ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন

 

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ
আমার বন্ধু হাবিব কখনো কবিতা লেখেনি। সাংবাদিক হতে চেয়েছিল। হয়েওছিল। ওর বাসা ছিল নিচুপাড়ায়। খালপাড়ে। পূবপাশে। পাশেই ধানক্ষেত। ফাঁকে ফাঁকে তালগাছ। ভোম সাধুর বাড়ি। বেচারা গাঞ্জাখোর। দূরে চেচানিয়াকান্দি গ্রাম। খুব বেশি ঘরবাড়ি তখনো হয়নি। হাবিবদের খালে আমরা পোলো দিয়ে মাঝে মাঝে মাছ ধরেছি। এই পাড়াটির নাম নিচুপাড়া কেনো? নিচুপাড়া এজন্য যে এপাড়ায় হাইলা-জাইলাদের বাস ছিল। নমোশুদ্র, ক’ঘর ঋষি, সাপের ওঝা, একটু বাঁক ঘুরলেই মেথরপাড়া। এরা খুবই দরিদ্র। দরিদ্র বলে এরা বাড়িঘর বেচে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। খালপাড় থেকে হাবিব, গোহাটা থেকে মহসীন, জনতা রোড থেকে আলী কদর, গার্লস স্কুল রোড থেকে সিজার আর কালিবাড়ি থেকে পল্টা ওরফে প্রতিক সাইফুল আমাদের বাড়ির পাশের দোলখোলার বটতলায় হাজির হতাম। গল্পগুজব হতো।
দুএকটি সাপ সেসব শুনে মাঝে মাঝে গাছের ফোকরে পাশ ফিরে শুতো। পল্টা ছিল কবি। সিজার আবৃতিকার। আমরা দেখনদার। আমরা এক সঙ্গে মডেল স্কুলে পড়েছি। হেঁটে হেঁটে সারা শহর ঘুরে বেড়িয়েছি। সারা শহরটি ছিল হাতের তালুর মতো চেনা। সবাই সবাইকে চিনি। এগারো ক্লাশে পড়ার সময়ে আত্মহত্যা করল মহসীন। আমি ময়মনসিংহ চলে গেলাম। হাবিব ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পড়তে চাকরি নিল পিএসসিতে। সঙ্গে বাংলার বাণীতে সাংবাদিকতা। মন্টু রোগে ভুগে মরে গেল। পলটা চারুকলা থেকে শিল্পী হয়ে একদিন নাই হয়ে গেল। আর আমাদের অগোচরে বুড়ো হয়ে গেল বটতলা। শহরটা ক্রমশ বড়ো হলো।

আমাদের হাতের তালু থেকে ছিটকে দূরে সরে গেল। আমাদের অচেনা হয়ে পড়ল। এরপর শুনতে পাই হাবিব পুলিশ হয়েছে। সিজার ঠিকাদার। আলি কদর ব্যবসায়ী। সেলিম ওমরাও খান সাংবাদিক। পরে আমি বরিশালে। এক সময় দূর সমুদ্রের পাড়ে চলে যাই এই বটতলা সমেত পুরনো শহরটাকে বুকপকেটে নিয়ে। শুনতে পাই আমার স্কুলের একটু সিনিয়র বেনজির ভাই পুলিশের আইজি। হাবিব ডিআইজি। আমাদের চুল পাকছে। হাবিবের চুল আরো কালো হচ্ছে। নিচুপাড়ার মানুষদের হাবিব কখনো ভুলতে পারেনি। ডিআইজিগিরি করার পাশাপাশি কাজ করছে বেদেদের নিয়ে–হিজড়াদের নিয়ে। এটা কেউ করে না। আমাদের হাবিব করছে।

নিচুপাড়ার লোকদের মতো লোকজনকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করছে। হাবিব পুলিশের ডিআইজি–এটা নিয়ে আমার বিশেষ কোনো অনুভূতি জাগে না। হাবিব আমার বন্ধু। এটা ভেবে আমার ভালো লাগে। গর্ব হয়। একটু হেসে উঠি। আর আমার ভেতরের বটতলার ফোঁকরে দুটো সাপ পাশ ফেরে। তক্ষক ডাকে–ঠিক ঠিক ঠিক। তথ্যসূত্র-ফেসবুক, cninews24