পেঁপে চাষে পাল্টে গেছে আলাউলের ভাগ্যের চাকা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃঃ
নিভৃত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা আলাউল হক। কৃষি ফসল উৎপাদন করায় তার নেশা ও পেশা। নানা ফসলের পাশাপাশি এ বছর করেছে পেঁপে চাষ। এ পেঁপে বিক্রি করেই দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর মাঠে দেখা যায় থোকা থোকা পেঁপের সমাহার। এসময় কৃষক আলাউল হক তার ক্ষেত পরিচর্যাসহ পেঁপে তোলায় ব্যস্ত ছিলেন।

জানা যায়, একবারপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমান মিয়ার ছেলে আলাউল হক। বয়স প্রায় ৬০ ছুঁইছুঁই করছে। শিক্ষা জীবনে এইচএসসি পাশ তৎকালিন সময়ে সরকারি চাকরির সুযোগ হলেও, সেটি করেননি তিনি। কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করবেন, এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন তার পিতা মজিবর। এ পরামর্শে ধান, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েন। সেই ছাত্র জীবন থেকে এখনো কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। নিজস্ব জমিতে এসব ফসল উৎপাদন করে অনেকটাই স্বাবলম্বি।

এরই ধারবাহিকতায় গত তিন মাস আগে নাসিক প্লান্ট এন্ড পট নামের একটি নার্সারি থেকে উন্নত জাতের পেঁপে চারা সংগ্রহ করা হয়। এসব চারা আড়াই বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা মাফিক পেঁপে চাষে সম্প্রতি গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ধরেছে থোকা থোকা পেঁপে। সেগুলো এখন বাজারজাতের জন্য তোলাও শুরু করা হয়েছে। টানা দুই বছর পেঁপে নেওয়া যাবে। এতে করে অনেকটা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তার। কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আলাউল জানান, সবার সহযোগিতায় অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আরো সফলতার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার খাজানুর রহমান বলেন, পেঁপে একটি অতিবলাভজনক অর্থকরী ফসল। নিরাপদ উদ্দানতাত্বিক ফসল সংগ্রহ ও সংগ্রত্তোর ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় কৃষক আলাউল হক দ্বারা পেঁপে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আলাউল হক একজন অত্যান্ত আদর্শ এবং অগ্রগামী কৃষক। তাকে উপকরণ দেওয়া ও কারিগরি সহায়তা দেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।