পৌরভবন থেকে বেরিয়ে আহত নেতা-কর্মীদের দেখতে কাদের মির্জা

 

সংবাদ জমিন রিপোর্ট ঃঃ

সারারাত পৌর কার্যালয়ে অবস্থান করার পর আজ শুক্রবার (১২ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বাইরে বেরিয়ে আসেন কাদের মির্জা। এরপর বাজার ও বিভিন্ন ইউনিয়নে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে কাদের মির্জা যখন কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন তখন ওই কার্যালয় ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশ, শুক্রবার ও কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ দেখা গেছে। তবে রাতে অবস্থান নেওয়া র‌্যাব সদস্যদের সকালে আর সেখানে দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, দুইটি হত্যাকাণ্ড এবং বারবার সংঘর্ষের পর বসুরহাটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিনের মতো শুক্রবারও পরিস্থিতি ছিল থমথমে। মানুষ আতংকিত। তবে এদিন কিছু দোকানপাট খুলেছে, যানবাহনও কিছুটা চলতে শুরু করেছে। মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসলেও আতঙ্ক কাটেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলয়া তারা সতর্ক আছেন। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এসময় তিনি বলেন দলীয় তদন্তের দায়িত্ব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকে দেয়া হোক। তিনি জেলা কমিটির নেতাদের দিয়ে ঘটনার তদন্ত করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের তদন্তের দায়িত্ব না দেয়ার দাবি জানিয়ে কাদের মির্জা বলেছেন, ‘জেলা কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এখান থেকে তদন্ত দিলে একরাম চৌধুরী, নিজাম হাজারীরা প্রভাবিত করবে। বড়ভাই সেতুমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের কাছে আবেদন, আপনি আমাদের এই ডিভিশনের দুইজন নেতা আছে একজন হচ্ছে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাহেব, আরেকজন আমাদের চাঁদপুরের সুজিত রায় নন্দী। এই দুইজনকে দল থেকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।’‘না হয় ডিজিএফআই আছে, এনএসআই আছে, তারা তদন্ত করুক। ঢাকা থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুক। তারা তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত নেবে, যে শাস্তি দেবে আমি তা মাথা পেতে নেবো। এমন কি ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো কর্মী জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নিক।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজকে মুজাক্কির ও আলাউদ্দিনের হত্যাকা-কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এখানে জজ মিয়াদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এটা কিন্তু কোম্পানীগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না।’

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘অকারণে এখানে কাউকে গ্রেপ্তার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হোক, এটা আমি চাই না। বাদলকে গ্রেপ্তার করেছে, এটার জন্য আমি খুশি নই। রাজনীতি করলে মামলা, গ্রেপ্তার এগুলা রাজনীতিবিদদের জন্য এমন কঠিন বিষয় না। এটা জাতীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। হস্তক্ষেপ করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ অতীতের জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি সাহস করে সত্য কথা বলব। আমি বিষয়টা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাই না। ওনার সাথে আমার দুইবার কথা হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আমি এখন পর্যন্ত ওনার সাথে দেখা করি নাই। আমি চাই এখানে সবাই মিলে দল করুক সুসংগঠিতভাবে।’ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কাদের মির্জার একের পর এক বিস্ফোরক বক্তব্যে দলে দেখা দেয় অস্বস্তি। এক পর্যায়ে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল মাঠে নামেন। তার নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে সেখানে কাদের মির্জার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে গুলিতে মারা যান স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, বোমা হামলা ও গোলাগুলিতে প্রাণ হারান চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের শ্রমজীবী আলাউদ্দিন। কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর কঠোর অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়। এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।