নাব্য সংকটে স্রোতস্বিনী পালরদি নদী

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীকে ঘিরেই শুরু হয়েছে আমাদের এই বঙ্গে বসবাস। শাখা প্রশাখাসহ প্রায় ৮০০ নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাউবো কর্তৃক সারা দেশে প্রায় ৪০৫টি নদ-নদীর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশে ছোট বড় সব মিলিয়ে ২৩০ থেকে ২৪০টির মতো নদ-নদী সরকারি হিসেব আছে। এই বঙ্গের নদীকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে আমাদের জীবনের বেঁচে থাকার আবাসভূমি। যুগে যুগে এই নদীর তীরে গড়ে ওঠেছে আমাদের এই সভ্যতা,সাংস্কৃতিক গড়ন ও কৃষিপত্তন। গড়ে ওঠেছে মানববসতি,গ্রাম-নগর,বাজার-বন্দর,সম্পদ-সমৃদ্ধি সব কিছু বিকাশ ঘটিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অকৃত্রিম মমতায় গড়া এই প্রিয় বাংলাদেশ।

এগুলোর উৎপত্তি,গন্তব্য,বিবর্তনধারা,অবস্থা, অবস্থান ও নামকরণ কালের বিবর্তনে হারিয়ে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে। অধিকন্তু ভূমিখেকোদের আক্রমনে রক্ষা পাচ্ছে না দেশের অধিকাংশ নদ-নদী। অবৈধ দখল ও দূষণের কবলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের নদ-নদী। কিছু নদী বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে কালের করাল গ্রাসে। এমনি একটি নদী পালরদি নদী। বালু উত্তোলন থেকে শুরু করে ময়লার ভাগাড়েও পরিণত করা হচ্ছে। নাব্য হারিয়ে এক সময়ের খরস্রোতা গৌরনদী উপজেলার পালরদী নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর কোথাও কোথাও এখন হাঁটু পানি। পালরদী নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারণে ঢাকা-গৌরনদী নৌ-রুটের লঞ্চ তার শেষ গন্তব্যস্থল গৌরনদীর টরকী বন্দর লঞ্চঘাটে আসতে পারছে না। এমনকি গৌরনদী ও টরকী বন্দর লঞ্চঘাটের পন্টুনে এখন বড় কোনো নৌযান আসতে পারছে না।
৩ নভেম্বর থেকে লঞ্চ টরকী বন্দর থেকে ৯-১০ কিলোমিটার দূরবর্তী কয়ারিয়া লঞ্চঘাটে অবস্থান করে। পালরদী নদীতে এখন আর চলতে পারছে না বড় নৌযান। ২০-২৫ বছর ধরেই শুকনো মৌসুমে এ অবস্থা চলছে। ফলে গৌরনদী ও টরকী বন্দর,কসবা গো-হাট,শরিকল হাট,মাহিলাড়া হাট,বাটাজোর হাট,কালকিনিবন্দর,আগৈলঝাড়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা গবাদিপশু ও বিভিন্ন মালামাল আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

বরিশাল জেলার এতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ একটি উপজেলার নাম গৌরনদী। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে এ উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে।‘‘গৌরনদী’’ এর নামকরণ নিয়ে সুনিদৃষ্ট কোনো লিখিত ইতিহাস নেই। ‘‘গৌরনদী’’র নামকরন সম্পর্কে প্রবীনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই মানুষ জানে। গৌরনদীর পূর্বাঞ্চলে রয়েছে আঁঁড়য়াল নদী। আর আড়িঁয়াল খার শাখা নদী হচ্ছে পালরদী নদী। এক সময় পালরদী ছিলো স্রোতস্বীনি নদী। আড়িঁয়াল খাঁ নদীর শাখা নদী পালরদী নদীকে ঘিরেই গৌরনদীর নামকরন করা হয়। এ নদীর সাথে গৌরনদীর সংযুক্ততা রয়েছে। আড়িঁয়াল খাঁ নদীর শাখা নদী পালরদী নদীর প্রবাহমান পানির রং ছিলো গৌড় বর্ণের। সে অনুসারে গৌড় ও বং নদী যুক্ত হয়ে ‘‘গৌরনদী’’ এর নামকরন করা হয়েছে।

ভূ-গঠনে নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ভূ-ভাগ বেলে-দোআঁশ মাটি দ্বারা গঠিত। তবে নদী সিকস্তি ও চরাঞ্চল এলাকায় বেলে মাটির আধিক্য অত্যন্ত বেশি। এ জেলার আবাসযোগ্য ভূ-গঠন এবং জনবসতি খুব প্রাচীন নয়। সম্ভবত এক হাজার বছর ধরে এ ভূ-গঠন প্রক্রিয়া চলে আসছে। ভূ-গঠনের প্রকৃতি দেখে মনে হয় পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিম ও পশ্চিম-দক্ষিণাংশের ভূ-ভাগ বেশি প্রাচীন। পশ্চিম-উত্তর, পূর্ব-উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলের ভূ-ভাগ পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ,এবং তার শাখা-প্রশাখার ব্যাপক ভাঙা-গড়ার কারণে একাধিকবার পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। বস্তুত এ নদীগুলোর লালনে-শাসনে গড়ে উঠা এ উপজেলা প্রকৃতির বিচিত্র লীলায় লীলায়িত,ভাঙা-গড়ার বিচিত্র অভিজ্ঞতায় বিকশিত এক বিস্ময়কর ঐতিহ্যের স্মারক। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখল ও দূষণে নাব্যতা হারিয়ে ক্রমেই অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের এক সময়ের খরস্রোতা নদী ও খাল। দখলকারীদের রাক্ষুসে থাবা এখনই থামানো না গেলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে নদীমাতৃক এ অঞ্চলের বেশির ভাগ নদী ও খাল। গৌরনদী উপজেলার মধ্যদিয়ে বহমান খরস্রোতা পালরদী নদী দখল ও দূষণে এখন মরাখালে পরিণত হয়েছে। অস্তিত্ব হারাতে বসেছে গৌরনদীর ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদী।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পালরদী নদীর দুই তীর যেন দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। দখলদাররা সেখানে পাকা-আধা পাকা স্থাপনা গড়ে তোলায় ছোট হয়ে আসছে নদীর আয়তন। পালরদী নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারণে ঢাকা-গৌরনদী নৌ-রুটের লঞ্চ ৩ নভেম্বর থেকে গৌরনদী ও টরকী বন্দর লঞ্চঘাটে আসতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ী ও লঞ্চযাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পৌর শহরের গৌরনদী বন্দর, চরগাধাতলী, টরকীর চর, নতুন টরকী, উপজেলার পিঙ্গলাকাঠি, হোসনাবাদ, কয়ারিয়া, পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার কালকিনি বন্দর, চর পাঙ্গাসিয়া, ঠেঙ্গামারা, শিকারমঙ্গল বাজার, চর বিভাগদি এলাকার ভেতর দিয়ে পুরনো পালরদী নদী প্রবাহিত রয়েছে। নদী পারের এসব বন্দর ও হাটবাজার এলাকায় নদী ভরাট করে প্রভাবশালীরা বসত ঘর, দোকানপাট, কল কারখানা গড়ে তুলে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফেলেছে। অভিযোগ রয়েছে, গৌরনদী বন্দর, টরকীর চর, নতুন টরকী, চরগাদাতলী, পিঙ্গলাকাঠি, হোসনাবাদ, কয়ারিয়া, কালকিনি বন্দর, চর পাঙ্গাসিয়া এলাকায় দুই তীরে ৫ থেকে ৬শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। তারা পাকা ভবন তুলে ডাল মিল, রাইস মিল, স’মিল, অয়েল মিল, পাকা-আধা পাকা দোকান চালু করেছে। পালরদী নদীর পশ্চিম তীরে গৌরনদী বন্দর, টরকীর চর, কালকিনি বন্দর অবস্থিত। পূর্বতীরে নতুন টরকীর হাট অবস্থিত। টরকীর চর এলাকায় পালরদী নদীর তীর ও নদীর মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি গড়ে তুলেছে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। গৌরনদী বন্দর এলাকায় ২ শতাধিক দখলদার পাকা-আধা পাকা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে।

দখলদারদের দাপট আর দূষণে একসময়ের খরস্রোতা আড়িয়াল খাঁর শাখা নদী বরিশালের গৌরনদীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পালরদী নদী এখন বিবর্ণ। গৌরনদী বন্দর, পিঙ্গলাকাঠি বন্দর ও টরকী বন্দরের ২২ কিলোমিটার এ নদীর দুই পারের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে গেছে। গড়ে উঠেছে পাকা, আধাপাকা স্থাপনাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এ নদী যেমন দূষণ হচ্ছে, তেমনি হারাচ্ছে সৌন্দর্য। দখল-দূষণে নাব্যতা হারানো এই নদী দিয়ে গৌরনদী-ঢাকা লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। দখলদারদের লোলুপদৃষ্টি আর দূষণে অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একাধিক খাল ও নদীর। উপজেলার কোনো কোনো খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে এমনভাবে ভরে ফেলেছে যে, সেটি রুক্ষ চরে পরিণত হয়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় ঘরবাড়ি উঠে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। গৌরনদী উপজেলার পালরদী নদীর তীর ও আশপাশের খাল দখল করে পাকা দালান, দোকানপাট গড়ে উঠেছে আনেক আগেই। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বৃহৎ বাণিজ্যিক বন্দর টরকীতে। বন্দরটি পালরদী নদীর মোহনা ও ছোট-বড় পাঁচটি খালের সংযোগ ছিল বন্দরের সঙ্গে। অবৈধভাবে দখলের কারণে খালগুলো শনাক্ত করাও কঠিন। দখলদাররা খাল দখল করে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা তৈরির পর বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এই নদীটি গৌরনদীর হৃৎপিন্ড। একসময় এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিলো গৌরনদীর টরকী বন্দর। এখানকার কৃষি, ব্যবসা-বানিজ্য আর যাতায়াত সবই ছিলো এই নদীভিত্তিক। কিন্তু দখল, অযত্ন আর অবহেলায় এখন মরতে বসেছে এ নদী।” পালরদী খালটি দক্ষিণ-পূর্বে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে শুরু হয়ে পঞ্চিমে বাশাইল খাল হয়ে পয়সার হাট নদীর সঙ্গে মিশেছে । খালের ভেতরে ও দুই পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে কাঁচা-পাকা বহু স্থাপনা। ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। খালের ভেতরে কচুরিপানা ঠাসা। মাঝেমধ্যে মাটির স্তুপ। অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনার জঞ্জাল। পানিপ্রবাহের জায়গা গেছে সংকুচিত হয়ে। জানা যায়,২০১১ সালে এ উপজেলায় মোট কৃষির আবাদি জমি ছিল ৩৪ হাজার ১১২ একর। ২০২০ সালে সে কৃষি জমি কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৩৪ একরে। ১০ বছরের ব্যবধানে কৃষি জমি কমেছে ৭ হাজার ৭৮ একর। কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খালগুলোতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে এ এলাকায় কৃষির উন্নয়ন হতে পারে ।

বরিশালের গৌরনদীতে অবৈধ দখল-দূষণে মরে গেছে নদী ও খাল। বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে। এছাড়া অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে ৯ বছরে কমে গেছে সাত হাজার একর কৃষিজমি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,খালের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনটি খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্প পাস হয়েছে। নদী-খাল দখলকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান। এখানকার পালরদী নদীসহ বিভিন্ন খালের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে দখলদারদের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তিনটি খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।
এই পালরদী নদীতে এক সময় জেলেরা প্রচুর পরিমান শিকার করতেন টেংরা, পাবদা ও রিঠা প্রজাতির মাছ। মাছ শিকারীর জেলে পল্লীগুলো আগের জায়গাতেই আছে। তবে তাদের নেই আগের মতো অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। বহু জেলে স্থান পরিবর্তন করে সমুদ্রমুখি হয়েছে বলে জানান গবেষকরা। পালরদি নদীর মোহনা থেকে কিছুটা উজান পর্যন্ত নোনাপনিতে সত্তর-আশির দশকে ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আনাগোনা ছিলো। এখন তা আর নেই। ষাটের দশকের শেষপাদ পর্যন্ত পালরদিতে সাদা রঙ্গের এক ধরনের ইলিশ মাছও মিলত। যা পালরদির ইলিশ নামে পরিচিত ছিলো। কিন্তু পালরদি নদীতে মিল কারখানার বর্জা নিক্ষেপ, পয়ঃপ্রনালীর বর্জ্য মিশ্রন, রান্নঘড়ের কিচেন ওয়াশ ফেলা এবং সে সাথে দুই পাড়ের মিল কল কারখানার দুষিত পর্দাধ রোধ করা গেলে তিন ভাগের দুই ভাগ দুষণ রোধ করা যেতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে উপজেলা ঐতিহ্যবাহি পালরদি নদীসহ খাল বিলের মাছ শুন্যতার জন্য বিভিন্ন গবেষনায় যে সকল বড় কারন সনাক্ত করেছেন সেগুলি হচ্ছে নানমুখী দুষণ,একদা খর স্রোতা, পালরদি স্রোতের বেগ হ্রাস, পলিপাতে নদীর গভীর হ্রাস এবং অতিরিক্ত মাছ অবাধে মাছ শিকার। উপজেলার পালরদী নদী থেকে উজানে তিন ধরনের মাছ আহরন করছেন। অথচ এক সময় পালরদী নদী মোহনায় থেকে আড়িয়াল খা অবধি তিনভাগে প্রায় ১২০ প্রজাতির পরিমান মাছ ছিলো। আকার-আকৃতি, স্বাদে-গুণে ও জনচাহিদায় সেসব মাছ ছিলো খুবই অর্থকরী।

পৃথিবী জুড়ে কৃষি সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিলো নদীকে ঘিরে। এ অর্থে কৃষি সভ্যতার সমার্থ শব্দ হতে পারে নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা।নদীর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। এক সময় নদীকে কেন্দ্র করে সভ্যতা ও শহর গড়ে উঠেছে।বাংলাদেশের প্রবাহিত প্রায় সব নদ-নদীই আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করেছে। হিমালয় থেকে উৎপত্তি হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সর্বশেষ বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে। আজ কোনো কোনো নদীর অস্তিত্ব মানচিত্রে আছে অথচ বাস্তবে নাই।
আমাদের ভাব প্রকাশের বাহন মাতৃভাষা বাংলা আর জলধারার বাহক বাংলার নদ-নদী পরস্পরের প্রকৃষ্ঠ উপমান। নদ-নদী সুরক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে এখনো তৎপরতা দেখা যায় না অনেকেরই।দেশকে বাঁচাতে আমাদের সকলের গণসচেতনতা জরুরি। তাছাড়া নদ-নদী উদ্ধারে সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ফিরে পাচ্ছে প্রাণ। এভাবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলের এগিয়ে আসতে হবে।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ (কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) সভাপতি শারীরিক
শিক্ষাবিদ সমিতি,চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট