আত্মরক্ষায় কারাতে

 

মোঃ আলতাফ হোসেন ঃঃ
আত্মবিশ্বাস তৈরীতে কারাতের কোনো বিকল্প নেই। বাবা মা তার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সুস্থ সবল ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তাই সচেতন বাবা মারা তাদের সন্তানদের সুন্দর সুস্থ সবল ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি মার্শাল বা কারাতে কারাতে প্রশিক্ষণে তাদের সন্তানদের আগ্রহী করে তুলছেন। যাতে তাদের সন্তানেরা মাদকাসক্ত না হয়ে একটি সুস্থ সুন্দর সাবলম্বী জাতি গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করতে পারে সেদিকে তাদের দৃষ্টি প্রসারিত। একটি দেশের কর্ণধার হলো ভবিষ্যত প্রজন্ম। আর তারা যদি নিজেদেরকে যোগ্য করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে তাহলে তারা শুধু বাবা মারই বোঝা নয়, সমাজেরও। আর সেজন্যেই শিশু-কিশোরদের যদি বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি কারাতে চর্চায় তাদের‘কে উৎসাহী করে তোলা যায় তাহলে ওরা একটি সুস্থ সুন্দর স্বাবলম্বী জাতি উপহার দিতে পারবে। তবে আগের চেয়ে নারীরা অনেক বেশি কারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আমি চাই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক এ কারাতে কর্মকান্ড। কারণ কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থী একদিকে যেমন সুস্বাস্থের অধিকারী হতে পারবে এবং সেই সাথে অন্যান্য বাজে কর্মকান্ড থেকে নিজেকে রক্ষা করে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তার ভবিষ্যৎ সম্পন্নকে বাস্তবায়ণ করতে সমর্থ হবে। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা প্রকসঙ্গে সম্ভব। মানসিক চাপ কমবার জন্য অন্যতম কার্যকী ভূমিকা পালন করে শারীরিক ব্যায়াম। মানসিক চাপ দূর করে নিজের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে নিয়মিত মার্শাল আর্ট চর্চার কোনো জুরি নেই। যদি কারাতে জুডো কেন্দু বা মার্শাল আর্টের মতো কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন তাহলে বলা বাহুল্য যে, আপনি দৈনন্দিন কার্য কলাপে অবশ্যই ভালো কিছু রেখেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্শাল আর্ট শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিসহ মানসিক হতাশা দূর করতে সক্ষম। যেটা সারাদিন চনচনে মেজাজ রাখবে এবং আপনাকে আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলবে। নানা ধরনের মানসিক চাপ কমাতে নিজেকে সমাজিকরণ এবং অন্যতম উপায়। যেটা এসঙ্গে মানসিক প্রশান্তি দেওয়াসহ আপনার দুশিন্তা কমাতে সাহায্য করবে। সেই সাথে এটা আত্মবিশ্বাসী ও নিজেকে নতুন করে জানতে সাহায্য করবে। প্রিয় পাঠুক আত্মরক্ষায় কারাতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন ১৩ তম পূর্বে ছিল খাসিডাসী। আচমকা অর্থাৎ ব্লকের ব্যবহার ২য়টি। আজ ১৪ তম পর্বে থাকছে ছোটকী।
ছোটকীঃ ছোটকী প্রশিক্ষণের পূর্বে প্রশিক্ষনার্থীকে অবশ্যই কিছু ওয়ার্ম আপ এবং ব্যায়াম করে নিতে হবে। আর ব্যায়াম হলো দেহ ও মন সতেজ রাখার রক্ষাকবজ। ব্যায়ামের মাধ্যমে সুঠাম শরীর গড়ে তোলার স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। ব্যায়ামের আগে কিছুক্ষণ ওয়ার্ম আপ করে নিলে ভালো হয়। আগে ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে পেশিগুলোকে তৈরি করে না নিলে আপনাকে আহত হবার সম্ভাবনা থেকে যায় অনেকটা। ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে কোনো রকম ক্ষতির আশক্সক্ষা ছাড়াই প্রস্তুত করে নিন আপনার পেশিগুলোকে। আমরা অনেকেই আছি ব্যায়াম করার আগে ওয়ার্ম আপ করার সময় দিতে কার্পণ্য করি, কারণ আমাদের ধারণা এই সময় টা শুধু শুধু নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবাতা হচ্ছে যে, ওয়ার্ম আপের মাধ্যমে আমাদের শরীরের পেশিগুলো ব্যায়াম করার উপযোগি হয়। আর সঠিক ওয়ার্ম আপ করলে ব্যায়ামের সময় আঘাত (ইনজুরি), থেকে রক্ষা করে। ব্যায়াম করার সময় শুধু মাত্র আপনার পেশি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন, তাহলে আপনি কিন্তু ভুল করছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের মনোনিবেশ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করার পর যখন শরীরটা যখন নমনীয় হবে অর্থাৎ প্রশিক্ষণে উপযোগি হবে তখন মূল কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। প্রথমে শিক্ষার্থীরা নতুন লেসন শুরু করার আগে পূর্বের লেসনগুলো করে নিলে ভালো হয়। আর পূর্বের লেসন শেষ হলে নতুন লেসনে এবার শিক্ষার্থীরা শিখবে কিভাবে ছোটকীর মাধ্যমে আচমকা অর্থাৎ ব্লকের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করা যায়। অন্যান্য দিনের ন্যায় সালাম, বো ও কিবাডাসী পজিশন অবস্থায় শিক্ষার্থীকে থাকতে হবে। এরপর আচমকা অর্থাৎ ব্লকের ৩য়টি তথা ছোটকী করতে হলে প্রথমে পূর্বের ব্লকগুলো করে নিতে হবে। পূর্বে করা হয়েছিল ১নং ব্লকে ডোডকী ও ২নং ব্লকে খাসিডাসী। এবার এ পর্বে করা হবে ছোটকী। কিবাডাসী পজিশন থেকে শিক্ষার্থী প্রথমে দুহাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় কোমড়ে রেখে এর পর হোইচ শব্দের মাধ্যমে প্রথম বামহাতে ও পরে ডান হাতে ডোডকী করে পরে একই সাথে খাসিডাসী করে এর পর ছোটকী করতে হবে। ছোটকী করতে আগে খাসিডাসী পজিশন থেকেই করতে হবে। খাসিডাসী ডানটি ডান হাটুর উপরে ব্লক অবস্থায় ছিল সেই সাথে বাম হাতটি ছিল মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম কোমড়ে।

এবার মুষ্টিবদ্ধ বাম হাতটি চলে যাবে পেটের সামনে ব্লক অবস্থায় এবং ডান হাতটি মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ডান কোমড়ে চলে যাবে। আর ছোটকী করার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীকে হোইচ শব্দের মাধ্যমে ছোটকী করতে হবে। এবার পেট বরাবর মুষ্টিবদ্ধ বাম হাতের কনুই থাকবে সোজা নিচের দিকে আর মুষ্টিবদ্ধ আঙ্গুলগুলোর অংশ পেটের বরাবর সোজা অবস্থায় ঠিক চোয়ালের নিচে অবস্থান করবে। এবার বাম হাতটি চলে যাবে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম কোমড়ে আর ডার হাতে ছোটকী করতে হবে হোইচ শব্দের মাধ্যমে । ঠিক একই কায়দায় বাম হাতে যেভাবে ছোটকী করা হয়েছিল ডান হাতেও ঠিক একই ভাবে ছোটকী করতে হবে। বাম হাতে ছোটকী করার সময় ডান হাত ছিল কোমড়ে। বাম হাতটি ছিল মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় সোজা বুক বরাবর। এবার ডান হাতে হোইস শব্দের মাধ্যমে ছোটকী করতে হবে এবং বাম হাতটি মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম কোমড়ে থাকবে। এবার ডান হাতটি সোজা বুক বরাবর থাকবে এবং কনুইর নিচে দিকে থাকবে এবং মুষ্টিবদ্ধ হাতটি যেদিকে আঙ্গুল রয়েছে সেটা বুক বরাবর সোজা থাকবে। এভাবে একবার বাম হাতে ও আরেক বার ডান হাতে ছোটকী করে নিলে ভালো হয়। এভাবে হাত বদল করে একাধিকবার ছোটকী করা যেতে পারে। তবে শিক্ষার্থীকে মনে রাখতে হবে আচমকা অর্থাৎ ব্লক হলো কারাতে প্রশিক্ষণের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ লেসন। আর এ লেসনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে আরো কৌশলী করে গড়ে তুলতে পারবে। তবে একসাথে সবগুলো ব্লক, অর্থাৎ ডোডকী খাসিডাসী এবং ছোটকী করে নেয়াটাই ভালো ছোটকী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শত্রুর কাছ থেকে নিজেকে রক্ষার করার কৌশল রপ্ত করতে পারবে। আর এ ছোটকী প্রশিক্ষণে হাতের পেশি শক্তি যেমন বৃদ্ধি করে অন্য দিকে প্রতিপক্ষ যদি ছুরি কিংবা ঘুসি দ্বারা পেটে কিংবা বুকে আঘাত করে সে ক্ষেত্রে এ ছোটকী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শত্রুর কাছ থেকে নিজেকে অতি সহজে রক্ষা করে পাল্টা আক্রমণ করার সুযোগ মেলে। কারাতে প্রশিক্ষণে প্রতিটি মারই এক একটি কৌশল। তাই যদি কোনো শিক্ষার্থী নিষ্ঠার সাথে এ লেসনগুলো আয়ত্ব করে ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন বা চর্চা করে তাহলে একসময় সে যেমন হয়ে ওঠবে সুঠাম দেহের অধিকারী সেই সাথে সে হবে আত্মপ্রত্যয়ী, সুস্থ সবল ও স্বাবলম্বী। বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বিশ্ব জুড়ে এ কারাতে খেলাটি। কারাতে হলো একটি শিল্প, কৌশল, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ বা আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার একটি উপায়।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ (কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) সভাপতি শারীরিক
শিক্ষাবিদ সমিতি,চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট