ইতিহাসের প্রথম শিক্ষিত বিজ্ঞানী নবী হযরত ইদ্রিস (আ.)

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
আল্লাহ তা’য়ালা যুগে যুগে সত্য দ্বীনসহ অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। যাদের প্রেরণের মূল লক্ষ্যই ছিলো এ জমিনে তাঁর ইবাদাত তথা দাসত্ব মানুষ শিখানো। মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় জুলুম অত্যাচার থেকে ফিরিয়ে সঠিক জীবন দর্শন দেখানো। তাই প্রত্যেক নবি-রাসূলই আল্লাহ তা’য়ালা এ মিশন বাস্তবায়নে নিজেদের এবং উম্মতের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ কামণায় দোয়া করেছেন। আল্লাহ তা’য়ালা পৃথিবীর বুকে অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছে। কোরানে বর্ণিত ২৫ জন নবী-রাসূলের মধ্যে হযরত ইদ্রিস (আ.) অন্যতম।
ইদ্রিস যিনি মুসলমানদের নিকট হযরত ইদ্রিস (আ.) নামে পরিচিত,ইসলামী ইতিহাস অনুসারে মানবজাতির উদ্দেশ্যে প্রেরিত তৃতীয় নবী। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুসারে তিনি ইসলামের প্রথম নবী আদমের পর স্রষ্টার নিকট হতে নবীত্ব লাভ করেন। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে তিনি ইরাকের বাবেলে জন্মগ্রহণ করেন। আবার কারো মতে তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। ধারণা করা হয় বাইবেলে উল্লেখিত হনোক ব্যক্তিটি তিনিই।

ইসলামি ভাষ্যমতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ মিরাজের রাতে চতুর্থ আসমানে ইদ্রিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ধারণা করা হয় তিনিই সর্বপ্রথম কলম এবং কাপড় সেলাই করার বিদ্যা আবিষ্কার করেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান,অঙ্কশাস্ত্র এবং অস্ত্রের ব্যবহারও তিনিই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। ইদ্রিস (আ.) এর নাম ও বংশ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে বিরাট মতভেদ আছে। বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে ইসহাকের মতে, তিনি হলেন ইসলামের নবী নূহ এর দাদা। তাঁর আসল নাম হলো আখনূখ। ইদ্রিস তাঁর উপাধি। কিংবা আরবি ভাষায় তাঁর নাম ইদ্রিস আর হিব্রু ও সুরইয়ানী ভাষায় তাঁর নাম হলো আখনূখ। ইবনে ইসহাক তাঁর বংশধারা বর্ণনা করেন আখনূখ (ইদ্রিস) ইবনে ইয়ারুদ ইবনে মাহলাইল। এভাবে তাঁর বংশধারা আদম এর পুত্র শীষ এর সাথে মিলিত হয়। আরেকদল ঐতিহাসিকের মতে,হযরত ইদ্রিস ইসরাইল বংশীয় নবী। আর ইদ্রিস (আ.)ও ইলয়াস একই ব্যক্তির নাম ও উপাধি।

তাঁর জীবন সম্পর্কে যতোটুকু জানা যায়,তা হলো-ছোট বয়সে তিনি দ্বিতীয় নবি শীষ এর ছাত্র ছিলেন। বড় হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে নবুয়ত দান করেন। তখন তিনি আদম এর ওপরে অবতীর্ণ শরীয়ত ত্যাগ করতে মন্দলোকদের নিষেধ করেন। অল্পকিছু লোক তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সৎপথে ফিরে আসলো। আর অধিকাংশ মানুষই তাঁর বিরোধিতা করলো। তাই তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দেশ ছেড়ে যেতে মনস্থ করলেন কিন্তু তাঁর অনুসারীরা মাতৃভূমি ছাড়েতে গড়িমসি করে বললো, বাবেলের মতো দেশ ছেড়ে গেলে এমন দেশ আর কোথায় পাব? উত্তরে তিনি বললেন,যদি আমরা আল্লাহর জন্য হিজরত করি তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে এরচে’ উত্তম প্রতিদান দেবেন। এরপর তিনি নিজের অনুসারীদেরসহ দেশ ছেড়ে রওয়ানা হলেন এবং একসময় মিশরের নীলনদের তীরে এসে পৌঁছলেন। এ জায়গা দেখে তারা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং এখানেই বসবাস করতে লাগলেন। তিনি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধে ব্রতি হন। কথিত আছে, তাঁর যুগে ৭২টি ভাষা ছিলো এবং এর সবকটি ভাষাই পারতেন।

