বাংলা ছড়া সাহিত্যের দিকপাল ছড়া সম্রাট কবি সুকুমার বড়ুয়া

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের প্রখ্যাত ছড়াকার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছড়া রচনায় ব্যাপৃত রয়েছেন। বিষয়-বৈচিত্র্য,সরস উপস্থাপনা,ছন্দ ও অন্তমিলের অপূর্ব সমন্বয় তাঁর ছড়াকে করেছে স্বতন্ত্র। প্রাঞ্জল ভাষায় আটপৌরে বিষয়কেও তিনি ছড়ায় ভিন্নমাত্রা দেন। তাঁর ছড়া একাধারে বুদ্ধিদীপ্ত,তীক্ষè,শাণিত আবার কোমলও বটে।

সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সর্বানন্দ বড়ুয়া এবং মা কিরণ বালা বড়ুয়া। চট্টগ্রামের গহিরা গ্রামের শিক্ষক প্রতাপ চন্দ্র বড়ুয়ার মেয়ে ননী বালার সাথে ১৯৬৪ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। ব্যক্তিগত জীবনে সুকুমার বড়ুয়া তিন মেয়ে এবং এক ছেলের জনক।

সুকুমার বড়ুয়া বর্ণজ্ঞান থেকে প্রথম শ্রেনি পর্যন্ত তিনি মামা বাড়ির স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এরপর বড় দিদির বাড়িতে এসে তিনি ডাবুয়া খালের পাশে ‘ডাবুয়া স্কুল’ এ ভর্তি হন৷ কিন্তু সেই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাঁর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। অল্প বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় মেসে কাজ করেছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য একটা সময় তিনি ফলমূল, আইসক্রিম, বুট বাদাম ইত্যাদি ফেরী করে বিক্রি করেছেন।

১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চৌষট্টি টাকা বেতনের চাকুরী হয় তার। ১৯৭৪ সালে পদোন্নতি হয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া তার ছড়াগুলো বুদ্ধিদীপ্ত,তীক্ষè,শানিত কিন্তু কোমল শব্দে লেখা। তিনি বাংলা সাহিত্যের ছড়া ভান্ডার। তাঁর ছড়ায় বিষয়-বৈচিত্র্য, সরস উপস্থাপনা, ছন্দ ও অন্তমিলের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। প্রাঞ্জল ভাষায় আটপৌরে বিষয়কেও তিনি তার ছড়ায় ভিন্নমাত্রা দিয়েছেন। বর্তমানে শিশুসাহিত্যকর্ম নিয়ে সুকুমার বড়ুয়ার তরুণদের প্রতি উপদেশ- তোমরা বলবে কম, লিখবে কম। কিন্তু তোমরা ভাববে বেশি।

এ ছড়াকারের পড়াশোনা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে তেমনটা এগোইনি। মামাবাড়ির স্কুলে হাতেখড়ি শেষে সুকুমার বড়দিদির বাড়িতে এসে ‘ডাবুয়া স্কুল’-এ ভর্তি হন কিন্তু সেই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। অল্প বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় মেসে কাজ করেছেন। সুকুমার বড়ুয়া প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে ‘ছড়ারাজ’,‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় এসেছে।‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’,‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’,‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, সুকমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (২ খন্ড),‘যুক্তবর্ণ‘, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ সুকুমার বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই। ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার ২০১৭ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা,অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা তিনি পেয়েছেন। সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের নন্দিত ছড়াশিল্পী। তাঁর ছন্দকুশলতা, ভাবনার স্বকীয়তা এবং বিষয়ের চমক পাঠকের মনে মুহূর্তেই আনন্দ সঞ্চার করে।

সুকুমার বড়ুয়াকে গ্রামের লোকেরা বাবার দেয় ‘বিলাতী’ নামে ডাকতো। পরে মামা ডাকতেন সুকুমার। মামার বাড়ির প্রভাব বেশি থাকায় সেই থেকে নাম হয় ‘সুকুমার’। ছড়াশিল্পী সুকুমার বড়ুয়া অনেক সংবর্ধনা ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক, শব্দপাঠ পদক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মাননা,রাউজান ক্লাব সংবর্ধনাসহ আরো অসংখ্য সংবর্ধনা,সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেন।

সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হওয়ার পরেও ছড়াকে যখন অনেক বোদ্ধাই এর ঐতিহাসিক ও লৌকিক ভূমিকা বিস্মৃত হন, তখন আমাদের সামনে উজ্জ্বল আলোয় এগিয়ে আসে বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়ার কালজয়ী ছড়াসমস্ত। ছড়ার যাবতীয় বৈভব অর্জন করার পরেও সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া হয়ে ওঠে আমাদেরই ঘরগেরস্থের চূড়ান্ত কথামালা, না বলা বেদনার মূল্যবান বাণী, আনন্দের অনুচ্ছারিত হাসিরেখা। পথচলার যাবতীয় রসদ থেকে,মানুষেরই কোলাহল থেকে,পাশের মানুষটির ছায়া থেকে, দূরের আকাশের জোছনা থেকে তিনি নিয়ে আসেন ছড়ার রূপ-রস-অবয়ব। আমাদেরই অলক্ষে বেড়ে ওঠা অভ্যাসটি কিংবা স্বভাবদোষের মুদ্রাটি তুমুলভাবে মূর্ত হয় সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ায়। মোহময় অন্তমিল ও শব্দঝঙ্কারে দৃশ্যমান হয়ে থাকে সমাজের নানাবিধ দূষণ ও সম্ভাবনা। তাঁর ছড়ায় অবগাহন করতে করতে আমাদেরই মরাচোখ আবিষ্কার করে নানা সুরত,নানা আকাক্সক্ষা ও আশঙ্কা।

জনজীবনের মূল্যহীন ঘটনা বা কৃষ্টিতে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া রচনার প্রধান অবলম্বন। দশের চোখের ভেতরে থেকেও তিনি অনন্য হয়ে ছড়ায় আঁকতে থাকেন আমাদের শৈশব-চারপাশ-বিশ্বাস-প্রতারণার বিবিধ বেলুন। আমাদের হাহাকার তার ছড়ায় পায় মূর্ততা, আনন্দের বাড়াবাড়ি তার ছড়ায় আশ্রয় নিয়েই পায় কলহাসির সাহস। এ শিল্পীর বেঁচে থাকার কিংবা শিল্পের উঠোনে বাহাদুরি ফলানোর একমাত্র মাধ্যম ছড়া। ফলে যাবতীয় মনোযোগের তীব্রতা নিয়েই সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে পায় শুধু ছড়া-ই বাংলাসাহিত্য গর্ব করার মতোন সব পঙ্ক্তিতে নিজের নাম খোদাই করে নেন নিজেরই অজান্তে। আমাদের অভিভাবক সমাজে সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্যে যে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা,তারই নজির দেখতে পাই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়, প্রশ্নপত্র-রেজাল্ট ফাঁসের মাধ্যমে।কমে আসছে বিনোদনের জায়গা,খেলার মাঠ। কেবলই পড়া পড়া আর পড়া। পাঠ্যবইয়েই যতো নজর আমাদের। আমরা চাই সন্তান গোল্ডেন এ প্লাস পাক, প্রকৃত শিক্ষিত হওয়ার কথা দূরস্ত। কিন্তু এরপরেও আমরা আশা করি, আমাদের শিক্ষার হার বাড়ুক, আমাদের জনবোঝা রূপান্তরিত হোক জনসম্পদে। যার জন্য বিকল্প নেই শিক্ষার। ‘এটুক শুধু চাই’ ছড়ায় দেখা যাক শিক্ষিত হওয়ার প্রবল বাসনা: এটুক শুধু চাই একটু আলো ছড়িয়ে পড়ুক যেথায় আলো নাই। অবুঝগুলো বুঝতে পারুক জানতে পারুক তারা, মূর্খ খেতাব গ্রহণ করে জীবন কাটায় যারা। একটু হাসি ছড়িয়ে পড়ুক কান্নাঝরা মুখে, এটুক চাওয়া রয় যেনো গো নিত্য আমার বুকে।

‘শহরের রাস্তা’ ছড়ায় নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক বাস্তবতাকে চিত্রিত করে যান সুকুমার বড়ুয়া।তাঁর ছড়ার অনন্য বৈশিষ্ট্য অনুপ্রাসের দুরন্ত খেলা,শব্দ নির্বাচনের মুন্সিয়ানা; তাতে জীবনের বিপুল অভিজ্ঞতা যোগ করে বাড়তি সৌন্দর্য, যা একেবারেই অভূতপূর্ব ছড়াসাহিত্যের দুর্লভ সংযোজন। এরপরেও সুকুমার বড়ুয়া ভুলে যান না ছড়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিশুআনন্দের কথা। শিশুরা দেবদূত, তারা প্রকৃতির ছন্দময়তার সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে চায় তাদের জীবনের প্রথম পাঠ, প্রথম শোনা ও শেখা। ছড়ার সঙ্গে শ্রুতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে বলেই ছড়াকারকে সচেতন থাকতে হয় ছন্দের ব্যাপারে,বুনন ও অন্যান্য ব্যাকরণের দিকগুলোয়। তাছাড়া ঐতিহ্যগতভাবেই আমরা বেড়ে ওঠি ছড়া শুনে, ছন্দের ঝঙ্কারে। শিল্পের অন্যান্য মহার্ঘ্য মাধ্যম থাকার পরেও ছড়াকেই কেন বেচে নেয় আমাদের মা-দিদিরা? তার প্রধানতম কারণ ছন্দশ্রুতি ও আনন্দ। উদ্ভট আনন্দের ব্যাপারটি ছড়া যেভাবে ধরতে পারে তা অন্য মাধ্যমে অপ্রতুল।

