পুরুষরা আক্রান্ত ফুসফুস ক্যান্সারে, নারীরা স্তনে

 

মোঃ আলতাফ হোসেন ঃঃ
অনেকের দৃষ্টিতে ক্যান্সার এক ভয়ানক ব্যাধি, ক্যান্সার নীরব ঘাতক, ক্যান্সার মানেই মৃত্যুদন্ড। এক সময় মনে করা হতো, ক্যান্সারের কোন অ্যান্সার নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান আর আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতি ও অগ্রগতির ফলে এই ধারণা গুলো আর মোটেই সত্য নয়। ক্যান্সারের নিরাময় সম্ভব। শুধু দরকার সময় মতো সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা গ্রহণ করা।

দিন দিন অসংক্রামক ব্যাধির সংখ্যা বেড়েই চলেছে, ক্যান্সার তার মধ্যে অন্যতম। ক্যান্সার শব্দটি শুনলে যে কেউ ঘাবড়িয়ে যান। ক্যান্সার বলতে সাধারণ ভাবে জীবন কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই বোঝায়। এই কোষগুলো স্বাভাবিক নয় বরং পরিবর্তিত বিধায় দেহের সাধারণ নিয়মে এদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ফলে খুব দ্রুত এইসব কোষের পরিমাণ বাড়তে পারে, কখনো কখনো এগুলো টিউমার বা চাকার মত তৈরী করে এবং এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরে। এই অস্বাভাবিক কোষগুলো সুস্থ স্বাভাবিক কোষা গুলোকে ধ্বংস করে ও শরীরের স্বাভাবিক কার্য কলাপে বাধার সৃষ্টি করে। এগুলো ধীরে ধীরে দেহের প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলোকে অকেজো করে দেয় এবং রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ২০১২ সালে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাতপাতালে আগত পুরুষ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পায়া গেছে ফুসফুস ক্যান্সার (১ হাজার ৮৪৩ জন) আক্রান্ত। একই বছর নারী রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত (১ হাজার ৩৮৯ জন)।

বুলেটিনে কেবল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্যান্সার চিকিৎসায় ত্রুটিই বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র টারশিয়ারি পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্র, একই সঙ্গে ক্যান্সর চিকিৎসার মূল কেন্দ্র বিন্দু। তাছাড়া এখানেই সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার জন্য আসেন। বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালে লিস্ফোমা (এক ধরনের রক্তের ক্যান্সোরের নাম) ক্যান্সারে ৬১৯ জন, অন্ননালির ক্যান্সারে ৪১৮ জন, পাকস্থলির ক্যান্সারে ৩৭৪ জন, যোজক কলার ক্যান্সারে ৩০৯ জন আক্রান্ত পুরুষ সনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসাপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণকারী ১২ হাজার ১৯৮ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগীর বয়স ৪৫ থেকে ৫৪ বছর (২ হাজার ৯৬৭ জন)। ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৪ বছর থেকে ৯৫ উর্ধ্ব বয়স্কদের মধ্যে যায় হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর বেশি আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়য়ীরা (২ হাজার ৫১১ জন)। ওই একই হিসাব যার হার ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত হেলথ বুলেটিন ২০১৩ তে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স ভিত্তিক আক্রান্তের তথ্য ২০১০ সালের।
অপর দিকে গলদেশের ক্যান্সারে ১ হাজার ১০২ জন, লিস্ফোমা ক্যান্সারে ৩০৫ জন, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে ২৮৭ জন, পিওথলির ক্যান্সারে ২৫৩ জন আক্রান্ত নারী সনাক্ত হয়।

বুলেটিনে দেখানো হয়েছে ২০১২ সালে ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বহি: বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬১ হাজার ২৪ জন, যা ২০১১ সালের চেয়ে ১৯ হাজার ৯৬০ জন বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ৩৩ হাজার ৮৭২ জন, যা ২০১১ সালের চেয়ে ১০ হজাার ৫৩০ জন বেশি, নারী ২৭ হাজার ১৫২ জন, যা ২০১১ সালের চেয়ে ৯ হাজার ৪৩০ জন বেশি। এতে আরো দেখানো হয়েছে, ২০১২সালে ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৩০৪ জন। এইক বছর আবাসিক চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৫০১ জন, ২০১১ সালের সঙ্গে এর ব্যবধান ৩ জনের। ২০১১ সালে ১ হাজার ৫৯১ জন নারী আবাসিক চিকিৎসা গ্রহণ করলেও ২০১২ সালে কমে এ সংখ্যা ছাড়ায় ১ হাজার ৫১১ জন। অপর দিকে পুরুষ আবাসিক চিকিৎসা গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১২ সালে চিল ১ হাজার ৯৯০ জন, ২০১১ সালে ছিল ১ হাজার৯০৭ জন।

বয়স ভিত্তিক ক্যান্সারের আক্রান্তের তালিকায় হেলথ বুলেটিনে দেখা গেছে, ১২ হাজার ১৯৮ জন ক্যান্সারে আক্রান্তের মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছিল ৯৫ কিংবা এর উর্ধ্ব বয়সীরা ২২ জন। হার দশমিক ২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ৮৫ থেকে ৯৪ বছর বয়সীরা (৮৭ জন) হার দশমকি ৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে ১৪ কিংবা এর কাছাকাছি বয়সী (৫০৩ জন) যার হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ, ১৫-২৪ বছর (৫১৭ জন) যার ৪ দশমিক ২ জন ৭৫ থেকে ৮৪ বছর (৬২৯ জন) যার হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ২৫ থেকে ৩৪ বছর (১ হাজার ৩৭২ জন), যার হার ১১ দশমিক ২ শতাংশ, ৬৫-৭৪ বছর (১ হাজার ৫৯৮জন) যার হার ১৩ দশমিক ১ শতাংশ, ৩৫ থেকে৪৪ বছর (১ হাজার ৯৯২ জন), যার হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

ক্যান্সার যে কোন বয়সেই হতে পারে, কিছু কিছু ক্যান্সার অল্প বয়সেই হয়, তবে সাধারণত বয়স্কদের মধ্যেই কান্সার হবার ঝুঁকি বেশি। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের চরম উন্নতির মধ্যেও ক্যান্সারের পুরোপুরি কারণ কখানো জানা নাই। সাধারণ তার ৫০-৬৫ বছর বয়সের লোকদের মধ্যেই ফুসফুসের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে বিড়ি/সিগারেট খাওয়া বা যেখোনে বিড়ি / সিগারেট খাওয়ার হচ্ছে, সেখানে থাকাটা এই রোগের একটি প্রধান কারণ। যে কোন ১০-২০ বছর ধরে দিনে ২০টি বা তার বেশি সিগারেট / বিড়িখায়, তার ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা যে বিড়ি গিসারেট খায় না বা অন্য কারো খাওয়া বিড়ি / সিগারেটের ধোঁয়া খায় না তার থেকে ৬০-৭০ গুণ বেশি। সিগারেট বিড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিলে ফূসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যান্য কারণ হলোকল কারখানার যেকে বেরোনো ধোঁয়া, গাড়ি, বাস ইত্যাদি থেকে বেরোনো ধোঁয়া এবং অন্যান্য পরিবেশ দূর্ষণ কিছু কিছু পারিপার্শ্বিক, পেশা, এমনকি জীবন যাত্রার পদ্ধতি বা কু-অভ্যাস ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।উদাহারণ স্বরূপ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধুমপান। দীর্ঘ দিন মদ্য পানের অভাস। খাদ্যাভাসা যেমন খাদ্যের ফাইবারের অভাব, ভিটামিন বা এন্টি অক্সিডেন্টের প্রভাব। প্রিজারভেটিভে, কেমিক্যাল বা রংযুক্ত খাবার। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান। পরিবেশ দূষণ এবং ক্যামিক্যাল সংস্পর্শে আসা। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ও স্থুলতা। কর্মস্থল বা পেশাগত কারণে অনেকের ক্যান্সার হতে পারে। রেডিয়েশন বা কেমিক্যাল দিয়ে কাজ করা অনেকক্ষণ রোদ্রে থেকে কাজ করা। জাহাজ ভাঙার শ্রমিক, রঙ ও রাবার কারখানার কর্মী ইত্যাদি। কিছু কিছু ওষুধ বা চিকিৎসা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত যৌন সম্পর্ক। একাধিক যৌন সঙ্গী, পেশাদার যৌন কর্মীর সাথে যৌন সম্পর্ক ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরণের বিকিরণ ( যেমন সূর্য রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি, এক্সরেন কসমিকরে ইত্যাদি) বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুর দ্বারা ইনফেকশনের ফলে ক্যান্সার হতে পারে, যেমন হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, এপন্সিন বার ভাইরাস, হ্যালিকোব্যাক্টর পাইলোরি, হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস,্ এইডস ভাইরাস ইত্যাদি। সিস্টোসোমা জাতীয় জীবাণু মধ্যপ্রাচ্য বা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মূত্রাশয় ক্যান্সারের কারণ হিসেবে বিবেচিত। ক্রোমোজম বা জিনের কারণেও ক্যান্সার হতে পারে।

ক্যান্সারের লক্ষণনির্ভর করে কোথায় কি ধরণের ক্যান্সার হয়েছে তার ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই কোন লক্ষণই থাকে না। দেখা গেছে যে, ক্যান্সার ছড়িয়ে যাওয়ার পরেই তা ধরা পড়ে। ফুসফুসের ক্যান্সর অত্যন্ত গুরতর রোগ। এটি খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যেতে পারে। তার পরও কিছু কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হাওয়া উচিত। কাশি, রক্ত মেশা কফ। শ্বাসকষ্ট মুখ চোখ ফুলে যাওয়া পরে বুকে পিঠে ব্যথা। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ সমস্ত লক্ষণ অন্য বিভিন্ন রোগের কারণেও হতে পার। তাই এগুলো হলেই ক্যান্সার হয়েছে ভেবে কেউ যেনো আতংকগ্রস্থ না হয়ে পড়েন।

অনেকে ক্যান্সার শেষ শুরু সময়মত চিকিৎসা নিরাময় যোগ্য। সবচেয়ে বড় কথা ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল এবং দরিদ্র রোগীদের নাগালের বাইরে এর নাশ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক বেশি। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম। ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের যা যা করতেহবে তা হলো জীবন যাপনে পরিবর্তন এনে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো। অনেক বিশেষজ্ঞের মতেক্যান্সরের এক তৃতীয়াংশ কারণ জীবন যাপনের সঙ্গেজড়িতে যা অনেকের ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রণ করে ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে পারেন।
আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন আর ক্যান্সার মানেই অবধাতির মৃত্যু নয়। যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত্র হয়েও যারতবুও শুরুতেই দ্রুত সনাক্ত করতে পারলে তার ভাল চিকিৎসা করা যায় এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভও সম্ভব। একটু সচেতন হলেই ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই ক্যান্সার নামক এই নীরব ঘাতক এবং প্রাণঘাতী ব্যাধির শুরু থেকে রক্ষা পেতেহলে আমাদের যথাযথ শিক্ষা ও সচেতনতা দরকার।
এছাড়া প্রত্যেক সুস্থ ব্যক্তিরই উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো যাতে শরীরে কোন ক্যান্সার দানা বাঁধতে শুরু করলে তা প্রাথমিক অবস্থাতেই দমন করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে বয়স্কদের বৃহদান্ত্র বা কোলন মহিলাদের জরায়ুমুখ ও স্তন,পুরুষের প্রেস্টেট ইত্যাদি নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজনীয়তা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।
দেশে ব্রেস্ট কান্সারেই আক্রান্ত ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ নারী :

দেশে প্রায় ছয় লাখ নারী ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ২৭ থেকে ২৮ শতাংশই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর যে ক’টি কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়তার অন্যতম একটি শিশুকে বুকের দুধ পান না করানো। অনেক সময়েই মেয়েদের মধ্যে স্তনের ক্যান্সার দেখা যায়। এটা সব সময়েই বিপজ্জনক। যে মা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে তার বুকে যন্ত্রনাদায়ক, গরম দলা সম্ভবতঃ স্তমের এবসেস (সংক্রামণ)। স্তনে দলায় ব্যথা না থাকলে ক্যান্সার হতে পারে। ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণ গুলো ধরে ফেলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারি চিকিৎসা করানোর ওপর চিকিৎসায় কাজ হওয়া নির্ভর করে। সাধরণতঃ অপারেশন দরকার হয়। চিকিৎসা যেমনই হোক সেরে যাওয়ার বা সুস্থ হয়ে যওয়ার ব্যাপারে একশ ভাগ নিশ্চয়তা দেখ যায় না। স্তন ক্যান্সার চিহ্নিত করা সম্ভব হলে দ্রুত আধুনিক চিকিৎসার সাহায্য নেয়া ভাল। আমাদের জানা দরকার এ ধরণের রোগ প্রায়শ:শল্য চিকিৎসারপ্রয়োজন হয়। কারণ এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ।

