মমতাকে ধাক্কা মারার অভিযোগকে বিজেপি বলল ‘নাটক’

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হঠাৎ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। চার-পাঁচজন মিলে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী নিজে। তার মাথা, কপাল এবং পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গেছে।খবর আনন্দবাজারের।এদিকে, বিজেপির সাংসদ অর্জুন সিং কটাক্ষ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তো রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী। তিনি যেখানে যান, তার দুই কিলোমিটার আগে থেকেই গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। যদি কেউ ধাক্কা মেরে থাকেন, তাহলে তার ফাঁসি হওয়া উচিত। সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মমতা আগেও মিথ্যা কথা বলেছেন। এখন হারবেন জেনে মিথ্যা কথা বলে সহানুভূতি নেওয়ার জন্য নাটক করছেন। একই সুরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী দাবি করেন, রাজনৈতিক ভাবাবেগের জন্য রাজনৈতিক ‘ভণ্ডামি’ করছেন মম

বুধবার নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে প্রচারণায় নেমেছিলেন মমতা। রেয়াপাড়ায় একটি মন্দিরে পূজা দিয়ে বেরোনোর সময় ধাক্কা মেরে তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই প্রচার মাঝপথে বন্ধ রেখেই কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে তাকে। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। হলদিয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নন্দীগ্রামে ফিরে আসেন মমতা। সেখানে গাড়ি নিয়ে একাধিক মন্দিরদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন তিনি। সবশেষে রেয়াপাড়ায় যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছেন, সেখানকার রানিচকের একটি মন্দিরে হরিনাম-সঙ্কীর্তন শুনতে যান। সেখান থেকে বেরোনোর সময়ই ভিড়ের মধ্যে থেকে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, জানা গেছে, ভিড়ের মধ্যে আচমকা ধাক্কা দেওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে যান মমতা। কপালে ও মাথায় আঘাত লাগে তার। আঘাত লাগে বাঁ পায়েও। সেইসময় ঘটনাস্থলে পুলিশের কেউ ছিল না বলেও অভিযোগ। দেহরক্ষীরাই কোনো রকমে তুলে গাড়িতে নিয়ে যান মমতাকে। রেয়াপাড়ায় ভাড়া নেওয়া বাড়ির উদ্দেশে তাকে নিয়ে রওনা দেয় গাড়ি। কিন্তু পথেই অসম্ভব ব্যথা অনুভব করেন মমতা। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে একটি দোকান থেকে বরফ নিয়ে তার পায়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতে আরও ব্যথা বাড়ে। পিঠেও ব্যথা অনুভব করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মমতা বলেন, ‘আমি গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে নমস্কার করছিলাম। তখন চার-পাঁচজন লোক আচমকা দরজা বন্ধ করে দেন। পা আটকে গিয়েছিল। পুরো পা ফুলে গেছে। অনেক মানুষ ছিলেন। কিন্তু তারা করেননি। এটা চক্রান্ত তো বটেই। চক্রান্ত তো বটেই। পুলিশ সুপার ছিলেন না। সারাদিন অনুষ্ঠান করলাম। আমার বুকে ব্যথা হচ্ছে।’বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, তা গুরুতর অভিযোগ। উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্ত করা উচিত।’