টিকিট ছাড়াই ৩০ ফ্লাইটে ভ্রমণ করল মেরিলিন হার্টম্যান

 

সংবাদ জমিন ডেস্ক ঃঃ
টিকিট ছাড়াই ৩০টি ফ্লাইটে আরোহণে সক্ষম হয়েছেন মেরিলিন হার্টম্যান (৬৯) নামে এক নারী। বিমানবন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কিভাবে তিনি টিকিট ছাড়া, এমনকি বোর্ডিং পাস ছাড়া বিমানে আরোহণ করতে সক্ষম হলেন! এ নিয়ে চারদিকে নানা রহস্য। সর্বশেষ মেরিলিন ধরা পড়েছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর কুক কাউন্টি জেলে দিন কাটাতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আবার আদালতে হাজিরা দেয়ার কথা। তিনি জানিয়েছেন টিকিট ছাড়া বিমানে আরোহণের কৌশল সম্পর্কে। মেরিলিন বলেছেন, আমি কখনো নিজে নিজে বিমানে উঠতে সক্ষম হইনি। এক্ষেত্রে সবসময়ই লেট হয়েছে।

তবে আমি নিজে নিজে বিমানে যখন আরোহণ করেছি, তখন নিরাপত্তা লাইন অতিক্রম করেছি কোনো বোর্ডিং পাস ছাড়াই। এক্ষেত্রে একটি কৌশল নিতে হয়েছে। বিমানে আরোহণ করবেন এমন কাউকে অনুসরণ করেছি। দেখেছি নীল ব্যাগ বহন করছেন, এমন একজনকে টার্গেট করেছি। তার পিছু পিছু হাঁটা শুরু করেছি। এভাবেই আমি ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি এজেন্সি (টিএসএ) লাইন অতিক্রম করেছি। টিএসএ আমাকে আটকেনি। তারা ওই ব্যক্তির পিছনে আমাকে যেতে দিয়েছে। কারণ, তারা মনে করেছে, আমি ওই নীল ব্যাগওয়ালা ব্যক্তির সঙ্গী। এ কৌশল অবলম্বন করেছি সেই ২০০২ সাল থেকে।

তিনি আরো বলেছেন, এমন প্রতারণার কৌশল নিয়ে তিনি প্রথম শিকাগো থেকে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে গিয়েছেন। সেটাই তার প্রথম এমন প্রতারণাপূর্ণ ফ্লাইট ব্যবহার। একই বছরে তিনি আরেকটি ফ্লাইটে প্যারিস গিয়েছিলেন। বিস্ময়করভাবে তিনি এই কৌশল অবলম্বন করেন ২০১৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এরপরই ২০১৮ সালে লন্ডনে ধরা পড়ে যান তিনি। বলেন, এরপর আরও আটটি ফ্লাইটে আরোহণের পরিকল্পনা ছিল। তিনি পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে দেখতে চেয়েছিলেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ৩৪৮২ ডলার টিকিটের মূল্য, বৃটিশ এয়ারওয়েজের এমন একটি ফ্লাইটে লন্ডন যান। সফলভাবে তিনি বৃটেনে মাটিতে অবতরণ করেন। কিন্তু তারপরই ধরা পড়ে যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তখন থেকেই টিএসএ কর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তাকে দেখামাত্র বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা একে অন্যকে তার সম্পর্কে তথ্য দিতেন। তবে নিজের প্রতারণাপূর্ণ অতীত নিয়ে তাদের কাছ থেকে তিনি পালিয়ে বেড়াতে সক্ষম হন। তিনি সিবিএস২’কে বলেছেন, নিজের এই প্রতারণার কৌশলকে খুব উপভোগ করতেন। তার ভাষায়, মানুষ যদি আমাকে খারাপ বলে তাতে কিছু মনে করতাম না। কারণ, আমি এসব বিষয়কে খুব ক্রেজিনেস হিসেবে দেখেছি। আমি এই ক্রেজিনেস দিয়ে রহস্যময়ী হতে চেয়েছি। বিষয়টি যেন কোনো সিনেমার বাইরের দৃশ্য। কেউ যদি আমাকে ক্রেজি বলে তাতেও কোনো পরোয়া করি না।

বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে বিদেশ ভ্রমণের ইতি ঘটে ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ওই সময় তিনি শিকাগো ও’হারে বিমানবন্দরে আটক হন। লন্ডনে প্রতারণার কারণে তিনি চিহ্নিত হয়ে ছিলেন। ফলে প্রতারণা, ক্রিমিনাল উপায়ে নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং বিধি ভঙ্গের কারণে তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক পেগি চিয়াম্পাস। তিনি কুক কাউন্টি জেলে ৫০০ দিন অতিবাহিত করেছেন। সেখানে তার মানসিক ভারসাম্যহীন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এ জন্য তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। শর্তসাপেক্ষে আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। এ জন্য তাকে সব সময় পরে থাকতে হয় ইলেকট্রনিক ট্যাগ। তিনি বলেছেন, শৈশব থেকেই সহিংসতা এবং মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। কিন্তু যা করেছেন তার জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান।
আপনার মতামত দিন।