ডায়াবেটিস রোগটি নিরব ঘাতক

 

মো. আলতাফ হোসেন ঃঃ
ডায়াবেটিস নামক ঘাতক রোগটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যাতে লোকটির রক্তে অতিরিক্ত চিনি থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের প্যানক্রিয়াস ইনসুরিন বলে একটা হরমোন বার করে যা রক্ত থেকে চিনি কোষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসে এই হরমনটি হয় কত থাকে নয়তো থাকেই না।

বহুমুত্রের রোগীর রক্তের খুব বেশি চিনি থাকে। এরোগ কম বয়সে (জুভেনাইল ডায়াবেটিস) অথবা বেশি রয়সে(এডাল্ট ডায়াবেটিস) শুরু হতে পারে। ১৪ থেকে৩৯ বছরের মধ্যে এই রোগ হতে পারে, তবে সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সের লোকদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। যে ছেলে মেয়েদের বাবা / মার ডায়াবেটিস আছে তাদের বয়স হলে এই রোগ হবার সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য যাদের মা অথবা বাবা একজনের ডায়াবেটিকস থাকে তাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে ডায়াবেটিস হওয়ার। আবার মা-বাবার দুইজনেরই যদি ডায়াবেটিক থাকে তবে তাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগ বেড়ে গিয়ে হয় ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ। অল্প বয়সের লোকদের হলে এটা সাধারণত: গুরুত্বর হয় এবং রোগীকে বিশেষ ওষুধ (ইনসুলিন) দিয়ে এটা কমিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু ৪০ এর বেশি বয়সের লোক, যারা অতিরিক্ত খায় এবং মোটা হয় তাদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। এই সম্ভাবনা অনেকটাই পরিবেশ নির্ভর। কম আহার, বেশি পরিশ্রম, নেশা না করা, সফল ভক্ষণ ইত্যাদি ডায়াবেটিস ঠেকিয়ে রাখাতে সাহায্য করে।
আগেকার দিনে ডায়াবেটিসে মৃত্যু ছিল অবধারিত।১৯২১ সালে বেন্টিং এর ইনসুলিন আবিস্কার পৃথিবীর একটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা। সেদিন থেকে ডায়াবেটিস রোগীরা বাঁচতে শুরু করেছে। এখনও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় উন্নতি হয়েই চলেছে। ডায়েবেটিস সত্ত্বেও সুস্থ্য জীবন-এই উদ্দেশ্যে গবেষকরা কাজ করে চলেছেন। এখন সুচিকিৎসিত রোগীদের ডায়াবেটিস তেমন কিছু ক্ষতি করতে পারছে না।

ডায়াবেটিসে দু রকমের গল্ডগোল দেখা যায় ১। বিটা কোষের পরিমাণ কমে যায় এবং২। বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যায়। ১। মোটা মানুষ যাদের ইম্পেয়ার্ড ফাস্টিং গ্লুকোজ (আইএফজি) হয়েছে অর্থাৎ আট ঘণ্ট উপবাসোত্তর রক্তের শর্করা স্বাভাবিকের থেকে বেশি (১১০ থেকে ১২৬মি.গ্র.%) কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের চেয়ে কম, তাদের বিটা কোষের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। তাদের নির্দিষ্ট ভাবে ক্রমান্বয়ে বিটা কোষের মৃত্যু হয়ে চলেছে। এর কারণ ও কিছু কিছু জানা গেছে তা হলে: রক্তে শর্করার অধিক্য, চর্বির অধিক্য, সাইটোকিন ( ঈুঃড়শরহব ) এর অধিক্য, হরেমোন ( যেমান লেপটিন (খবঢ়ঃড়হ) এর অধিক্য সম্ভবত ইমিউনিটি প্রক্রিয়া এবং কিছু কিছ ওষুধদায়ী ২। সুস্থ মানুষে রক্তের শর্করা বর্দ্ধিত হলে তা বিটা কোষকে উত্তেজিত করে প্রথম ধাপেই যথেষ্ঠ ইনসুলিন নিঃসরণ করে। এই ডায়াবেটিসে প্রথম ধাপের ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যায়। আর দ্বিতীয় ধানেও কম নিঃসরণ হয় এবং বহুক্ষণ চলে। এর সাথে ইনসুলিনের অভাব এবং প্রোইনসুলিনের অধিক্যও রোগ বাড়িয়ে তোলে। সুস্থ মানুষে প্রয়োজনে বিটা কোষের পরিমাণ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসের প্রাক্কালে ইম্পেয়ার্ড গ্লুকোজ টলারেন্স (আইজিটি) হলে ইনসুলিনের চাহিদা বাড়ে তখন কার্যকর বিটা কোষ বেড়ে যায়, ইনসুলিন নিঃসরণ ও বেড়ে যায়, কিন্তু একটা সময় আসে যখন আর বিটা কোষ পেরে এঠ না এবং বিটা কোষ কমতে শুরু করে। ইনসুলিন নিঃসরণও কমে আর রক্তের শর্করাকে শরীরের কোষে পাঠানোর কাজ কমে যায়বলে ডায়াবেটিস-২ হয়।

