পীরগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়াল

 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঃঃ
তৃতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত ও ৬ জন আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের ৮নং ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল প্রকাশ না করে নির্বাচনী মালামাল রেখে প্রিজাইডিং অফিসার সরকারি বণিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন কেন্দ্র থেকে সুকৌশলে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউএনও রেজাউল করিমসহ নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে।

এ সময় স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যদের খবর দেয়া হলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল করিম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মারমুখী জনতা ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল করিমের নির্দেশে দায়িত্বরত বিজিবি’র নায়েক সুবেদার আজাহার আলীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বিজিবি জোয়ানরা উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করে। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলে ৩ জন মারা যান। পরে গুলিবিদ্ধ ৬ জনকে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে নেয়া হলে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

বিজিবির গুলিতে নিহতরা হলেন, হাবিবপুর গ্রামের তোফাজ্জুলের ছেলে শাহাবুদ্দিন ওরফে সাহাবুলি (৩২), ছিট ঘিডোব গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোজাহার আলী মুজা (৩৮), ঘিডোব গ্রামের পরাগ আলী (২২) ও অবিনাশ চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিত রায় আদিত্য (১৮)।