‘অসময়ে মেহমান,ঘরে ঢুকে বসে যান,বোঝালাম ঝামেলার,যতগুলো দিক আছে,তিনি হেসে বললেন,ঠিক আছে ঠিক আছে। রেশনের পচা চাল,টলটলে বাসি ডাল,থালাটাও ভাঙা-চোরা,বাটিটাও লিক আছে,খেতে বসে জানালেন,ঠিক আছে ঠিক আছে। এভাবে ছন্দে ছন্দে রাউজান মাতিয়ে গেলেন ছড়া জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া। গরু ধাইয়ে, অবুকরে বুক,কোয়াল খাইয়ে, খেলা শুরু ফাইনাল ইত্যাদি মজার মজার ছড়া আর ছন্দানন্দই শুধু নয়, শুনিয়ে গেলেন অমৃত বাণীও।

মূর্খতা অবশ্যই পাপ। শিক্ষার আলোয় জ্বলে উঠতে না পারলে মানবিক সুকুমার বৃত্তিগুলোর বিকাশ হয় না। অবশ্য ছড়াটি রচনা হয় মে ১৯৬৩ সালে, তার প্রেক্ষাপট থেকে আমরা অনেক দূরে আছি, অনেক এগিয়ে আছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশের মানুষ মুক্ত হয়েছে, বেড়েই চলছে শিক্ষার হার। তবে আরও অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের। এত সব প্রয়োজনীয়তার ভেতরেও জেগে ওঠে গোপন অভিলাষ। শিশুদের মানসের সঙ্গে একাকার হয়ে যায় আমাদের মৌল চাওয়া।

আমাদের স্মরণে রাখা দরকার, ছড়া শুধু শিশুদের জন্যেই নয়, বড়দের তৃঞ্চা আর জিজ্ঞাসার জবাব দিয়ে যায় একই সঙ্গে। অভিধাননির্ভর শব্দে নয়, চলার পথের টুংটাং,চাওয়া-পাওয়ার খুচরো শব্দবন্দে অলঙ্কৃত সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া। গ্রাম-শহরের এ বিভেদ অথবা কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েও আমাদের নগরমুখী হতে হয় নানা কারণেই। স্বাভাবিকভাবেই নগরের সঙ্গে গ্রামের ফারাক আকাশ-পাতাল। অবশ্য উপশহর আর প্রযুক্তিগত সুবিধার দরুণ ব্যবধান কমে আসলেও আমরা দেখে ওঠি এরকম বাস্তবতা।

ছড়া বাংলা সাহিত্যের একটি প্রাচীন শাখা। সাহিত্যের বিবর্তনের সাথে সাথে ছড়ার বিকাশ ও উৎকর্ষও আমরা দেখতে পাই। প্রাচীনকালে সাহিত্য রচিত হতো মুখে মুখে আর ছড়াই হলো সাহিত্যের প্রথম শাখা এবং ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যমে। সত্য প্রকাশে কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ছড়াকারেরা সদাসচেষ্ট ছিলেন।ধীর্ঘকাল ধরে ‘ছেলেভুলানো ছড়া’,‘ঘুম পাড়ানিয়া ছড়া’ ইত্যাদি ছড়া প্রচলিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের যে কয়েকজন ছড়াশিল্পী বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাঁদের অন্যতম ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।
আমাদের গতিময় জীবনে ছড়া লুকিয়ে থাকে পড়তে পড়তে। কখনো প্রকাশ্য হয়ে ওঠে খিলখিলিয়ে হেসে,কখনো নিরবব্যাধির মহৌষধ হয়ে নিরাময় করে লুকানো আর্বজনা। আমাদের সাহিত্যের সবচেয়ে পুরনো এ মাধ্যমটির রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। প্রায় দেড় হাজার বছরের এ পথযাত্রায় অনেকেই ছড়াকে করেছেন সমৃদ্ধ। যাত্রাপথের সবাই পথপ্রদর্শকের মর্যাদায় অভিষিক্ত হতে না পারলেও তাদেরও থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।অবাক বিস্ময়ে আমাদের লক্ষ করতে হয়,কেউ কেউ ছড়ার গৌরবময় পথযাত্রায় হয়ে ওঠেন মহিরূহ।ছড়াবিষয়ক ভিন্নধর্মী চিন্তাপুঞ্জ, শব্দপ্রয়োগের যুগসচেতনতা,অন্ত্যমিলের চমৎকারিত্ব ও একেবারেই নতুন উপাদানে ছড়ার শরীর নির্মাণের কৌশল তাদের নিয়ে যায় আলাদা আসনে। যা ছড়ার পাঠক-শিল্পীকে নাড়া দেয় ব্যাপকভাবে। ছড়া জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া বাংলা ছড়াসাহিত্যের অবশ্যম্ভাবী স্তম্ভের একজন, যিনি একাই একটি যুগকে নিরন্তর সাধনা আর শিল্পের কাছে নতজানু তাঁকে করে তুলেছে অদ্বিতীয় ছড়াশিল্পী হিসেবে।

লেখকঃ গবেষক,সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,
চেয়ারম্যান গ্রীণ ক্লাব, মানিকগঞ্জ,সাংবাদিক ও কলামিস্ট