ভারত সীমান্তে অত্যাধুনিক অস্ত্র জড়ো করছে চীন

 

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ
চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উচ্চতর মালভূমি অঞ্চলে প্রকাশ্যে নতুন ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা জোরদার করছে চীন। ফলে ভারত-চীন সীমান্তে সমস্যা সমাধানের শান্তিপূর্ণ পথ আরও কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে। গ্লোবাল টাইমস’র প্রতিবেদন অনুযায়ী চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ওই অঞ্চলে স্বচালিত দ্রুতগতির আগ্নেয় মর্টার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে মোবাইলের মাধ্যমেই শত্রুপক্ষকে আঘাত হানা ও গুলি চালানোর অবস্থান পরিচালনা করা যাবে। পিএলএ এই অঞ্চলে যে স্ব-চালিত মর্টারগুলো নিয়ে এসেছে তা চতুর্থ পর্যায়ের নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একটি নতুন ১২২ মিলিমিটার ব্যাস সম্পন্ন স্ব-চালিত কামান, অস্ত্র সজ্জিত যান এবং দূরবর্তী বহুমুখী রকেট লাঞ্চার স্থাপনের চেষ্টা করছে পিএলএ। প্যাশন নিউজ জানিয়েছে, এগুলো ছাড়াও রাতে নিজেদের শক্তিশালী যুদ্ধ ক্ষমতা দেখাতে সেনাবাহিনীর কমিশনিং অনুষ্ঠানে রাতে দেখার উপযুক্ত চশমা পরেছে চীন সেনারা।

জানা গেছে, সীমান্ত অঞ্চলে চীন যে মিসাইল স্থাপন করেছে তা ‘এইচকিউ-১৭এ ফিল্ড এয়ার ডিফেন্স মিসাইল’ প্রযুক্তির। যেসব রকেট আর্টিলারি স্থাপন করেছে তা স্ব-চালিত বহুমূখী রকেট লাঞ্চার সিস্টেম পিএইচএল-১১ প্রযুক্তির। ২০১৯ সালে চীনের জাতীয় দিবসে প্যারেড গ্রাউন্ডে এইচকিউ-১৭এ মিসাইলের প্রথম প্রকাশ্যে আনে। সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ফিল্ড এয়ার ডিফেন্স মিসাইল এটি। এছাড়া একটি ‘সিঙ্গেল পিএইচএল-১১’ একসঙ্গে ৪০টি রকেট বহন করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ক্রিস অসবোর্ন জানান, পাহাড়ের উচ্চ ও নিম্ম উচ্চতায় শত্রুর অবস্থান জানা কঠিন। তাই সুনির্দিষ্টভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে মর্টারের মতো অস্ত্র ব্যবস্থা উপযোগী যাতে তারা শত্রুকে আক্রমণ করতে পারে। ইউনিটের একজন সৈনিক লি জুন সিসিটিভিকে বলেছেন, ‘নতুন অস্ত্র পেয়ে আমরা খুব উচ্ছ্বসিত। এটি খুব দ্রুতগতির এবং শক্তি বাঁচায়। এটি আমাদের জন্য খুব বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।’

ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হিমালয় সীমান্তে গত বছর মারাত্মক সংঘাতের জন্য চীনকে দোষারোপ করেছেন। এ ছাড়া সীমান্তে শান্তি পুনরুদ্ধার না করা হলে বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এক বছর পরেও লাদাখ সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেখানে গত বছর ২১ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। উভয় দেশই সেখানে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম জোরদার করেছে। এই অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহারের জন্য সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ১১ বার বৈঠক করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে অগ্রগতি খুব সামান্যই।
সূত্র : এশিয়া টাইমস, ছবি-সংগৃহীত