আত্মরক্ষায় কারাতে

 

মো. আলতাফ হোসেন ঃঃ
সুস্থ দেহ সবল মন খেলাধুলার প্রয়োজন। যদি কেউ সুস্থ দেহ সবল মন চায় তাহলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলাই একমাত্র সঠিক ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও সুস্থ শরীর গঠনে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে যত রকম বিনোদন মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে খেলাধুলা অন্যতম। খেলাধুলা মানুষকে পূর্ণাঙ্গ আচরণ শিক্ষা দেয়। মানব সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে বেড়েছে প্রতিনিয়ত মানুষের কর্ম ব্যস্ততা। জীবনের সাথে সংগ্রামরত মানুষকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য জীবনকে উপভোগ করতে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক কিছুটা প্রশান্তি ও বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের অলিগলি পার হতে আর জীবনের মান উন্নয়ণের মানুষ ছুটতে ছুটতে হয়ে পড়ছে ক্লান্ত সাফল্য আর ভাগ্য উন্নয়ণে কর্ম ব্যস্ত মানুষের ছুটে চলে। জীবনে একটু খানি বিরতিতে খেলাধুলার বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। বলা চলে সুস্থ দেহ সবল মন, খেলাধুলার প্রয়োজন। তাই নেই খেলাধুলাটি যদি খুব মাশার্ল আর্ট তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। মাশার্ল আর্টের অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষকে সুস্থ দেহ অধিকারী করে তোলে। পাশাপাশি মানসিকভাবে জয় পরাজয়গুলোকে মেনে নিতে শোযয়ে। মার্শাল আর্টের মাধ্যমে এক দিকে যেমন শক্তি ও সাহস যোগায় অন্য দিকে তা প্রেরণার উৎসও বটে।

সুস্থ্য শরীর গঠনে শিশু কিশোরদের অলস সময় কাটানোর বদলে ইনডোর খেলাধুলা ও গেমসের বদলে আউটডোরে গেমসের প্রতি বেশি উৎসাহী করে তুলতে হবে। কেননা সুস্থ্য দেহের জন্য নিয়জিত শরীর চর্চা ও খেলাধুলার খুবই প্রয়োজন। তাই যদি কেউ সুস্থ্য ও সবল থাকতে চায় তার জন্য খেলাধুলা হিসেবে মার্শাল আর্টকেই বেঁছে নেয়া ভালো।প্রিয় পাঠক আত্মরক্ষায় কারাতের ধারাবাহিক প্রতিবদনের ১৩ তম পর্বে আজ থাকছে খাসিডাসি অর্থাৎ আচকমাু (ব্লক) এর ২য় টি। গত পর্বে করা হয়েছিল আচমকা (ব্লক) এর প্রথমটি অর্থাৎ ডোডকী। আজ থাকছে খাসিডাসী।

খাসিডাসীঃ অন্যান্য দিনের মতো লেসন শুরু করার পূর্বে ছালাম, বো, কিবাডাসী পজিশনে গিয়ে কারাতে অনুশীলনের জন্য কিছু ওয়ার্ম আপ করে নেবো। ব্যায়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওয়ার্ম আপ। ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে শরীর ও মন দুটোকেই ব্যায়ামের জন্য তৈরি করা যায়। যেহেতু মাশলি আর্ট বা কারাতে একটি কঠোর অনুশীলনে । তাই এটার জন্য শরীরকে নমনীয় করেই প্রশিক্ষণ শুরু করলে ভাল হয়। তা না হলে হয়তো ইনজুরি কিংবা মাসেল পুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আর যদি ভালো ভাবে ওয়ার্ম আপ করে কিছু কারাতের ব্যায়াম করে নেয়া হয় তাহলে শরীরে ধীরে ধীরে রুক্ত সঞ্চলন বাড়বে, শ্বাস প্রশ্বাস বাড়বে মাসেলের তাপমাত্রা বাড়লে মাসেল ঢিলা ও স্থিতিস্থাপক হবে ফলে মাসেলে অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ করবে। তাছাড়া মাসেলের কাজ করার গতিও বাড়ে ওয়ার্ম আপ করার ফলে। অনেকেই ব্যায়াম করার আগে ওয়ার্ম আপ করেন না, কিন্তু এটি শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক।

প্রতিটি ব্যায়ামের ওয়ার্ম আপের নিয়ম আলাদা হতে পারে, যাতে করে যে যে মাসেলে কাজ করার হবে সে সে মাসেলের ওয়ার্ম আপ ঠিক মতো হয়। তাই যখন কেউ কারাতে প্রশিক্ষণ নেবে তখন ও প্রশিক্ষণের উপযোগী যে ব্যায়াম বা ওয়ার্ম আপ হবে তা আগেই জেনে নিলে ভালো হয়। কারণ যে কোনো কঠোর প্রশিক্ষণের পূর্বে ওয়ার্ম আপ ও ব্যায়ামের প্রয়োজন । আর ওয়ার্ম আপের মাধ্যমেই শরীরকে ব্যায়ামের উপযোগী করে নিয়ে কারাতে প্রশিক্ষণ শুরু করতে হয়। ঠিক পূর্বের ন্যায় ছালাম, বো, কিবাডাসী পজিশনে থেকে অনুশীলন শুরু করতে হবে। সেই সাথে পুরানো লেসন গুলো করে নিলে ভলো হয় এতো প্রশিক্ষনার্থীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে। আর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়েই রপ্ত করে নিতে হবে কারাতে প্রশিক্ষণের প্রতিটি কৌশল ও লেসন। খাসিডাসী অনুশীল বা প্রশিক্ষণের সময় অবশ্যই কিবাডাসী অবস্থায় থাকতে হবে এবং হাত দুটি কোমড়ের দুপাশে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় থাকবে। শুরু করার পূর্বে প্রথমে আচমকা (ব্লাক) এর ১ম যেটি করা হয়ে ছিল ডোডকী। সেটা করার সময় প্রথমে কোমড়ে থাকা বাম হাতটি ঘুরিয়ে নাকের একটু সামনে মুখ বরাবর থাকবে। মনে রাখতে হবে প্রতিটি মারের সময়ই হোইস শব্দ করে মারতে হবে। এর পর ডান হাতে ডোডাকী মারার সময় বাম হাতটি চলে যাবে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় কোমড়ের পাশে। একই অবস্থায় অর্থাৎ ডান হাতটি ঘুরিয়ে নাকের একটু সামনে ২/৩ ইঞ্চি ফাঁকে সোজা অবস্থায় থাকবে এবং মুষ্টিবদ্ধ তালুর যে অংশ সেটা মুখ বরাবর থাকতে। এর পর ডান ও বাম হাতে ডোডকী শেষ হলে এরপর খাসিডাসী করতে হবে। খাসিডাসী করার পূর্বে ডান হাতটি ছিলে নাক বরাবর সোজা অবস্থায় এখন থেকেই ডান হাতটি চলে যাবে ডান কোমড়ে আর বাম হাতটি বাম কোমড়ে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় থেকে ডান হাতটি যখনই কোমড়ে চলে যাবে তনই বাম হাতটি ক্রস করে নিচে পেট বরাবর মরতে হবে এবং বাম হাতটি পেট হতে একটু দুরে বাঁকা অবস্থায় থাকবে। আবার ডান হাতে করার সময় বাম হাতেটি চলে যাবে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম কোড়মে এবং ডান হাতে খাসিডাসী মারতে হবে। ঠিক বাম হাতে যেভাবে মারা হয়েছিল ঠিক একই কায়দায়। অর্থাৎ এবার ডান হাতটি বাম হাত ক্রস করে পেটের একটু সামনে বাঁকা অবস্থায় থাকবে মুষ্টিবদ্ধভাবে। এভাবে একবার বাম হাতে একবার ডান হাতে খাসিডাসী করে নিলে ভালো হয়। শিক্ষার্থীকে মনে রাখাতে হবে খাসিডাসী কারার সময় আবশ্যই হাত দুটি আর্টফুল অবস্থায় থাকবে। যখন যে হাতে খাসিডাসী করা হয় তখন পজিশন ঠিক রেখেই আর্টফুলভাবে করতে হবে।

এ খাসিডাসী অনুশীলনের মাধ্যমে দুহাতেই শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সেই সাথে প্রতিপক্ষ যদি ছুরি দিয়ে কিংবা ঘুসি মেরে পেটে আঘাত করার চেষ্টা করে তাহলে তাকে প্রহিতক করার জন্য এই খাসিডাসী মারের ব্যবহার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ছাড়াও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে এ খসিডাসী কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারণ এটা আচমকা বা ব্লাকের ২য়টি। আর মার্শাল আর্টে প্রতিপক্ষকে আঘাত হতে নিজেকে রক্ষা করতে এ আচমকা বা ক্লকের প্রয়োজন হয়।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ (কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) সভাপতি শারীরিক
শিক্ষাবিদ সমিতি,চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট