বদলগাছী মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে গড়িমসি

 

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ঃঃ

নওগাঁর বদলগাছী মহিলা কলেজে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে জ্যেষ্ঠতম পাঁচজন শিক্ষককে বাদ দিয়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ১৩তম স্থানে থাকা প্রভাষক মাহবুব আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ২ বছরের মতো অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অন্য কয়েকটি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করায় সভাপতি এম জামান পিন্টু সহ গভর্নিং বডির সদস্যদের প্রতি অভিযোগ উঠেছে। এতে করে কলেজটিতে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। দ্রুত অবৈধ ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করে অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধূরী অবসর নেওয়ায় গত ৫/১২/২০১৯ সালে পদটি শুণ্য হয়। কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেজুলেশন অনুসারে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিত্বে কলেজের পাঁচজন শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম। জ্যেষ্ঠতম পাঁচজন শিক্ষক হলেন সহকারি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, সহকারি অধ্যাপক মমতাজ জাহান, সহকারি অধ্যাপক উম্মে হাবিবা খাতুন, সহকারি অধ্যাপক শায়মিনা খানম এবং সহকারি অধ্যাপক মাসুদ আলম।

কিন্তু গর্ভনিং বডির সভাপতি এম জামান তার নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিধি বহির্ভূতভাবে ১৩তম স্থানে থাকা প্রভাষক মাহবুব আলমকে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দিতে পারেন বলে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে গাফিলতি করছেন। প্রভাষক আবু হেনা মো. হাসনাত গত ১৯/৩/২০ সালে কলেজের গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন শিক্ষক মেহেদী হাসানকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়। বিধি বহির্ভূত ভাবে গর্ভনিং বডির তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধির স্থলে চারজন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।

গত ৮/৬/২০ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে এক বৈঠক করেন এবং নিজের সিদ্ধান্তমতো শিক্ষক প্রতিনিধিনের মেয়াদকাল দুই বছরের স্থলে এক বছর করেন। সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের মনোনিত চারজন শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়ে বেআইনি ও বিধিবহির্ভূত ভাবে কলেজের গর্ভনিং বডির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এভাবে কলেজের কার্যক্রম চলতে থাকলে অচিরেই অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সহকারি অধ্যাপক মমতাজ জাহান অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা বিষয়টি জানতাম না। তারপরও ছয়মাস বা এক বছর পার হয়ে গেলে আর চুপ থাকা যায় না। বর্তমান সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যোগসাজসে যা ইচ্ছে তা করে চলেছেন। আমরা চাই অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরে আসুক।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুব আলম মামুন বলেন, তৎকালিন কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদার আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকরা থাকার পর কেন এবং কিভাবে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা জানা নেই। স্থায়ী অধ্যক্ষের নিয়োগের বিষয়টি গর্ভনিং বডি বলতে পারবে।

তিনি বলেন, তিনজন শিক্ষকের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে দুইজন নির্বাচিত হয়েছিল। পরে সবার সম্মতিক্রমে দুইজনকে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হয়েছে। এজন্য গর্ভনিং বডির তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধির স্থলে চারজন শিক্ষক প্রতিনিধি হয়েছে। শিক্ষক প্রতিনিধি বিভিন্ন মেয়াদে হয়ে থাকে। নিয়মবর্হিভূত কোন কিছুই করা হয়নি। তবে আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। আর যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।

বদলগাছী মহিলা কলেজের সভাপতি এম জামান পিন্টু বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি আগের কমিটি করে গেছেন। গত তিনমাস আগে কলেজের সভাপতি হয়েছি এবং শিক্ষকদের নিয়ে কয়েকটি মিটিং হয়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়মের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। স্থায়ী ভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।