বদলগাছীতে ভুয়া কবিরাজের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ

 

বদলগাছী ( নওগাঁ) প্রতিনিধি ঃঃ
নওগাঁর বদলগাছীর মিঠাপুর ইউনিয়নের চিকিৎসায় ভুয়া কবিরাজের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষ। সর্বরোগ সারানোর কথা বলে ভুয়া কবিরাজ ঝাড়-ফুক, পানিপড়া আর তাবিজ-কবজ গাছ গাছারী দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আর তাদের এ প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করছেন তারই পাতানো স্থানীয় কয়েকজন সহযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের মোঃ খলিলুর রহমানের ৩য় ছেলে শামসুল আলম (৪৮)। ভুয়া কবিরাজ শামসুল হকের বাসায় প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে রোগী আসে। মাত্র পাঁচ টাকায় রোগীর রোগ শুনে মোমবাতির আলো দেখে বলতে পারেন তার কাছে এ রোগের চিকিৎসা আছে। ভুয়া কবিরাজ শামসুল হক এখনো বিয়ে করেনি। কয়েক বছর আগে ও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হঠাৎ পরীর সঙ্গ নিয়ে বড় কবিরাজ বনে গেছেন।তার বাড়িতে নেই কোন ঔষধি গাছ,তবুও তিনি গাছ গাছারী থেকে ঔষধ তৈরী করে সকল রোগের চিকিৎসা প্রদান করে।

ভুয়া কবিরাজ শামসুল হক করোনাসহ বন্ধ্যা নারীদের সন্তান হওয়া, অল্প বয়সে চুল পাকা, প্রতিবন্ধী শিশুদের ভালো করা, প্রেমিক-প্রেমিকাকে পাওয়ে দেয়া, জিন-ভূত তাড়ানো, যেসব নারীদের বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ে হচ্ছে না, ক্যান্সার, ডায়াবেটিকস, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, পিত্তথলিতে পাথর, প্যারালাইস, বাতের ব্যথা, হাঁপানি, সরকারী চাকুরী পাইয়ে দেওয়া পুরুষাজ্ঞ করোনাসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করেন। আর রোগের ধরন দেখে চিকিৎসার ফি নিচ্ছেন ৫ টাকা। রোগ অনুসারে ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে। বাড়ি তৌরী করেছেন ২০ – ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে।

খাদাইল গ্রামের জোমেলা বেগম বলেন, গ্রামের মানুষের কাছে শুনে আমি আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য এসেছি।তিনি আরো বলেন,আমার মেয়ে ২ মাসের গর্ভবতী এবং বাচ্চাটি নষ্ট হয়েছে কোন জিন ভুতের আছর আছে কি? ভন্ড কবিরাজ বলেন তোমার মেয়ের জরায়ু নেই সে স্বামীর কাছে থাকতে পারবে না। এবং আড়াইল গ্রামের মুজাহিদ হোসেন বলেন,সরকারী চাকরী হচ্ছে না,এই জন্য এসেছিলাম। কবিরাজ বলল যদি বিশ্বাস করিস তাহলে সামনে শনিবারে ঔষধ নিয়ে যাবি,সরকারী চাকুরী হবে।বদলগাছী শহিদুল ইসলাম বলেন,বিয়ে হচ্ছে না কবিরাজের কাছে জানতে চাইলে কবিরাজ শনিবারে তৈল পড়া দিতে চেয়েছে।

এ ব্যাপারে ভুয়া কবিরাজ শামসুল হকের শিক্ষাবিদ্যা কত দূর জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভাবের কারণে খুব বেশী পড়াশুনা করতে পারি নি।পরী আমাকে বিয়ে করার পর থেকে কয়েক বছর থেকে বাড়িতে সর্বরোগের ঝাড়-ফু গাছ-গাছারী আর পানি পড়া, তৈল পড়া দিয়ে মানুষের রোগ ভালো করছি। কবিরাজি সনদ দেখতে চাইলে বলেন মেম্বার চেয়ারম্যান মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন রোগীর দেখার জন্য।

তবে সাধারণ মানুষ এখনো বুঝতে পারেনি শামসুল হক কবিরাজি পুরোটাই প্রতারণা। প্রতিনিয়তই প্রশাসনের চোখের সামনে এ প্রতারণা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কানিজ ফারহানা বলেন,আমি কিছুক্ষন আগে জানতে পেরেছি,আমরা আমাদের মতো করে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াছমিন বলেন,প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।