ক্যান্সার নতুন কোন রোগ নয়। তবে চিকিৎসার আগে রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো আমাদের জেনে নেয়া দরকার। অত্যন্ত রুক্ষ্ম, বিদাহী, বাসি খাবার, অত্যাধিক মাংস, মাছ, ডিম, সেবন, বিড়ি সিগারেট পান করলে সাধারণত এই রোগ হয়। তবে এর ব্যতিক্রম ও হতে পারে অর্থাৎ আমিষ আহার না করলেও এই রোগ হতে পারে আবার বিড়ি সিগারেট খান না এমন লোকদের ও ক্যান্সার হতে পারে। অনেকের ধারণা শরীরের সঙ্গে বিপরীত চেস্টা করলে অথবা অসমান বিছনায় শুলেও অনেক সময় স্তন ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া দুগ্ধবাহী নালীতে অবরোধ তৈরী হলে বা স্তনে চোট লাগলেও এ রোগ হতে পারে।

লক্ষণ ঃ স্তন ক্যান্সারে বহুধা ভীষণ ব্যথা বা যন্ত্রণা হয়। আবার কখনো কখনো একেবারেই ব্যথা থাকে না। কখনো কখনো স্পর্শ করলেও ব্যর্থা হয়। স্তন ক্যান্সার হলে স্তন অস্বাভাবিক ফুল যায়। স্তনে ঘা হতে পারে। প্রায়ই যুগলে বড় বড় কিছু যন্ত্রণাহীন মিলফের গুটি থাকে। প্রায়ই স্তনের একটি দলা লক্ষ্যৗ করা যায়। দলাটা স্তনের অন্য অংশও হতে পারে। অথবা স্তনে একটা অস্বভাবিক গর্ত বা টোল অথবা কমলা লেবুর খোসার মত অনেক ছোট গর্ত থাকতে পারে। দলাটা ধীরে ধীরে বাড়ে। প্রথম দিকে সাধারণত ব্যথা করে না বা গরমও হয় না। পরে ব্যথা হতেপারে। বোটা থেকে রক্ত বা অন্য রস বের হতে পারে। আগে যে বোঁটা স্বাভাবিক ছিল তা ভেতর দিকে ঢুকে যেতে পারে। গরম অনুভূত হয় স্তনের আকার গোল বা চ্যাপ্টা শক্ত ও যন্ত্রণায়ক হয়। এই রোগ রোগী খুবই অস্বস্তি ও আলস্য অনুভব করে।
যে মহিলার স্তন ক্যান্সার হয়েছে তার হাত বেশি নড়াচড়া করা বা হাত নাড়িয়ে কোনো কাজকর্ম করা উচিত । খাবারের মধ্যে দুধ, পনীর ,ফল এবং সেগুলোর রস, বাদাম, গমের দালিয়া সবুক শাকসবজি থাকা দরকার। রাগীর চা কফি বিড়ি সিগারেট মদ সেবক বর্জন করতে হবে। এছাড়া কলার ডাল, শিম মুসূর, ডিম, মাংস ইত্যাদি সেবন ও পরিহার করা দরকার।

ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন, রাজশাহী নগরীর মিয়াপাড়ার সাধারণ গ্রন্থাগারে সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশনে। বিশেষজ্ঞরাবলেন, অনেকমা ভুল ধারণা থেকে শিশুকে বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত করেন। এতে মা নিজেও বুঁঝিতে পড়েন এবং শিশুটিকেও ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মা তার শিশুকে বুকের দুধ পান না করানোর কারণে নিজে যেমন স্তর ক্যান্সারের ঝুঁকি নিচ্ছেন, তেমনি রোগ প্রতিরোধসহ নানা ধরনের জটিল রোগ সংক্রামণের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তার প্রিয় সন্তানকেও। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মেয়েদের বক্ষ সৌন্দর্য নষ্ট হয় না বরং না খাওয়ালে ব্রেস্ট ক্যান্সেরের ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি।

এছাড়া প্রত্যেক সুস্থ নারীই উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো যাতে স্তনে কোনো ক্যান্সার দানা বাঁধতে শুরু করলে তা প্রাথমিক অবস্থাতেই দমন করা সম্ভব হয় মহিলাদের স্তন নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।
২০১২ সালে জাতীয় ক্যান্সার ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে আগত নারী রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত (১ হাজার ৩৮৯ জন)।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক,গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট