বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লোক কিডনী রোগে ভুগছে

 

সংবাদ জমিন ডেস্ক ঃঃ

বাংলাদেশে ২ কোটিরও অধিক লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের একমাত্র চিকিৎসা ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন, যা ব্যয়বহুল। এদেশের শতকরা ১০ ভাগ লোকও এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন না। পক্ষান্তরে সুস্থ জীবনধারা চর্চা ও কিডনি রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের নিয়মিত কিডনি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। গতকাল দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২১ উপলক্ষে ঢাকায় এক কর্মসূচি পালনকালে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় কিডনি স্যাম্বলিক ২টি সজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করে এবং সাধারণ মানুষকে কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পস স্বল্প খরচে মাসব্যাপী কিডনি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়াও একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ব কিডনি দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য কিডনি রোগের প্রকোপ এবং পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এর ফলে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম হবো এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণে তৎপর হবো। ক্যাম্পস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতি বছর প্রায় ২৪ লাখ মানুষ ক্রনিক কিডনি ডিজিস বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে মারা যাচ্ছে। আকস্মিক কিডনি বিকল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ রোগী আকস্মিক কিডনি বিকলের কারণে মারা যান। বাংলাদেশে ২ কোটিরও অধিক লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের একমাত্র চিকিৎসা ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন, যা এত ব্যয়বহুল যে, এদেশের শতকরা ১০ ভাগ লোকও এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। পক্ষান্তরে সুস্থ জীবনধারা চর্চা ও কিডনি রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের নিয়মিত কিডনি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, সুস্থ জীবন ধারার প্রধান সোপানগুলো হলো নিয়মিত ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম, পরিমিত স্বাস্থ্যসম্মত সুষম খাবার গ্রহণ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার করা, পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা, তীব্র মাত্রার ব্যথার ওষুধ পরিহার করা। তাছাড়া যারা ঝুঁকিতে আছেন যেমন যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বেশি, বংশে কিডনি রোগ আছে, যারা ধূমপায়ী, যারা তীব্র মাত্রার ব্যথার ওষুধ খেয়েছেন, যাদের পূর্বে কোনো কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের বছরে অন্তত ২ বার প্রস্রাব ও রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।

কেননা প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ক্যাম্পস-এর নির্বাহী পরিচালক রেজওয়ান সালেহীন বলেন, একটি বিষয় সহজেই অনুমেয় যে, মানুষ কিডনি রোগ প্রতিরোধে চেষ্টা নিবে তখনই যখন সে জানবে, কিডনি রোগ কি? তার ভয়াবহতা এবং এর আর্থিক, পারিবারিক ক্ষতিসমূহ কি? সুতরাং মানুষকে জানানো কিংবা সচেতন করা এটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজটিই বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে নিরলসভাবে করে চলেছে ক্যাম্পস। আমরা গর্বিত যে,

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি (আইএসএন) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব কিডনি ফাউন্ডেশন (আইএফকেএফ)-এর মতো নেতৃস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংস্থাও ক্যাম্পস-এর কাজকে মূল্যায়ন করেছে। এটা আমাদের প্রেরণা, আমরা এগিয়ে যাবো তবে এক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষক খুবই জরুরি।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা আরো বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য সুস্থ কিডনির বিকল্প নেই। নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, কিশোর, যুবক সবার জন্য এটি প্রযোজ্য। আর সুস্থ কিডনির জন্য চাই জনসচেতনতা। উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব কিডনি ফাইন্ডেশন-এর যৌথ উদ্যোগে সারা পৃথিবীব্যাপী বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়।