পবিত্র কোরআনে শুধু দুই জায়গাতে ইদ্রিস এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা মারইয়াম এবং সূরা আম্বিয়াতে। এ সকল জায়গায় তাঁর সম্পর্কে কোরআনের ভাষ্য হলো-“আর এই কিতাবে ইদ্রিসের কথা আলোচনা করুন,তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম এবং ইসমাঈল,ইদ্রিস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করুন,তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী। আমি তাঁদেরকে আমার রহমাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। তাঁরা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ। আল্লাহ বলেন,‘তুমি এই কিতাবে ইদরীসের কথা আলোচনাকর। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী’। ‘আমরাতাকে উচ্চমর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম’ (মারিয়াম১৯/৫৬-৫৭)।

ইদ্রিস (আ.)-এর পরিচয়:তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত নবী। তাঁর নামে বহু উপকথা তাফসীরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যেকারণে জনসাধারণ্যে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। হযরত ইদরীস (আঃ) হযরত নূহ (আ.)-এর পূর্বের নবী ছিলেন, না পরের নবী ছিলেন এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ছাহাবীর মতে তিনি নূহ (আ.)-এর পরের নবী ছিলেন। সূরা মারিয়ামে হযরত ইবরাহীম,ইসমাঈল, ইসহাক্ব, ইয়াকূব,হারূণ, মূসা,যাকারিয়া, ইয়াহ্ইয়া, ঈসা ইবনে মারিয়াম ও ইদ্রিস (আ.)-এর আলোচনা শেষে আল্লাহ বলেন,‘এঁরাই হলেন সেই সকল নবী,যাদেরকে নবীগণের মধ্য হতে আল্লাহ বিশেষভাবে অনুগৃহীত করেছেন।এঁরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধর এবং ইব্রাহিম ও ইসরাঈল (ইয়াকূব)-এর বংশধর এবং যাদেরকে আমি (ইসলামের) সুপথ প্রদর্শন করেছি ও (ঈমানেরজন্য) মনোনীত করেছি তাদের বংশধর। তাদেরকাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াত সমূহ পাঠ করা হতো,তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত ও ক্রন্দন করত’(মারিয়াম১৯/৫৮)।

অত্র আয়াতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে,হযরত ইদ্রিস (আ) হযরত নূহ (আ.)-এর পরের নবী ছিলেন।তবে নূহ ও ইদ্রিস হযরত আদম (আ.)-এর নিকটবর্তী নবী ছিলেন,যেমন ইব্রাহিম (আ.)হযরত নূহ (আ.)-এর নিকটবর্তী এবং ইসমাঈল,ইসহাক্ব ও ইয়াকূব হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নিকটবর্তীনবী ছিলেন। নূহ পরবর্তী সকল মানুষ হলেন নূহের বংশধর। উল্লেখ্য যে,হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস, কা‘ব আল-আহবার, সুদ্দী প্রমুখের বরাতে হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর জান্নাত দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফেরেশতার মাধ্যমে সশরীরে আসমানে উত্থান ও৪র্থ আসমানে মালাকুল মাউত কর্তৃক তাঁর জান কবয করা, অতঃপর সেখানেই অবস্থান করা ইত্যাদি বিষয়ে যেসব বর্ণনা তাফসীরের কিতাব সমূহে দেখতে পাওয়া যায়, তার সবই ভিত্তিহীন ইস্রাঈলিয়াত মাত্র। উল্লেখ্য যে,পবিত্র কোরআনে হযরত ইদ্রিস (আ.) সম্পর্কে সূরা মারিয়াম ৫৬, ৫৭ এবং সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতে বর্ণিতহয়েছে। কুরতুবী বলেন, হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর নাম‘আখনূখ’ ছিলো এবং তিনি হযরত নূহ (আ)-এর পরদাদা ছিলেন বলে বংশবিশারদগণ যে কথা বলেছেন, তা ধারণা মাত্র। এমনিভাবে অন্যান্য নবীদের যে দীর্ঘ বংশধারা সাধারণতঃ বর্ণনা করা হয়ে থাকে, সেসবের কোন সঠিক ভিত্তি নেই। এসবের প্রকৃত ইল্ম কেবলমাত্র আল্লাহর নিকটে রয়েছে। হযরত ইদ্রিস (আ.)-কে ৩০টি ছহীফা প্রদান করা হয়েছিল বলে হযরত আবু যর গেফারী (রা.) থেকে ইবনু হিববানে (নং ৩৬১)যে বর্ণনা এসেছে, তার সনদ যঈফ। কুরতুবী বলেন, তিনি যে নূহের পূর্বেকার নবী ছিলেন না,তার বড় প্রমাণ হলো এই যে, মি‘রাজে যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ১ম আসমানে আদম (আ.)-এর সাক্ষাৎ হয়, তখন তিনি রাসূলকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন,‘নেককার সন্তান ও নেককারনবীর জন্য সাদর সম্ভাষণ’। অতঃপর ৪র্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি রাসূলকে বলেন,‘নেককার ভাই ও নেককার নবীর জন্য সাদরসম্ভাষণ’। ক্বাযী আয়ায বলেন, যদি ইদরীস (আ.)নূহ (আ.)-এর পূর্বেকার নবী হতেন, তাহলে তিনি শেষনবী (সা.)-কে ‘নেককার ভাই’ না বলে‘নেককার সন্তান’ বলে সম্ভাষণ জানাতেন। যেমন আদম, নূহ ও ইব্রাহিম বলেছিলেন। তিনি বলেন,নূহ ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত প্রথম রাসূল। যেমন শেষনবী ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত শেষ রাসূল। আর ইদ্রিস (আ.)ছিলেন স্বীয় কওমের প্রতি প্রেরিত নবী। যেমন ছিলেন হূদ,সালেহ প্রমুখ নবী’।উল্লেখ্য যে, এখানে আদম,নূহ ও ইব্রাহিমকে ‘পিতা’ হিসাবে খাছ করার কারণ এই যে,আদম হলেন মানবজাতির আদি পিতা। নূহ হলেন মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা এবং ইব্রাহিম হলেন তাঁরপরবর্তী সকল নবীর পিতা ‘আবুল আম্বিয়া’। বর্ণিত হয়েছে যে,হযরত ইদ্রিস (আ.)হলেন প্রথম মানব, যাঁকে মু‘জেযা হিসাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অংক বিজ্ঞান দান করা হয়েছিলো। তিনিই সর্বপ্রথম মানব,যিনি আল্লাহর ইলহাম মতে কলমের সাহায্যে লিখনপদ্ধতি ও বস্ত্র সেলাই শিল্পের সূচনা করেন। তাঁরপূর্বে মানুষ সাধারণতঃ পোশাক হিসাবেজীবজন্তুর চামড়া ব্যবহার করত। ওযন ও পরিমাপের পদ্ধতি তিনিই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন এবং লোহা দ্বারা অস্ত্র-শস্ত্র তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার ও তারব্যবহার তাঁর আমল থেকেই শুরু হয়। তিনি অস্ত্রনির্মাণ করে ক্বাবীল গোত্রের বিরুদ্ধে জেহাদ করেন।

পহেলা মহররম ইতিহাসে ঘটেছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যেমন,হযরত ইদ্রিস নবীর (আ.) জান্নাত গমন, হযরত যাকারিয়া (আ)’র দোয়া কবুল হওয়া,মক্কায় কাফের নেতাদের পক্ষ থেকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরোধ আরোপের মত কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ ছাড়াও এই দিনে সব ঘটনাকে ম্লান করে দেয়া ঘটনার মহানায়ক তথা কারবালার কালজয়ী মহাবিপ্লবের মহান নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর কাফেলা ও সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন এ বিপ্লবের অকুস্থল তথা কারবালা প্রান্তরের দিকে যদিও তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো কুফা শহরে পৌঁছা। আজ হতে কয়েক হাজার বছর আগে এমন দিনে (পহেলা মহররম) হযরত ইদ্রিস (আ.)-কে বেহেশতে উঠিয়ে নেন মহান আল্লাহ। মানুষকে একত্ববাদের দিকে ফিরিয়ে আনার মিশন সফল হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিলো বহু খোদার উপাসনা ও অগ্নি-পূজা। কেউ কেউ মনে করেন হযরত ইদ্রিস (আ.) মৃত্যু বরণ করেননি এবং তিনি জীবিত অবস্থাতেই বেহেশতবাসী হন। বলা হয় তিনি জীবিত অবস্থায় বেহেশত সফরের সুযোগ পাওয়ার পর সেখান থেকে আর ফিরতে চাননি। আর মহান আল্লাহ তাঁর ওই ইচ্ছা পূরণ করেন।

হযরত ইদ্রিস (আ.) উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এক নবী। সত্যবাদী, বিনয়ী, কোমল ও উন্নত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন হযরত ইদ্রিস (আ.)। আল্লাহ তা’য়ালা সর্বযুগে সব জাতির কাছে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি জাতির জন্য পথ-প্রদর্শনকারী রয়েছে।’ (সুরা : আর রাদ, আয়াত : ১৩) অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘আমি রাসুল প্রেরণ না করে কাউকে শাস্তি দিই না।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ১৬৫) সব নবী-রাসুলের কোনো না কোনো পেশা ছিলো। তাঁরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতেন না বরং স্বীয় হস্তে অর্জিত জিনিস ভক্ষণ করাকে পছন্দ করতেন। মহানবী (সা.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো,কোন ধরনের উপার্জন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, ব্যক্তির নিজ হাতে কাজ করা এবং সৎ ব্যবসা। (সুয়ুতি আদদুররুল মানসুর,খন্ড ৬,পৃষ্ঠা ২২০) প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘হালাল রুজি অর্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

ইদরিস (আ.)-এর পেশা ছিলো কাপড় সেলাই করা। কাপড় সেলাই করে যে অর্থ উপার্জন করতেন,তা দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইদ্রিস শব্দটি দিরাসা শব্দ থেকে নির্গত। তিনি বেশি পরিমাণে সহিফা পাঠ করতেন বলে তাঁকে ইদরিস বলা হয়। পড়াশোনার প্রথা তাঁর সময় থেকে চালু হয়। একদল পন্ডিত মনে করেন, হিকমত ও জ্যোতির্বিদ্যার জন্ম ইদ্রিস (আ.)-এর সময়ই হয়েছিল।নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহ তা’য়ালা তাঁকে নৌকা তৈরির কলাকৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা তৈরি করেছিলেন। আল্লাহর বাণী—‘আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৩৭) তিনি ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত প্রস্থ, ৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন। হুদ (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তাঁর পেশা ছিল ব্যবসা ও পশু পালন। ব্যবসা ও পশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। সালেহ (আ.)-এর পেশাও ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলো। এতে প্রতীয়মান হয় যে তিনিও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতেন চাষাবাদের মাধ্যমে। ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনো ব্যবসা, আবার কখনো পশু পালন করতেন। ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন। তিনি ও তাঁর পিতা উভয়ই ছিলেন রাজমিস্ত্রি। পিতা-পুত্র মিলে আল্লাহর ঘর তৈরি করেছিলেন। ইয়াকুব (আ.)-এর পেশা ছিলো ব্যবসা, কৃষিকাজ করা ও পশু পালন। ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেতন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অর্থ গ্রহণ করতেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতা দান করেছেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০১) শোয়াইব (আ.)-এর পেশা ছিলো পশু পালন ও দুধ বিক্রি। পশু পালন ও দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর কন্যারা চারণ ভূমিতে পশু চরাতেন। দাউদ (আ.) ছিলেন রাজা ও নবী। সহিহ বুখারির ব্যবসা অধ্যায়ে রয়েছে যে দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, হে আল্লাহ! এমন একটি উপায় আমার জন্য বের করে দিন, যেন আমি নিজ হাতে উপার্জন করতে পারি। অতঃপর তাঁর দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে লোহা দ্বারা বর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার কৌশল শিক্ষা দেন। শক্ত ও কঠিন লোহা স্পর্শ করলে তা নরম হয়ে যেত। যুদ্ধাস্ত্র, লৌহ বর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করা ছিলো তাঁর পেশা। এগুলো বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। সোলায়মান (আ.) ছিলেন সমগ্র পৃথিবীর শাসক ও নবী। তিনি তাঁর পিতা থেকে অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। তিনি নিজেও অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন। ভিন্ন পেশা গ্রহণ করার চেয়ে নিজ সম্পদ রক্ষা ও তদারকি করাই ছিল তাঁর প্রদান দায়িত্ব। মানব-দানব,পশু-পাখি,বাতাস ইত্যাদির ওপর তাঁর কর্তৃত্ব ছিল। তাঁর সাথি ঈসা ইবনে বরখিয়া চোখের পলক ফেলার আগে বিলকিসের সিংহাসন সোলায়মান (আ.)-এর সামনে এনে হাজির করেন। মুসা (আ.) ছিলেন একজন রাখাল। তিনি শ্বশুরালয়ে মাদায়েনে পশু চরাতেন। সিনাই পর্বতের পাদদেশে বিরাট চারণভূমি মাদায়েনের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। লোকজন সেখানে পশু চরাত। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মুসা (আ.)। আট বছর তিনি স্বীয় শ্বশুর শোয়াইব (আ.)-এর পশু চরিয়েছেন। হারুন (আ.)-এর পেশাও ছিল পশু পালন। পশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইলিয়াস (আ.)-এর পেশাও ছিলো ব্যবসা ও পশু পালন। আইউব (আ.)-এর পেশা ছিলো গবাদি পশু পালন। তাঁর প্রথম পরীক্ষাটি ছিল গবাদি পশুর ওপর। ডাকাতরা তাঁর পশুগুলো লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। (আনওয়ারে আম্বিয়া,ই.ফা.বাংলাদেশ) ইউনুস (আ.)-এর গোত্রের পেশা ছিলো চাষাবাদ। সুতরাং কারো কারো মতে, তাঁর পেশাও ছিলো চাষাবাদ। যাকারিয়া (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে মহানবী (সা.) বলেছেন, জাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাই তাঁর শত্রুরা তাঁর করাত দিয়েই তাঁকে দ্বিখন্ডিত করে। (সহিহ বুখারি) ইয়াহইয়া (আ.) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে তিনি জীবনের একটি সময় জঙ্গলে ও জনহীন স্থানে কাটিয়েছিলেন। আহার হিসেবে তিনি বৃক্ষের লতাপাতা ভক্ষণ করতেন। (আনওয়ারে আম্বিয়া) জুলকিফল (আ.)-এর পেশা ছিলো পশু পালন। ইয়াসা (আ.)-এর পেশা ছিলো ব্যবসা ও পশু পালন। ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর আবাসস্থল প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেন,‘আমি তাদের উভয়কে এক উচ্চ ভূমি প্রদান করেছিলাম, যা সুজলা ও বাসযোগ্য ছিলো।’ (সুরা :আল মুমিনুন,আয়াত : ৫০)

ইদ্রিস (আ.) আল্লাহর প্রেরিত একজন নবী। পৃথিবীর ও মানবেতিহাসের প্রথম সহস্রাব্দে তাঁর আগমন। আদম (আ.)-এর ইন্তেকালের ৩৮০ বছর পর ইরাকের প্রাচীন নগরের বাবেল শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে ইসহাকের মতে,‘তিনি নবী হযরত নূহ (আ.)-এর দাদা।’ হযরত আদম (আ.)-এর পর তিনিই প্রথম নবী ও রাসুল,যার প্রতি আল্লাহ তা’য়ালা ৩০টি সহিফা (ছোট কিতাব) নাজিল করেন। ইদ্রিস (আ.)-এর মূল নাম ‘আখনুখ’। ইদ্রিস তাঁর উপাধি। এটি আরবি দারসুন শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ শিক্ষা-শিক্ষকতায় ব্যস্ত ব্যক্তি। যেহেতু তিনি বহুবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন, তাই তাকে ইদ্রিস বা বিদ্যাবিশারদ বলা হয়।

ইদ্রিস (আ.) মানুষকে এক আল্লাহ ও সত্য ধর্মের প্রতি আহ্বান করতেন। মানুষের হৃদয় গভীরে বিশ^াসের ডাঁটো পাজড় গড়তে বলতেন। তিনি সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে দিবানিশি মানুষকে সত্যের প্রতি ডাকতেন। তখনকার সময়ের সব মানুষ তাঁর কথা শুনেনি। যারা শুনেছেন, তাঁরা হৃদয় মিনারে গেঁথেছিলেন সত্যকে। সত্যের কাছে তাঁরা ছিলেন আপসহীন।পৃথিবীর চিরায়িত নিয়মানুযায়ী তখন শুরু হয় সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব। আরম্ভ হয় সত্য-মিথ্যার লড়াই। তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘এই কিতাবে ইদ্রিসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আমি তাঁকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।’ (সুরা মারিয়ম : ৫৬-৫৭)

সংখ্যাগরিষ্ঠ মিথ্যাবলম্বনকারী অবিশ^াসী সম্প্রদায় বিশ^াসী ইদ্রিস (আ.) ও তাঁর সহকর্মীদের ওপর অত্যাচারী হয়ে ওঠে এবং নির্যাতন শুরু করে। তখন আল্লাহ তাকে হিজরতের প্রত্যাদেশ করেন। তিনি ইরাক থেকে হিজরত করে মিসরে নীল নদের তীরে চলে আসেন। তিনিই সর্বপ্রথম নবী,যিনি নিজ ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র হিজরত করেন। ইদ্রিস (আ.)-এর মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে সভ্যতা, সংস্কৃতি ও অনেক বিজ্ঞানসম্মত কাজের আবিষ্কার ও সূচনা হয়। তিনি একাধারে বিজ্ঞানী,সফল রাষ্ট্র পরিচালক,কর্মবীর কর্মশিল্পী ছিলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইদ্রিস (আ.) : আল্লাহর নির্দেশে তিনি হিজরত করে নীল নদের তীরে আসেন। সেখানে এক খোদাতে বিশ^াসী মানুষদের নিয়ে বসতি স্থাপন করেন। ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে সাম্রাজ্যও। কাফেরদেরকে এক আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দেন। যারা শুনেনি,তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন শান্তি রক্ষার জন্য। প্রায় যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হন। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক খোদায় বিশ^াসী সভ্যতা। সমাজ পূর্ণতা পায় বিশ^াসী মানুষের বসবাসে। তখন তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের সুষ্ঠু,সুন্দর পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো গঠন করেন। তৈরি করেন রাষ্ট্রীয় নীতিমালা। তিনি বিভিন্ন দল ও সম্প্রদায়ের জন্য তাদের অবস্থা অনুযায়ী আইনকানুন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। ভূমণ্ডলকে চারভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক ভাগে একজন করে গভর্নর নিযুক্ত করেন। তাঁরাই ছিলো ওই ভূখণ্ডের শাসক ও দায়িত্বশীল।

চিকিৎসা শাস্ত্রে অবদান : হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর মাধ্যমে পৃথিবীতে চিকিৎসা শাস্ত্র একটি অবকাঠামোর রূপ পায়। এর পূর্বে চিকিৎসা শাস্ত্রের নির্ধারিত নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা ছিলো না। মানুষ তাদের ইচ্ছামতো অসুস্থতার নিয়ামক খুঁজে নিত। ঘরোয়াভাবে চিকিৎসা চলতো। ইতিহাসবিদ আল-কিফতি তাঁর ‘তারিখুল হুকামাত’-এ লিখেছেন,‘হযরত ইদ্রিস (আ.) হলেন প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানী। এ বিষয়ে তাঁর কাছে আসমান থেকে অহি আসত।’ (মুহাম্মদ নূরুল আমীন লিখিত বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান,পৃষ্ঠা : ৫৪)
লিখনপদ্ধতি : মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে লিখন পদ্ধতির মাধ্যমে। সভ্যতা আর সংস্কৃতির সন্ধান মিলেছে এর মাধ্যমে। পৃথিবীর গত হওয়া ইতিহাস, হারিয়ে যাওয়া দিনের খোঁজ জানা গেছে এই লিখন পদ্ধতির মাধ্যমে। হযরত ইদ্রিস (আ.) প্রথম মানব, যিনি আল্লাহর ইলহাম মতে কলমের সাহায্যে লিখন পদ্ধতির কাজ শুরু করেন। এর পূর্বে কলমের ব্যবহার হয়নি। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন,পৃষ্ঠা : ৮৩৮)

সকল বিজ্ঞানের সূত্রপাত অংক শাস্ত্র হতে আরম্ভ হয়। আদি যুগ থেকে মানুষের প্রয়োজনে অঙ্ক শাস্ত্রের সূচনা হয়। ধারণা করা হয়,সৃষ্টির সকাল থেকেই অঙ্ক শাস্ত্রের আবিষ্কার। আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমেও গণনা সংখ্যার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। আদিম যুগের কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করছিলে? তারা বলবে, আমরা অবস্থান করেছিলাম এক দিন বা এক দিনের কিছু অংশ; আপনি না হয় গণনাকারীদের জিজ্ঞাসা করুন। তিনি বলবেন, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলো,যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা:মুমিন-১১২-১১৪)

বস্ত্র সেলাই শিল্প : সৃষ্টির শুরুতে গাছের লতাপাতা ছিল মানুষের পোশাক। গাছের পাতা, গাছের কাণ্ডের বাকল দিয়ে মানুষ তাদের ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত করত। অনেকে জীব-জন্তুর চামড়া দিয়ে তৈরিকৃত সেলাইবিহীন পোশাক পরিধান করত। আজকের পৃথিবীর মানুষদের মতো তখনকার মানুষদের কোনো পোশাক ছিল না । কেউ সেলাই করে কাপড় পরিধান করত না। সেলাইবিহীন ছিল তাদের পোশাক। পৃথিবীর শহরে হযরত ইদ্রিস (আ.) প্রথম সেলাই করা কাপড় পরিধান করেন। তিনি নিজেই নিজের কাপড় সেলাই করতেন। তিনি ছিলেন জগতের প্রথম দর্জি। তিনি মানুষের কাপড়ও সেলাই করতেন ও শেখাতেন। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন : ৮৩৮) লোহা দ্বারা অস্ত্র : লোহা দ্বারা অস্ত্রশস্ত্র তৈরির পদ্ধতি তিনিই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। বিভিন্ন কাজের জন্য লোহার ব্যবহার তাঁর আমল থেকেই শুরু হয়। মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজের সহজলভ্যতার জন্য ব্যবহার করা হতো লোহানির্মিত অস্ত্র। তাঁর তৈরিকৃত অস্ত্রের সাহায্যে কাবিল গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং তিনি বিজয় লাভ করেন।

ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতি : মানুষের জীবন চলাচলে অতি গুরুত্বপূর্ণ ওজন ও পরিমাপ। মানুষের পরস্পরের লেনদেন,বস্তু আদান-প্রদান,পণ্য বেচাকেনার জন্য ওজন জরুরি। ওজন ও পরিমাপ ছাড়া মানুষের সভ্যতা,সমাজ-সংস্কৃতি সুন্দরভাবে চলতে পারে না। সঠিক পরিমাণে আদান-প্রদান করতে পারে না তাদের মালপত্র। সৃষ্টির সেই ঊষালগ্নে হযরত ইদ্রিস (আ.) আবিষ্কার করেন ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতি। এ বিষয়ে আল্লাহ তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। আসলে আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলরাই আজকের বিশুদ্ধ উন্নত সভ্যতার আবিষ্কারক। তাঁদের পবিত্র হাতেই নির্মিত হয়েছে সভ্যতার প্রথম ও পরিপূর্ণ ইতিহাস। তাঁরাই পৃথিবীকে দিয়ে গেছেন অভূতপূর্ব উপহার।

হযরত ইদ্রিস (আ.) এর বয়স সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইদ্রিস (আ.) ৩৬৫ বছর জীবিত থাকেন। তবে আরেক বর্ণনানুযায়ী তিনি ৮২ বছর জীবিত থাকেন। তাঁর মৃত্যুবরণ করা সম্পর্কেও মতভিন্নতা রয়েছে। কারো কারো মতে তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। হযরত ইদ্রিস (আ.) সমাধি বা কবরস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। কিছু লোক বিশ্বাস করে যে নবী ইদ্রিস (আ.) কায়রোর কাছে গিজার প্লেটোর উপর বড় পিরামিডের সমাহিত হয়েছেন। আরেকটি দাবি হল যে এটি ইরানের কিরকুতে অবস্থিত বাগদাদের শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বরং আল্লাহ তাঁকে চতুর্থ আসমানে তুলে নিয়েছেন তবে বেহেস্তে থেকে যাওয়ার কাহিনীগুলো ইসরাঈলী বর্ণনা।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক, গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট