলার মাধ্যমেই একজন মানুষ সুস্থ্যভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে তার কর্মজীবন হবে ওয়ার্ম আপ শেষে ব্যায়াম করার সময়ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কারণ অনিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম করলে সেটা শরীরের জন্য মোটেও কল্যাণকর নং অকল্যাণকর। ব্যায়ামের পর যখন শরীরটা প্র্যাকটিজের উপযোগী হবে তখন শুরু করা যাবে কারাতে প্রশিক্ষণের মূল কার্যক্রম । আমরা গত সপ্তাহে অর্থাৎ গত লেসনে ছিলো মার্ডশিগী । আমরা অনেকেই আছি যারা নিয়মিত খেলাধূলা ও শরীর চর্চা ভালোবাসি। আমি নিজেও তাদের একজন । এক ঘেয়েমি কাটানো এবং ব্যায়াম দুটোই এক সাথে করার জন্য শিখতে পারেন মার্শাল আর্ট। এ খেলাটি একদিকে যেমন উচ্চ মাত্রায় ব্যায়াম তেমন এর সাথে পাবেন আত্মরক্ষার নানা কৌশল । কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাটকে যেমন সুস্থ্য রাখে তেমনি তেমনি অন্যান্য অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে এক মাশাল আর্ট অর্থাৎ কারাতে প্রশিক্ষণে খেলাধূলা যে মানুষকে সুস্থ দেহী সবল ও কর্মক্ষণ করে তোলো এটা প্রাচীনকাল হতেই স্বীকৃত । এছাড়াও মন প্রফুল্লা থাকে কারাতে জয় বায় আজ সারা বিশ্বে জুড়ে কারাতে জয় জয় বিশেষ করে আত্মরক্ষার কথা ভেবে সবাই এই খেলাটির প্রতি বুকে পড়েছেন। শুধু তাই নয় শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এর কোনো বুড়িনেই গঠনের এক অন্যান্য টনিক। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে। দৈনন্দিন জীবনে মার্শাল আর্টের বড় ধরণের প্রভাব পড়ে। যারা এটি অনুশীলন করেন তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ করতে সক্ষম হয়ে ওঠেন। এছাড়া ও মার্শাল আর্ট চর্চায় সাংসপেশীর নমণীয়তা ভারসাম্য ও শক্তি বাড়ে।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ (কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি,চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট