ইসলামী স্বর্ণযুগের নবী হযরত হারুন (আ.)

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
আল্লাহ তা’য়ালা যুগে যুগে সত্য দ্বীনসহ অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন।যাদের প্রেরণের মূল লক্ষ্যই ছিলো এ জমিনে তাঁর ইবাদাত তথা দাসত্ব মানুষ শিখানো। মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় জুলুম অত্যাচার থেকে ফিরিয়ে সঠিক জীবন দর্শন দেখানো।তাই প্রত্যেক নবি-রাসূলই আল্লাহ তা’য়ালা এ মিশন বাস্তবায়নে নিজেদের এবং উম্মতের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ কামণায় দোয়া করেছেন। আল্লাহ তা’য়ালা পৃথিবীর বুকে অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছে। কোরানে বর্ণিত ২৫ জন নবী-রাসূলের একজন হলো হযরত হারুন (আ.)।

হযরত হারুন (আ.) ইসলাম,ইহুদিধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম অনুসারে একজন নবী। ইসলামের ধর্মগ্রন্থ কোরআন ও হাদিসে তাঁর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে,তিনি মুসার সহযোগী হিসেবে ফেরাউনের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। জর্ডানের পেত্রার কাছে তাঁর সমাধি রয়েছে বলে মনে করা হয়। হারুন প্রাচীন মিশরে বনী-ইসরাইল বংশের ইমরানের গৃহে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইয়াকুবের বংশধরদের একজন। তাঁর ভাই হযরত মুসা (আ.)ও একজন নবী ছিলেন।

কোরআনে ২০ বার হযরত হারুন (আ.) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নাম উল্লেখ ব্যতীতও বহুবার তার কথা বলা হয়েছে।এতে বলা হয়েছে যে তিনি ইব্রাহিম (আ.) এর বংশধর ছিলেন। তিনি ও মূসা উভয়কেই আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ফেরাউনকে সতর্ক করতে একসাথে প্রেরণ করা হয়েছিলো। এর আগে মুসা তার হাতকে আরো শক্তিশালী করার জন্য হারুনকে তার সাথে নবুয়তের দায়িত্ব দিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং আল্লাহ এ আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। বক্তৃতা ও আলোচনার ক্ষেত্রে হারুন বেশ বাকপটু ছিলেন। কোরআনে আরও বলা হয়েছে যে,হযরত মুসা এবং হারুন উভয়কেই মিশরে বনী-ইসরাইলীদের বাসস্থান স্থাপন করার এবং সেই ঘরগুলোকে আল্লাহর ইবাদতের স্থানে রূপান্তর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো।অতঃপর আমি মূসা ও হারুনকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরআউন ও তার অমাত্যদের কাছে প্রেরণ করেছিলাম; কিন্তু তারা অহংকার করেছিলো এবং তারা ছিলো উদ্ধত সম্প্রদায়।

হারুনকে কোরআনে “স্পষ্ট কর্তৃত্ববান” ব্যক্তি এবং “সঠিক পথে পরিচালিত”ব্যক্তি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে যে হারুনের স্মৃতি তার পরে আসা লোকদের জন্য আদর্শ এবং তিনি ও তার ভাই ছিলেন আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত। সূরা মারইয়ামে বলা হয়েছে যে, লোকেরা ঈসার মা মারিয়ামকে “হারুনের বোন” বলে সম্বোধন করত তবে,এই “হারুন” (আ.)কে ছিলেন,তা নিয়ে মুসলিম পন্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এখানে মুসার ভাই হারুনের কথাই বলা হয়েছে এবং “বোন” শব্দটি রূপক অর্থে অথবা তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে, যেহেতু তিনি হারুনের নবুয়তের উত্তরসূরি ছিলেন। আবার অনেকে মনে করেন, সে সময় “হারুন” নামে আরেকজন ধার্মিক ব্যক্তি জীবিত ছিলেন।অধিকাংশ পন্ডিত প্রথম মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং হারুনেরর আসল বোনের সাথে মারিয়ামের আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপন করেছেন,যার নাম ছিলো মিরিয়াম যার সাথে তিনি বহুভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। কয়েকশত বছর পর বনী-ইসরাইলীদের কাছে যে তালুত এর সিন্দুক এসেছিলো,তাতে মূসা (আ.) ও হারুন (আ.) তাদের পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন ছিলো বলে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত হারুন (আ.) আল্লাহর একজন নবী। হযরত মুসা কালিমুল্লাহ (আ.) এর বড় ভাই। তিন বছরের বড় তিনি মুসার চেয়ে। আল্লাহ যখন হযরত মুসা (আ.)কে রাসুল নিয়োগ করেন,তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন তিনি যেনো তাঁর ভাই হারুনকেও নবী নিয়োগ করে তাঁর হাত শক্ত করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং হারুন (আ.)কে মুসা (আ.) এর সহযোগী নবী নিয়োগ করেন। হযরত হারুন (আ.) ছিলেন বনী ইসরাইলদের শ্রেষ্ঠ নবীদের একজন। তিনি ছিলেন সুবক্তা। মহান আল্লাহ বলেন,“আমি মূসা ও হারুনের প্রতি অনুগ্রহ করেছি। তাঁদের উভয়কে আমি উদ্ধার করেছি মহাকষ্ট থেকে। আমি তাঁদের সাহায্য করেছি। ফলে তারা বিজয়ী হয়েছে।তাঁদের আমি সঠিক পথ দেখিয়েছি।তাঁদের উভয়কে আমি সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছি। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁদের উভয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছি। মুসা ও হারুনের প্রতি বর্ষিত হোক সালাম। এভাবেই আমি উপকারী লোকদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আসলে ওরা দু’জনেই ছিলো আমার প্রতি বিশ্বস্ত ।” (সূরা আস সাফফাত,আয়াত ১১৪-১২২)।

আল্লাহ বলেন,‘আর নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারুনকে নবী বানিয়ে তাকে সাহায্যকারী বানিয়ে দিলাম’। (সুরা :মারিয়াম, আয়াত : ৫৩)। হযরত মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে চেয়েছিলেন তাঁর ভাই হারুনকে যেনো তাঁর সহকর্মী হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং তিনি যাতে তাঁর ঐশী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং হারুন (আ.) নবী হওয়া সত্ত্বেও সব সময় তাঁর ভাইয়ের সেবা করেছেন। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নবী-রাসুলরা নিজেদের নাম-যশের জন্য নয়, বরং ঐশী দায়িত্ব পালনের জন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করেছেন। যখন মুসা (আ.) তাঁর নির্ধারিত সময় পূর্ণ করার জন্য তুর পাহাড়ে যাওয়ার মনস্থ করলেন তখন তিনি তাঁর ভাই হারুন (আ.)-কে তাঁর অনুপস্থিতিতে বনি ইসরাঈলদের পরিচালনা করার জন্য স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি তাঁকে অসিয়ত করেন হেদায়েত ও সংশোধনের কাজ অব্যাহত রাখার জন্য এবং তিনি ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ থেকে দূরে থাকতে বলেন। এটি ছিলো নিছক সতর্কতা ও উপদেশমূলক কথা, অন্যথায় হারুন (আ.) নিজেও অত্যন্ত সম্মানিত নবী ছিলেন। এতে প্রমাণিত হয়, যেকোনো কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রয়োজনে অন্যত্র গেলে সেই কাজের ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো লোক নিয়োগ করে যাওয়া কর্তব্য। রাসুল (সা.) মদিনার বাইরে গেলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাহাবিকে খলিফা নিযুক্ত করতেন। একবার তিনি আলী (রা.)-কে এবং অন্যবার আবদুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম (রা.)-কে মদিনার খলিফা বানিয়েছেন।

তাফসিরবিদ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হযরত হারুন (আ.) মুসা (আ.) থেকে চার বছরের বড় ছিলেন। মুসা (আ.) মহান আল্লাহর দরবারে এই মর্মে ফরিয়াদ করেছেন,যেন তাঁর ভাইকে নবী মনোনীত করা হয়। বিষয়টি পবিত্র কোরআনেও এসেছে। মুসা (আ.) তাঁর দোয়ায় বলেছেন, ‘(হে আমার রব) আমার জন্য আমার স্বজন থেকে একজন সাহায্যকারী বানিয়ে দাও আমার ভাই হারুনকে। তাঁর মাধ্যমে আমার শক্তি সুদৃঢ় করো। আর তাকে আমার কাজে অংশীদার করো, যাতে আমরা বেশি পরিমাণে তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি। তুমি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’ (সুরা :ত্ব-হা, আয়াত : ২৯-৩৪) মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর এই ফরিয়াদ কবুল করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরের আয়াতে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) বলেন, হে মুসা, তুমি যা চেয়েছ, তা তোমাকে দেওয়া হলো।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ৩৬) তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। বিষয়টি হলো, মুসা (আ.) আল্লাহর নবী ও রাসুল ছিলেন।তাঁর ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল করা হয়েছে। তাঁকে নতুন শরিয়ত দেওয়া হয়েছে; কিন্তু হারুন (আ.) শুধু নবী ছিলেন। তিনি রাসূল ছিলেন না। তাঁর ওপর কোনো কিতাব নাজিল করা হয়নি, বরং তিনি মুসা (আ.)-এর অনুসারী ও সহকর্মী ছিলেন।

কোরআনে বর্ণিত সোনালী বাছুরের ঘটনায় হারুনকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে,মূসা যখন চল্লিশ দিনের জন্য সিনাই পর্বতে অবস্থান করছিলেন,তখন হারুন (আ.)কে বনী-ইসরাইলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। এতে আরো বলা হয়েছে যে, হারুন নয় বরং সামিরি নামক একজন দুষ্ট লোক সোনালী বাছুর তৈরি করেছিলো এবং হারুন সোনালী বাছুরের উপাসনা বন্ধ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন।হযরত মুসা যখন সিনাই পর্বত থেকে ফিরে এসে হারুনকে এই উপাসনা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য তিরস্কার করছিলেন,তখন হারুন তাকে এ ঘটনার জন্য দায়ী মনে না করার অনুরোধ করেন।এরপরে মূসা (আ.) বনী-ইসরাইলের পাপের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি কেবল তার নিজের ও হারুনের উপর ক্ষমতাবান ছিলেন।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ১ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর পাঠিয়েছেন।তাদের মধ্যে ৩১৫ জন ছিলেন রাসুল আর বাকিরা নবী। যারা রাসুল তারা নবীও, আর যারা নবী তারা শুধু নবী। আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম প্রেরিত রাসুল এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ প্রেরিত রাসুল। হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রেরিত হয়েছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য রাসুল হিসেবে বনি ইসমাঈলের কোরাইশ বংশে এবং তাঁর ওপর কোরআন নাজিল হয়েছিলো বিশ্ববাসীর জন্য দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মানুষের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন ও শেষ কিতাব কোরআন নাজিলের পর বিগত সব নবুয়ত এবং কিতাবের হুকুম রহিত হয়ে গেছে।

মুহাম্মাদ তার অনেক বক্তব্যে হারুনের কথা বলেছেন। মিরাজের সময় মুহাম্মাদ পঞ্চম আসমানে হারুনের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন বলে জানা যায়। ইবনে হিশামসহ আগেকার অনেক পন্ডিতদের মতে,হযরত মুহাম্মদ (সা.) হারুনের সাথে তার সাক্ষাতের ঘটনা বলতে গিয়ে তার সৌন্দর্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। মার্টিন লিংগস তার জীবনীমূলক গ্রন্থ মুহাম্মাদে নবীদের স্বর্গীয় মর্যাদায় দেখে মুহাম্মদের বিস্ময়ের কথা উল্লেখ করেছে। ইউসুফ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন যে,তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো দ্যুতি ছড়াচ্ছিল এবং এটি বিদ্যমান সমস্ত সৌন্দর্যের অর্ধেকের চেয়ে বেশি ছিলো। তবুও এটি তাঁর ভাইদের প্রতি মুহাম্মদ (সা.) বিস্ময় হ্রাস করেনি এবং তিনি বিশেষত হারুনের অসাধারণ সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন। মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর এক বক্তব্যে আলীকে হারুনের সাথে তুলনা করেছিলেন। একবার মুহাম্মদ আলীকে তার পরিবারের দেখাশোনা করার জন্য রেখে গিয়েছিলেন; কিন্তু সেই সময়ের ভন্ডরা গুজব ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছিলো যে,আলী নবীর কাছে একটি বোঝার মতো এবং তার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুনে আলী দুঃখ পান এবং স্থানীয় লোকেরা যা বলছিলো তা মুহাম্মদকে জানান। উত্তরে নবী বলেন: “তারা মিথ্যা বলেছে,আমি আমার পিছনে যা রেখে এসেছি তার জন্য তোমাকে থাকতে বলেছি। সুতরাং ফিরে যাও এবং আমার ও তোমার পরিবারে আমার প্রতিনিধিত্ব কর। হে আলী,তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে মুসার কাছে হারুন যেমন ছিলো,আমার কাছে তুমি তেমন। তবে আমার পরে আর কোন নবী নেই।

নবী’ অর্থ সংবাদবাহক,মানে যিনি কোনো সংবাদ বহন করেন। আল্লাহর প্রেরিত সেই। মহামানবকে নবী বলা হয়,যিনি নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে আল্লাহর।একত্ববাদের প্রতি নিঃস্বার্থ আহ্বান জানান। আর রাসূল অর্থ প্রেরিত দূত,বাণীবাহক, সংবাদদাতা, পত্রবাহক ইত্যাদি।আল্লাহর কিতাবসহ প্রেরিত এমন মহামানবকে রাসূল বলা হয়,যিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি আহ্বান জানান। হজরত আদম (আ) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত আল্লাহ অনেক নবী-রাসূলকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। মানুষ যখনই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভুলে বিপথে পরিচালিত হয়েছে,তখনই আল্লাহ নবী-রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। তারা পথভােলা মানুষকে আল্লাহর পথে আসার আহ্বান জানান। কোনো মানুষের ঈমানদার হওয়ার জন্য আলাহ প্রেরিত নবী-রাসূলদের প্রতি আস্থা রাখা ফরজ। আল-কোরআনে পঁচিশজন নবী-রাসূলের পরিচয় ওয়া যায়। এই মহামানবদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ মুসলমান মাত্রই থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে আমাদের সন্তানদের জন্য বিষয়টি বেশি জরুরি।

এখন বিশ্বমানবতাকে পথপ্রদর্শনের জন্য শুধু সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ কোরআনই অবশিষ্ট আছে। ১ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বরের মধ্যে কোরআনে মাত্র ২৫ জন নবী-রাসুলের নাম এসেছে। এর মধ্যে একত্রে ১৭ জনের নাম এসেছে সূরা আনয়ামের ৮৩ থেকে ৮৬ আয়াতে। বাকিদের নাম এসেছে কোরআনের বিভিন্ন স্থানে। শুধু ইউসুফ (আ.) এর কাহিনী সূরা ইউসুফে একত্রে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে লক্ষ্য করে বলেন,’আমরা আপনার আগে এমন অনেক রাসুল পাঠিয়েছি,যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শুনিয়েছি এবং এমন অনেক রাসুল পাঠিয়েছি, যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শুনাইনি।’ (সূরা নিসা : ১৬৪, সূরা মুমিন : ৭৮)। কোরআনে পূর্ববর্তী নবী-রাসুলের কাহিনী বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো,রাসুলুল্লাহ (সা.) যেন নবুয়তের গুরুদায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হতে পারেন এবং তাঁর উম্মত এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আল্লাহ বলেন,’আমি পয়গম্বরদের এসব কাহিনী আপনার কাছে বর্ণনা করার মাধ্যমে আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি। আর এর মধ্যে এসেছে আপনার প্রতি সত্য,উপদেশ ও বিশ্বাসীদের জন্য স্মরণীয় বস্তুগুলো।’ (সূরা হুদ : ১২০)।

ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী হারুন (আ.) এর সমাধি জর্ডানের পেত্রার নিকটবর্তী জাবালে হারুন নামক পাহাড়ে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৩৫০.০ মি (৪,৪২৯.১ ফুট) উপরে অবস্থিত এই স্থানটি এই অঞ্চলের উচ্চতম স্থান। সেখানকার স্থানীয় জনগণের কাছে এটি একটি পবিত্র স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়।চতুর্দশ শতাব্দীতে মামলুকরা সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। মসজিদটির সাদা গম্বুজ পেত্রার আশেপাশের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে দৃশ্যমান।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক,গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট