কলাম ঃঃ একটি মানবিক বিয়ের পোস্টমর্টেম

 

সোহান দেওয়ান ঃঃ
সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের সাথে হযরতের খুব ঘনিষ্ট সম্পর্ক সেই হিসেবে হযরত শহিদুল মিয়ার পারিবারিক অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতো ! শহিদুল মিয়া কি অনাথ ছিল ? তার পরিবারে কি অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করার মত কেউ ছিলনা যে সেই গুরু দায়িত্ব হযরতকেই পালন করতে হলো !

হযরত বলেছে শহিদুল মিয়ার ছোট সংসার তো একজন ঈমানদারের ছোট সংসারতো একদম জান্নাতের ফুল বাগান হওয়ার কথা । কিন্তু হযরত বলেছে একসময় এসে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে নানা বিষয় নিয়ে মনমালিন্য শুরু হয় ! একজন ঈমানদার ভাল জানবে তার স্ত্রীর প্রতি তার কি কি হক আছে সেই হকগুলো পরিপূর্ণভাবে পালন করলে মনমালিন্যতো হওয়ার কথা নয় । তারপরও যখন বলা হয়েছে আচ্ছা মেনে নিলাম।

হযরত উল্লেখ করেছে এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় । অন্যায় কিছুনা ছাড়াছাড়ি হতেই পারে । ছাড়াছাড়ি হওয়ায় হযরত নিজেই শহিদুল মিয়ার ২য় বিয়ে পড়ান । শহিদুল মিয়ার একটি ফুটফুটে সন্তানও চলে এসেছে মাশআল্লাহ্ । অন্যদিকে রাগের মাথায় সংসার ভেঙ্গে অসহায় হয়ে পড়েন শহিদুল মিয়ার প্রথম স্ত্রী । গভীর সংকটে পড়ে শহিদুল মিয়ার প্রথম স্ত্রী শরনাপন্ন হন হযরতের । নিঃসন্দেহে একজন স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলার দায়িত্ব নিয়ে হযরত মহৎ কাজ করেছেন । ইসলামী দৃষ্টিকোন এবং অভিভাবকত্বের জায়গা থেকে হযরত মহিলার অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহন করে । বেশ ভাল কথা…..

জীবনের করনীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনার জন্য ঐ মহিলা নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন হযরতের সাথে এমতাবস্থায় হযরতের মনে হলো এইভাবে একজন বেগানা নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ । তাই হযরত নিজেই মহিলাকে গোপনে মৌখিক বিয়ে করে নিয়ে দোজাহানের অশেষ নেকী হাসিল করিলো । মহিলা অসহায় হয়ে হযরতের সাহায্যপ্রার্থী হয়েছে হযরত সাহায্য করেছে বেশ ভাল কথা । হযরত বলেছে বেগানা নারীর সাথে সম্পর্ক রাখা ঝুঁকিপূর্ণ তাও ঠিক আছে কিন্তু হযরতের যদি সত্যিই মনে করে থাকে বেগানা মহিলার সাথে এইভাবে সম্পর্ক রাখা ঝুঁকিপূর্ণ তাহলে ঐ মহিলাকে হযরত তার বিবির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারতো । ঐ মহিলার যা সাহায্য সহযোগীতা দরকার ছিল সেই সাহায্য সহযোগীতা হযরতের বিবির মাধ্যমে নিতে পারতো ।

অভিভাবকত্ব পালনের জন্য বিয়েই করতে হবে এমনতো কোন কথা নাই হযরত ঐ মহিলার ভাই হিসেবেও অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারতো । হযরত ঐ মহিলার জন্য একটা ভাল ছেলের সন্ধান করতে পারতো তারপর সেই ছেলের সাথে তার বিয়ে দিতে পারতো । কিন্তু না হযরত সে রাস্তায় হাটেননি নিজের বিবি থাকা সত্বেও সেই বিবিকে ঠকিয়ে তার অগোচরে বিয়ে করে হযরত অভিভাবকত্বকে হালাল করেছে !

অভিভাবকত্ব হালাল করতে জ্যান্ত জীবিত বিবির অগোচরে হযরত মনের বাসনা পূর্ণ করে ফেলেছে ! হ্যাঁ এটা সত্যি ইসলামে ২য় বিয়ের ক্ষেত্রে ১ম স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন নাই তবে আল্লাহ্ বলে দিয়েছেনঃ- “তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে দুই, তিন অথবা চার । আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে বিয়ে করো” (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩)

এক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা প্রথম স্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে শর্ত দেননি বরং শর্ত দিয়েছেন যে যদি সকলের মাঝে ইনছাফ করতে পারো । হযরত কি ইনসাফ করেছে ? দুটো কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে হযরত তার বিবিকে কি বলেছে হযরতের বোন হযরতের বিবিকে কি বলেছে তা আমরা শুনেছি । পৃথিবীর কোন মেয়ে জীবিত অবস্থায় অন্য নারীকে তার স্বামীর ভাগ দিতে চায়না । আজকের দিনে হয়তো সবচেয়ে কষ্ট পাচ্ছে হযরতের বিবি কারন সে জীবিত থাকা অবস্থায় তার স্বামীর ভাগ মানবিক স্ত্রীকে দিতে হচ্ছে । হযরতের বিবির ঐ কথাটা খুব কানে বাজছে “এইগুলা কি সত্যি” অথচ হযরতে একটা বুঝ দিলো হযরতের বোনে আরেকটা বুঝ দিলো যারা কল রেকর্ডটা শুনেছেন তারা উপলব্ধি করতে পারবেন হযরতের বিবির কন্ঠস্বর কতটা অসহায়ের মত ছিল ।

কথাগুলো ক্ষোভ নিয়ে বলিনি হযরত যেমন মানবিক বিয়ে করেছে তেমনি আমিও মানবিক দিক থেকে কথাগুলো শেয়ার করলাম । এই পোস্ট দেওয়ার পর হয়তো হযরতের মুরিদরা জুব্বা টুপি পরে আমাকে গালাগালি করতে চলে আসবে কিন্তু তাতেতো কোন ফাইদা নাইরে ভাই তোমার গালির হিসাব আমি জায়গামত গিয়ে নিব । গালিবাজদের মধ্যে যদি মানুষের বাচ্চা কেউ থেকে থাকে সে আমার কথাগুলো বুঝবে যে একটা সংসার ভাঙ্গার কষ্ট কতটা কঠিন হতে পারে । এইভাবে যেন আর কারও সোনার সংসার নষ্ট না হয়, ভাল থাকুক সবাই। ।