বিখ্যাত ব্যক্তি মানেই সফল ব্যক্তি কিন্তু সফল ব্যক্তি মানেই বিখ্যাত নয়

 

মো. আলতাফ হোসেন ঃঃ
সফলতা একটি সর্বজনীন শব্দ। যে কেউ যে কোনো কাজে সফল হতে পারেন। একজন চোর, ডাকাত কর্মে সফলতা অর্জন করতে পারে। সফলতার সাথে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা পারিপাশির্^ক সুযোগ সুবিধার গভীর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম; দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দ্বারা একজন মানুষ যেমন সফল হতে পারেন; তেমনি হঠাৎ কোনো সুযোগ, পদ পদবি বা কারো দয়া দাক্ষিণ্য ও করুণার দানে যে কেউ রাতারাতি সফল বলে বিবেচিত হতে পারেন।

আধুনিক সমাজে কথিত সফল মানুষের মূল কীর্তিকলাপ যে ঘুষ, দুর্নীতি, চাটুকারিতা, অন্যায়, অপরাধসহ নানা কুকর্মতা নতুন করে বলার তেমন কোনো অবকাশ নেই। সফলতা হলো মানুষের ইচ্ছে ও আকাঙ্খার বাস্তব রূপ; যার সাথে নীতি ও আদর্শের কোনো সংযোগ থাকে না। এ কারণে উত্তম মানুষেরা কোনো দিন সফলতার পেছনে ছোটেন না। তারা তাদের আপন কর্মের সার্থকতা খোঁজেন।

সার্থক হলো এমন একটি আনন্দিত সফলতা যা লাভ করে মানুষ সমাজে নিজেকে সম্মানিত; মর্যাদাবান এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ লাভ করে। সব সফলতার ইতিহাস চমৎকারভাবে খোদাই করা থাকে মানুষের অন্তরে এবং লিখিত দলিলে।
যাবতীয় কাজের ফলাফল নিয়তের ওপরই নির্ভর করে। (বোখারী ও মুসলিম)

হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার কাছ পর্যন্ত পৌঁছার পথে এক বিঘত অগ্রসর হবে। আমি তার প্রতি এক হাত অগ্রসর হবো, যে এক হাত অগ্রসর হবে তার প্রতি আমি দু’হাত অগ্রসর হবো; যে ব্যক্তি আমার প্রতি ধীরে চলবে আমি তার প্রতি দ্রুত বেগে চলে আসবো। আপনার সৌন্দর্য ব্যক্তিত্ব মোহনীয়তা আর কমণীয়তা ফুটে ওঠে শরীরের সামনের অংশকে কেন্দ্র করে। কাজেই এগিয়ে চলাই হলো শরীরের ধর্ম এবং এগিয়ে চলার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা খুঁজতে হবে। আপনি এমনভাবে কাজ করবেন যেনো নিজে এগোতে পারেন । আপনি এমন সঙ্গী পরিহার করুন যারা তাদের নেতিবাচক মনোভাব, কথাবার্তা এবং কাজ কর্ম দ্বারা আপনাকে অবদমিত করার চেষ্টা করে অথবা আপনাকে পেছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা চালায়। অতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার পথে আপনার জীবনের যেসব উপকরণ। অভ্যাস এবং চিন্তা চেতনাকে বোঝা বলে মনে হয়, সেগুলোকে ফেলে অথবা ঝেড়ে ফেলুন। যে সব স্মৃতি আপনাকে বারবার পেছনের দিকে নিয়ে যায় সেগুলোকে ঝেড়ে ফেলুন, ভুলে যান অথবা বাদ দিন। কর্ম ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন এবং জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য ইতি বয়সের কিংবদন্তী কাহিনী, উপাখ্যান চরিত্রগুলো এবং মূল্যবান দলিল দন্তাবেজ অধ্যায়ণ করতে পারেন। আপনি বিজ্ঞান, ভূগোল এবং ইতিহাস অধ্যায়নের মাধ্যমে চিন্তাকে প্রসারিত এবং মস্তিষ্কে শক্তিশালী করতে পারেন। উদার ও চরিত্রবান হওয়ার জন্য মহৎ শিল্পকর্ম এবং উণ্নত চরিত্রবান হওয়ার জন্য মহৎ শিল্পকর্ম এবং উণ্নত চরিত্রের মানব মন্ডলীর জীবন চরিত্রকে আপনার সঙ্গী করে নিতে পারেন। আপনার পেশাটি যদি খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়, তবে আপনি মহান সৈনিক জেনারেল সান ঝু রচিত ‘আর্ট অব ওয়ার’ পড়তি পারেন, যা তিনি মানব জাতির জন্য রচনা করেছিলেন আড়াই হাজার বছর আগে। বইটি কেবল বিশ^জয়ী সামরিক নায়ক- মহানায়কদের পাঠ্যসূচীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি- পৃথিবীর তাবৎ করপোরেট হাউজ, রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি এবং সংগঠনগুলো ‘আর্ট অব ওয়ার’ কে সম্মান করে ‘জীবন যুদ্ধের বাইবেল রূপে।

আপনি এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার আগে নিজের মনকে স্থির করুন নিজের বিশ^াস পাকাপোক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও সফল মানুষজনের সংস্পর্শে যান। তারপর স্বপ্ন দেখতে থাকুন। ইতিবাচক মনোভাবাপণ্ন বন্ধু-বান্ধবের সন্ধ্যান করুন এবং যেকোনো মূল্যে তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক চমৎকার পর্যায়ে উণ্নীত করুন। এগিয়ে যাওয়ার জন্য সব সময়ই আপনার দরকার পড়বে উত্তম একটি বাহনের। আপনার কাজের ধরণ অনুযায়ী আপনার বাহনটি হতে পারে পুঁজি, কায়িক শ্রম, দক্ষতা, সাহস, চেষ্টা, ধৈর্য শক্তি অথবা যন্ত্র বা হাতিয়ার।
“হাফিজ ইবনে হাজার (রা.) বলেন, অর্থাৎ চেষ্টা হলো সাফল্য এবং সুনামের জনন্ ীআর সাধনা হলো কোনো একটি বিষয়বস্তু সম্পর্কে একাগ্রচিত্তে খোঁজা, তালাশ করা কিংবা ধ্যান অনুসন্ধ্যান করা; যারা সাধনা করেন তাদেরকে সাধক বলা হয়। হযরত ওমর (রা.) বলেন, অর্থাৎ সাধক হওয়ার পূর্বে বিদ্যা অর্জন করে। সাধনার লক্ষ হলো স্রষ্টার দিদার বা সাক্ষাৎ লাভ করা, সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার সম্পর্ক দিদার বা সাক্ষাৎ লাভ করা, সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার সম্পর্ক বোঝা। তার সিফাতের (গুণ) পরিচয় জানা। নিজের নফসকে নফসের কুপ্রবৃত্তি দমন করা। সর্বোপরি আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা।

যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে পাওয়ার সাধনা পথে নিজের পথ ভাঙবে (সে কর্ম প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে), তার কাছে বোরাক উপস্থিত হবে; (সে এর ওপর আরোহণ পূর্বক আল্লাহ্র নৈকট্যে পৌঁছার সৌভাগ্য লাভ) করবে। আপনি এ বাহনটির সাথে হৃদ্যতা গড়ে তুলুন এবং তাকে একান্ত নিজের সাথে মানিয়ে ফেলুন অনেকটা হংস মিথুনের মতো করো। মনে রাখবেন কাজ মানেই প্রতিযোগিতা এবং ক্ষেত্র বিশেষ যুদ্ধও বটে। যুদ্ধের ময়দানের সব নিয়ম কানুনই কর্মক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশেষ করে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, আনুগত্য, একাগ্রতা, সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছাড়া যেমন যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোনো কিচু অর্জন করা সম্ভব নয়, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য। যুদ্ধের ময়দানে আপনাকে হয় সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ করতে হবে নতুন হতে হবে সেনাপতি। এক্ষেত্রে যদি সেনাপতি হতে যায় অথবা সেনাপতি যদি সৈনিকের মনমানুসিকতা ধারণ করে, তার বিপর্যয় ঘটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কর্মক্ষেত্রে আপনাকে আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আপনি যদি শ্রমিক, কর্মী, কেরাণী অথবা পিয়ন ড্রাইভার। দারোয়ান ইত্যাদি হয়ে থাকেন তবে কোনো অবস্থায়ই যোগ্যতা অর্জন ব্যতিরেকে আপনার ম্যানেজার, টিম লীভার অথবা মালিকের মতো ভাবসাব দেখাবেন না। অন্য দিকে আপনি যদি নেতা অথবা উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন, তবে আপনার মনমানসিকতা এবং আচরণ অনেক উণ্নতমানের হওয়া আবশ্যক। জীবনকে সার্থক করার প্রথম মূল মন্ত্রটির নাম পরিশ্রম। পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।

আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র কুরআনের সূরা ইনশিরার ৫ নাম্বার আয়াতে এরশাদ করেন- আল্লাহ্ পরিশ্রমের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না। হযরত আলী (রা.) বলেন, অধ্যবসার ও সাফল্য পরস্পরের দূরত্বকে কমিয়ে দেয়। যারা সময়েরে সদ্ব্যবহার করে তারাই জীবনে সফলতা লাভ করে। (হযরত আলী) কোনো মানুষ কোনো কালে পরিশ্রম ব্যতিরেকে জীবনের উণ্নয়ন ঘটাতে পারে না। পরিশ্রমের রয়েছে বাহারি প্রকার ধরণ আর বৈশিষ্ট্য। সাধারণের শরীরের বা দেহের শ্রমকে পরিশ্রম বলা হলেও মানসিক শ্রম ও মেধা শ্রমের গুরুত্বও কম নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে অনেক বেশি ।

আপনি যদি সার্থক হতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই কাজ করতে হবে। এমন কাজ করবেন যার অনুমোদন ও স্বীকৃতি রয়েছে। কাজের অবশ্রই বিনিময়মূল্য থাকতে হবে। নিস্ফল শ্রম অথবা মূল্যহীন শ্রম দ্বারা জীবন চালানো যায় না। একমাত্র কাজই পারে আপনার শরীর, মন ও মস্তিষ্ককে সুখী, সমৃদ্ধ আর সুস্থ রাখতে কাজের বিনিময় মূল্যই আপনার জীবিকা। কাজের ফলে দেহে যে ক্ষুধা ও ক্লান্তি সৃষ্টি হয় তা আপনার সব শারীরিক এবং মানসিক রোগের মহৌষধ। আপনার দুঃখ, বেদনা, বিনোদন, আহার নিদ্রা, বিশ্রাম ইত্যাদি সব কিছুর মূলে রয়েছে কাজ অথবা অকাজ। আপনি যতোদিন কাজের উপযোগী থাকবেন, ঠিক ততোদিন পর্যন্ত’ দুনিয়া আপনাকে স্বাগত জানাবে। কাজের সক্ষমতা হারানোর সাথে সাথে আপনি দুনিয়ার সবার কাছে এমন বোঝায় পরিণত হবেন যে বোঝাটি মাটি চাপা না দেয়া পর্যন্ত দুনিয়াবাসী স্বস্তি ও শান্তি লাভ করবেনা।

আমাদের জীবনে সফল ও সার্থকতার কথা আমরা শুনি এবং এর ব্যবহার দেখি কিন্তু সফলতা ও সার্থকতা কি জিনিস তা আমরা আলাদা করে ভেবে দেখিনি। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ আবু সাঈদ তার এক বক্তৃতায় বলেছেন “সফলতা খুব সস্তা শব্দ” কিন্তু সার্থকতা খুব প্রয়োজনীয় বিষয়। কখনো কখনো সফল না হলে সার্থক হওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সফলতার মূল্য আছে; সেটা অবার্চিন নয়। কিন্তু আমাদের আল্টিমেট লক্ষ্য থাকা উচিত সার্থক হওয়া। আমাদের লক্ষ্য যদি শুধু সফল হয় তখন আমরা যেকোনো উপায়ে হয়তো তা পেতে চাইবো। আর আমাদের লক্ষ্য যখন সার্থক হওয়া হবে তখন আমরা অবশ্যই তা সঠিক উপায়ে পেতে চাইবো। আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারি সেটা হলো সব সফলতা মানে সার্থকতা নয়, কিন্তু সব সার্থকতার সাথে একটি সফলতার গল্পও রয়েছে।

এই পৃথিবীতে দুই শ্রেণীর মানুষ আছে। এক যারা চিন্তা করে জীবন যেমন চলছে চলুক, নতুন কিছু করার দরকার নেই, শুধু খাও, পরো আর বাঁচো। দুই, যারা চিন্তা করে পুরাতন অপসংস্কৃতির কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেঙ্গে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করার নতুন এক পৃথিবী গড়ার। এক নম্বর শ্রেণীর মানুষ যারা তাদের জীবন যাত্রা হয় সাধারণ মানের, এরা সাধারণত অনুসরণ করে এবং দ্বিতীয় নম্বর ম্রেণীর মানুষ যারা তার উণ্নত জীবন যাপন করে। এরাই সাধারণত নেতৃত্ব দেয়। এরাই হয় বিখ্যাত। এই চমৎকার পৃথিবীতে আমরা সবাই বড় হতে চাই। সফল হতে চাই বিখ্যাত হতে চাই, অনেকেই নামকরা নায়ক, গায়ক, চলচিত্রকা, নেতা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। কিন্তু এ সবই হওয়া সম্ভব যদি আপনি জানেন আপনার বেতর সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত কি এক চমৎকার শক্তি আছে যার দ্বারা আপনি সকল বাঁধা অতিক্রম করে ছিনিয়ে আনতে পারেন যে কোনো সফলতা হতে পারেন সবার সেরা, জনপ্রিয়, বিখ্যাত। সফলতা প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রতিটি মানুষ সফল হবার উদ্দেশ্যেই জন্মগ্রহণ করে। মহান আল্লাহ্পাক এমনেতেই মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির সেরা জীব) বলেন নি। মহান আল্লাহ্পাক পবিত্র কুরআনে এরশাদ করছেন- “আমি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর আকারে সৃষ্টি করেছি।” (সুতা-আত-তীন)

তিনি মানুষকে পৃথিবীর সকল বস্তুর ওপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দান করেছেন। কিন্তু তারপরও আমরা কেনো অসহায়, হতাশ, ব্যর্থ। এর কারণ একটাই নিেেজকে না জানা মানুষের ক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞানতা। সৃষ্টির শুরু হতে এখন পর্যন্ত যতো মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন তারা সবাই কি সফল হতে পেরেছেন,মনীষী হতে পেরেছেন, বিখ্যাত, প্রখ্যাত হতে পেরেছেন, পারেন নি। কারণ- একটাই নিজেকে না জানা। নিজেকে জানো। নিজের সম্পর্কে না জেনে সারা পৃথিবীর সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা কি সময় নষ্ট ও বোকামীল কাজ নয়? সফলতা কোনো আকস্মিক ব্যাপার নয়। সফলতা হলো কয়েকটি সঠিক কাজের ক্রমাগত পুণরাবৃত্তি। সঠিক কাজ করে যেতে থাকলে বা যে কাজটি করছেন তা যদি সঠিকভাবে সম্পাদক করতে থাকেন তাহলেই পৌঁছে যাচ্ছেন সফলতার ধারে। সফলতা মানে ব্যর্থতায় অনুপস্থিতি নয়, সফলতা হলো, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন। পৃথিবীর সকল সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখবেন সবচেয়ে লক্ষ্য জনক বিষয়টি হলো প্রত্যেক সফল ব্যক্তি বিখ্যাত ব্যক্তি নিজেরাই তাদের সফলতার রাস্তা তৈরি করে সফল হয়েছেন। মানুষ বড় হয়ে নিজের চেষ্টায় নিজের প্রভাবে নিজের বলে। সাধারণত প্রতিটি মানুষ তার নিজের ব্যক্তিগত সফলতার জন্য কাজ করে সবচেয়ে বেশি। ব্যক্তিগত সফলতা লাভ করার জন্য ব্যক্তিটিকে অবশ্যই সফল গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে। সফলতার সংজ্ঞা প্রতিটি মানুষের কাছেই ভিণ্ন। সব মানুষই কোনো একক বিষয়ে সফলতা চায় না। তাই সফলতা সম্পর্কে অনেক পর্যবেক্ষণ করে তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ একক পোষণ করেছেন। তা হলো- ১। আপনি যা চান তা অর্জন করাই সফলতা, ২। সফলতার কোনো গন্তব্য স্থান নেই; এটা একটি ক্রমাগত যাত্রা, ৩। সফলতা তখনই আসে যখন পরিশ্রম ও সুযোগ মিলে যায়।

“ফান্সিস বেকন বলেছেন- একজন জ্ঞানী লোক সুযোগ যতটুকু আছে তার থেকেও বেশি সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিটি মানুষের জীবনে ভালো সময় খারাপ সময় দু’টোই আসে। ভালো সময়ের সবচেয়ে খারাপ দিক হলো যে এটা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আর খারাপ সময়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো যে এটাও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। সু-সময় সব সময় আসে না এটাতে ধরে রাখতে হয়। সফলতা যেভাবেই যে কারণেই আসুক না কেনো আমরা যদি সফলতাকে ধরে রাখতে পারি তাহলে সেই সফলতাটাও একদিন মূলহীন হয়ে পড়বে।
বিখ্যাত ব্যক্তি মানেই সফল ব্যক্তি কিন্তু সফল ব্যক্তি মানেই বিখ্যাত নয়। বিখ্যাত ব্যক্তি সেই হতে পারে যে ক্রমাগত অধিকাংশ কাজে সফলতা লাভ করে।

সফলতা সেটাই যা সবার জন্য গৌরব বয়ে আনে। শুধু সফলতাই নয় চাই সার্থকতা। কারণ আমাদের আশে-পাশে এমন অনেক মানুষকেই দেখি যারা তাদের কর্ম জীবনে অনেক সফল কিন্তু পারিপারিক বা সাংসারিক জীবনে ব্যর্থ। আবার অনেক দুশ্চরিত্র, দুর্নীতিবাজ, দুষ্ট লোককেও সফল হতে দেখি। একজন সফল ব্যক্তি সার্থক নাও হতে পারে। কিন্তু একজন সার্থক ব্যক্তি অবশ্যই সফল, মিডিয়ার কারণে অনেক মানুষকেই সফল মনে হতে পারে; কিন্তু আসলে তাদের কোনো বড় অর্জন বা সার্থকতা নেই। তারা প্রচারে সফল কিন্তু সার্থক নন।
মানুষকে দখোনোর জন্য সফল হয়ে কোনো লাভ নেই। মানসিক অশান্তিতে থাকলে সফলতা তখন বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সফল হতে গিয়ে কখনো বিবেকের বোঝা মাথায় চাপাবেন না। প্রতিটি ফুল জন্ম নেয় সুবাস দেবার জন্য, প্রতিটি পাখি জন্ম নেয়, মুক্ত আকাশে উড়বার জন্য আর প্রতিটি মানুষ জন্ম নেয় পৃথিবীকে বদলে দেবার জন্য।

“সফলতা সুখের চাবিকাঠি নয় বরং সুখ হলো সফলতার চাবিকাঠি। আপনার কাজকে আপনার মনে প্রাণে ভালবাসতে পারেন অর্থাৎ যদি আপনি নিজের কাজ নিয়ে সুখী হন তবে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।”মহান আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন, মানুষ যখন পথ চেনার জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম করে তখন আমি (আল্লাহ্) তাঁদেরকে আমার পথ চিনিয়ে থাকি। সূরা আন কাবুত: ৭

লেখক: সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক,গবেষক,সাংবাদিক,কলামিস্ট