ডায়াবেটিস দু’রকম
১। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত কম বয়সি ছেলে মেয়েদের অগ্মাশয়ের আইলেটসএর বিটা কোষ নষ্ট হয়ে গেলে ইনসুলিন তৈরী হয় না। তাই সারা জীবন প্রত্যহ ইনসুলিন ইনজেকশন নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসকে বলা হয় ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস মেলাইটাস বা আইডিডিএম কারণ সেখানে ইনসুলিন ছাড়া অন্য কোন ঔষধ কাজ করে না। অবশ্য ইনসুলিনের সাথেঅ্যাকাররোজ দিলে ইনসুলিনের মাত্রা কিছু কমানো যায় এবং রোগীর উপকার হয় বলে জানাগেছে ২। টাইপ-২ ডায়াবেটিস : বয়স্কদের হয়। জিনবাহিত অর্থাৎ বংশগত নন ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস মেলাইটাস বা এনআইডিডিএম হচ্ছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস। বিটা কোষ অর্ধেকের ও বেশি নষ্ট হয়ে যায় ও ইনসুলিন নিঃসরন কম হয়। অন্যক্ষেত্রে আধিক ইনসুলিন নিসরণ হলেও তা কার্যকর নয়। তাই ইনসুলিন রেজিষ্ট্রেন্ট ডায়াবেটিস হয়। যদিও সাধারণত খাবার ওষুধ কাজ হয়, এর সাথে ইনসুলিনও প্রয়োজন হতে পারে। এই ডায়াবেটিকস সাধারণত বংশগত কারণে হয়। প্রায় ৯০% রোগীই টাইপ-২তে ভোগেন। তাদের প্রায় ৫০% বিটা কোষ নষ্ট হয়ে যায়। ৮ ঘণ্টা উর্পবাসের পর পরীক্ষিত রক্তে শর্করার মাত্রা ১৪০ মি.গ্রাম % হলে বুঝতে হবে বিটা কোষ প্রায় ৭৫% নষ্ট হয়েছে।

মোটা মানুষদের এই রোগ এত ধীর লয়ে আরম্ভ হয় যে বহু বছর যাবৎ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে না। বেশি খাদ্য খাওয়া সত্ত্বেও রোগা হয়ে যাওয়া। বেশি প্রস্রাব, বেশি তৃষ্ণা ইত্যাদি হলে রক্ত পরীক্ষা ধরা পড়ে। জীবাণু আক্রমণের পর দীর্ঘদিন সুস্থ না হলে রক্ত পরীক্ষা করে ধরা পড়ে। চোখের ছানি অপরেশনের আগে রক্ত পরীক্ষা করেও ধরা পড়তে দেখা যায়। কম বয়সে টাইপ-২ হতে পারে, আবার বড়দেরও টাইপ-১ তে পারে। ভারতে কম বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রবণতা বেশি।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ:
অনেক ক্ষেত্রেই রোগাক্রান্তরা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারে না। পরে নিম্ন লিখিত উপসর্গগুলোর এক বা একাধিক লক্ষ্য করা যায়।
ক্স অত্যাধিক তৃষ্ণা, মুখে এবং গলায় শুকনো ভাব,
ক্স ঘণ ঘন প্রস্রাব ,
ক্স খিদে বেড়ে যাওয়া ,
ক্স দুর্বলতা ও ক্লান্তি ,
ক্স হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে থাকা, হাত ও পায়ের পাতায় অসার ভাব,
ক্স পায়ে ঘা ঘা সারতে চায় না,
ক্স অজ্ঞান হয়ে যাওয়া,
ক্স শরীরের ক্ষত সারতে দেরি হওয়া
ক্স ঘন ঘন রোগ সংক্রামণ
ক্স দৃষ্টি আবছা হয়ে আসা
ক্স খিট খিটে মেজাজ ও প্রস্রাব শর্করা উপস্থিত
ক্স টিবি এবং অন্য নানা সংক্রামণ ডায়াবেটিসের প্রথম সূত্রপাত হতে পারে।
ক্স প্রস্রাব বা রক্ত পরীক্ষা করলে রোগটা ধরা পড়বে।

চিকিৎসা :
ডায়াবেটিসকে রোগ বলা যায় না এটা শরীরের এক অবস্থা । তাই ডায়াবেটিস নিরাময় হয় না কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণ রেখে, সুস্থ ও দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবন লাভ করা সম্ভব, যদি রোগী
১। শারীরের ওজর ও বিএম আই ঠিক রাখেন ওজন বাড়তে বা কমাতে না দেন,
২। নির্ধারিত সুষম খাদ্য খান,
৩। ধুমপান না করেন।
৪। যতেষ্ট ব্যায়াম করেন।
৫। নিয়মিত রক্তে শর্করার পরিমাণ নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রণে রাখেন ও
৬। চিকিৎসকের নির্দেশমত চিকিৎসা চালান।

ডায়াবেটিসের রোগীর বিশেষ পথ্য থাকা দরকার তার প্রোটিনে ভরা খাবার (ঘন সবুজ রঙের শাকসবজি, বরবটি, ডাল, বাদাম, ডিম, মাছ চর্বিছাড়া মাংস ইত্যাদি)। বেশি খাওয়া এবং শর্করা জাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত। প্রোটিন দরকার মোট খাদ্যের ২০-৩০ শতাংশ। ফ্যাট ২০-২৫ শতাংশ এবং কার্র্বোহাইড্রেট থাকবে খাদ্যের মোট ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনালের, ট্রেস, এলিমেন্ট, অ্যান্টি অক্সিডেন্টথাকে অভাব না হয়,অপ্রয়োজনীয় খাদ্য যাতে বাদ যায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে খাদ্য তালিকা তৈরী করতে হবে। ভূট্টা, চাল, গম, আলু এবং ট্যাপিওকার মতো খাবার তাকে খুব কম করে দিতে হবে। কলা ব্রেডফুট, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলও বেশি খাওয়া চলবে না। কিছু ডায়াবেটিসের রোগীকে সারা জীবন ধরে ইনসুলিনের ইনজেকশন নিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসা শূরু করতেডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বাড়ানো, কমানো বা বন্ধ করা কখনোই উচিত নয়। ডায়াবেটিসের সঙ্গে যোগ আছে এমন সংক্রামণ গুলির চিকিৎসা একই সঙ্গে করতে হবে কোনো লোকের ডায়াবেটিস হয়েছে বলে সন্দেহ হলে অবশ্যই তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বংশগত ভাবে যাদের ডায়াবেটিস হওয়া সম্ভাবনা আছে তার প্রথম চারটি নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারেন। ডায়াবেটিস হওয়ার কয়েক বছর আগেই রক্তের শর্করা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হতে থাকে টাইপ-১ রোগীদের ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। রোগীদের খাদ্যটা এমন হবে যেন তার রক্তে গ্লুকোজ কমে গিয়ে অজ্ঞান (হাইপোগ্লাইসিমিয়া) না হয়, বা খাদ্যের অভাবে শারীরের পুষ্টি ব্যাহত না হয় টাইপ-২ (এনআইডিডিএম) রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিশ্রম বাড়িয়ে যদি রক্তে শর্করা স্বাভাবিক না হয় তবে ওষুধ খেতে হবে। খাদ্যে রক্তে শর্করা বাড়ায় আর পরিশ্রম তা কমায় তাই ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় খাদ্য ওষুধ ও পরিশ্রমের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।

এক সমীক্ষায় জানা গেছে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যান্সার বেশি হয়। ডায়াবেটিস রেগাীদের ক্যান্সারে হলে তাড়াতাড়ি বেড়ে যায়। পুরুষের ক্যান্সার বেশি হয় লিভারে ও অন্ত্রে, আর মেয়েদের হয় লিভারে। হয়তো খুব শীঘ্রই ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং ডাাবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার প্রবণতা শিশু অবস্থাতেই নির্ভুল ভাবে অনুমান করা সম্ভ হবে এবং প্রতিকার করা যাবে সহজে। যেমন অন্যান্য রোগগুলোর মধ্যে আমাদের দেশে ডায়াবেটিসে আকান্ত রেগাীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিশ্বে বর্তমানে ৩৮৭ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যার মধ্যে ১৫০ মিলিয়নের অবস্থান এশিয়ায়। পরিসংখ্যান মতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা ৮.৪ মিলিয়ন এবং বর্তমানে বৃদ্ধি হার অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বিবেচনা করলে ৭ম বৃহত্তম দেশ পরিণত হবে। ডায়াবেটিসের লক্ষণ ডায়াবেটিসের লক্ষন সবার ক্ষেত্রে এক হবে এমনটি নয়। সাধারণ লক্ষণ হলে ঝাপসা দৃষ্টি প্রচন্ড পিপাসা, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়ার অনুভূতি, অতিরিক্ত ক্ষুধা, লাগা ও জন হ্রাস বা বৃদ্ধি পাওয়া অতি সহজেই ক্লান্তি অনুভূব করা প্রভৃতি।

রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবকি মাত্রা ঃ
১। কাওয়ার আগে ৫-৭.২ মিলিসোল /লিটার অথবা ৯০-১৩০ মিগ্রা/ ডেডি লিটার। ২। খাওয়ার পরে ১০ মিলি মোল/ লিটার অথবা ১৮০ মিগ্রা/ ডেসি লিটারের কম ৩। গ্লাইকেটেড হিমাগ্লোবিন ( ০ -)৪৮ মিলি মোল/ মোল (৬.৫%) এর নিচে। কারণ ঃ ডায়াবেটিসের প্রকৃত কারণ নির্নয় করা বেশ কঠিন অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভবও জট, ধারনা করাি হয় খাদ্যভ্যাাস অতিরিক্ত সময় টেলিশিন দেখা, শারীরিক পরিশ্রম করা, ঘুমের সমস্রা ও বংশগতকারণে। ডায়াবেটিস হওয়ার হার বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য সমস্যা :কিডনির সমস্যা, দৃষ্টি হীনতা, পায়ের ক্ষত, গ্যাংগ্রিন, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ত্বকের সমস্যা প্রভৃতি।

ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়: রক্তে গ্লুকোজের পরিমান নিয়ন্ত্রণে রাখা রক্তে কোলস্টোলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা।
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা :

ডায়াবেটিক্স একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যার ফলে একেবারে নির্মূল করা ্অনেকটাই অসম্ভব। তাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। ডায়াবেটিসের প্রধান সমস্যা রক্তে গ্লুকেজের অস্বাভাবিকতা দেহে আমাদের গ্লুকোজের অন্যতম উৎসব প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখার বিষয়ট ঘনিস্ট ভাবে জরিড়। ডায়াবেটিস রোগীর খাবারে শর্করার পরিমান হওয়া উচিত ৪৫-৬০ ভাগের মধ্যে, অন্যদিকে আমিষ হওয়া উচিত ২০-২৫ ভাগ। শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন মতো ফাইবার বা র্আঁশ এবং ভালো ফ্যাট ও ডায়াবেটিস রেগাীর মেন্যুতে থাকা চাই। শারীরিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নাই। খাবারের পরেই যে বিষয়কটি গুরুত্ব পায় সেটা হলো শারীরিক পরিশ্রম। প্রয়োজন বেধে নিয়ম মাফিক ব্যায়াম করা যেতে পার। বয়স্কদেরজন্য হাাঁটা। প্রতিনিদ নিয়ম মেনে শারীরিক পরিশ্রম ডায়অবেটিস রোগীর জন্য আশাবাদ ফল দেয়। তাই কোন অবস্থাতেই শারীরিক পরিশ্রম বদ্ধ করা যাবে না। যাদের মুধপানের পদভ্যাস আছে তাদেরকে এ বদঅভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। একদিগে সম্ভব না হলে আস্তে আস্তে তা কমিয়ে আনতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ঔষুধ সেবন বা ইনসুলিন গ্রহণ করলে কোনো অবস্থাতেই তা বন্ধ বা পরিবর্তন করা যাবে না। কারো কারো শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বেবে ওষুধ সেবন বন্ধ করেন বা ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে দেন যা কোনো অবস্থাতেই ঠিক নয়।
শারীরিক পরীক্ষা ঃ নিয়মিত বিরতিতে ডাক্তারে পরামর্শে কিডনি চোখ রক্তে গ্লুকোজ ও কোলোস্টরলের মাত্রা প্রবৃতি পরীক্ষা করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ (কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি,চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট