ভ্রমণের নেশায় যে দম্পতি চাকরি ছেড়ে দিল

 

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ
এই দম্পতি ঋষিকেশ, কর্ণাটকের হিমাচল, হাম্পি এবং চিকমাগালুরের মতো বিভিন্ন ছোট ছোট গন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁদের ভ্রমণ শুরু করেন।

ভ্রমণের নেশা কম-বেশি সকলেরই রয়েছে,কিন্তু চিরাচরিত ধারার মধ্যেই। তবে সেই চিরাচরিত ধারার ঘেরাটোপকে ভেঙে দিয়ে এক অভিনব পদক্ষেপ নিলেন কেরলের ত্রিশূরের দম্পতি হরিকৃষ্ণন জে এবং লক্ষ্মী কৃষ্ণ। ভ্রমণের প্রতি দু’জনেরই ভালোলাগা বুঝতে পেরে ভালো বেতনের চাকরি অনায়াসেই ছেড়ে এই দম্পতিটি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন, যাতে তাঁরা কোনও কাজের চাপ ছাড়াই যখন-তখন যেখানে ইচ্ছে ভ্রমণ করতে পারেন। এ ব্যাপারে হরিকৃষ্ণন বলেন, “আমাদের ভ্রমণের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডে হানিমুনে গিয়ে। ফিরে এসে শুরু হয় এই সাহসী যাত্রাপথের পরিকল্পনা। এই দম্পতি ঋষিকেশ, কর্ণাটকের হিমাচল, হাম্পি এবং চিকমাগালুরের মতো বিভিন্ন ছোট ছোট গন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁদের ভ্রমণ শুরু করেন।

তবে ২০২০ সালের অক্টোবরে দু’জনে সিন্ধান্ত নেন যে তাঁদের হুন্ডাই ক্রাইটাতে ভ্রমণ করার এবং রাত্রিবাস করার। এক্ষেত্রে ভ্রমণের ব্যয়বহুল খরচও অনেকটাই কমে এসেছে। গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। স্নান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেন পেট্রোল পাম্পের বাথরুমে। ভ্রমণে তাঁদের সঙ্গে থাকে ১০ জোড়া জামাকাপড়। রান্নাবান্না করার সামান্য সরঞ্জাম। বালতি আর মগ। আর ভিডিও এবং ছবি এডিটের জন্য ল্যাপটপ। সঙ্গে রাখেন জলের পাত্র। জল শেষ হয়ে গেলে সুরক্ষিত জায়গা থেকে আবার জল ভরে নেন। ১০ লিটারের মোট তিনটি ক্যান সঙ্গে রাখেন তাঁরা। এছাড়া ঘুমানোর জন্য গাড়ির পিছনের সিটে লাগিয়ে নিয়েছেন একটা মাথা রাখার জায়গা। এবার সিট গুটিয়ে মাদুর আর চাদর পেতে নিলেই তৈরি হয়ে যায় বিছানা। আর খিদে পেলে ছোট সিলিন্ডার আর গ্যাস বের করে রাস্তার পাশেই ফ্রাইং প্যানে বানিয়ে নেন সহজ কোনও রেসিপি।

যদিও প্রাথমিক ভাবে পরিকল্পনা ছিল একটি আন্তর্জাতিক রোড ট্রিপে যাওয়ার, তবে মহামারীর কারণে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সীমানা অক্টোবরের মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে নিজের দেশকে আবিষ্কারের নেশায় বেরিয়ে পড়েন এই তরুণ ভ্রমণপিয়াসী দম্পতি। হরিকৃষ্ণন জে এবং লক্ষ্মী কৃষ্ণ দু’জনেই স্বীকার করেছেন যে তাঁদের এই কঠিন সিন্ধান্তকে তাঁদের পরিবার এবং প্রিয়জনের সমর্থন অনেকটাই সহজ করে তুলেছে। দু’জনে এ পর্যন্ত ১০,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন এবং এখনও সফর অব্যাহত রয়েছে।