ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দাফন শুক্রবার

 

সংবাদ জমিন ডেস্ক ঃঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার কথা রয়েছে। মরদেহের সঙ্গে তার স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদও দেশে ফিরবেন। মঙ্গলবার দিনগত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শায়রুল কবির জানান, মরদেহ দেশে আসার পর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

এরপর শুক্রবার (১৯ মার্চ) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় জানাজা শেষে নোয়াখালীতে নেওয়া হবে। কোম্পানীগঞ্জ কলেজ মাঠে সর্বশেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হবে। মওদুদ আহমেদ বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করার ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন জানিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বজলুল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মানিকপুরে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে যেন সমাহিত করা হয়। তিনি নিজেও আমাকে সেই জায়গা দেখিয়েছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীকসহ অনেকে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার ফলে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মওদুদ আহমদকে রাজধানীর এভারকেয়ার (সাবেক এপোলো) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেখানে তাঁর হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। সেখানে তাঁর দুইবার করোনা পরীক্ষা করা হলেও নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি রাতে মওদুদ আহমদকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরদিন ভোরে তাঁকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মওদুদ আহমদের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ চতুর্থ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। অষ্টম জাতীয় সংসদে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন এই রাজনীতিবিদ।