মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভাষানীর গ্রাম নির্ভরতা

 

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ
আমি একটি সিদ্ধান্তে গোড়া হইতেই পৌঁছাইয়াছিলাম। আমার রাজনৈতিক জীবনের এই ৬৮টি বৎসরে ইহার পরিবর্তন হয় নাই। তাহা হইল, আন্দোলনকে গ্রামে লইয়া যাওয়া এবং প্রত্যন্ত গ্রামের স্বরূপ হইতেই রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা সিদ্ধান্ত উদ্ধার করা। ইহার কারণ খুব সহজ। শতকরা ৯০ ভাগের বেশী লোক গ্রামে বাস করে। তাহাদের জিন্দেগী সুস্থ না হইলে দেশ ও জাতির কল্যাণ হইতে পারে না। আর একটি কারণ আছে বটে। শহুরে লোক লইয়া দীর্ঘ কর্মসূচি গ্রহণ করা যায় না। তাহারা কয়দিন পরই ভাঙ্গিয়া পড়ে। পক্ষান্তরে গ্রামের লোক কত দুঃসাহসী, কত আন্তরিক, কত অনুগত। এই তিনটি গুণের সমন্বয়ে কি যে অসাধ্য সাধন করা যায় তাহা আমি লিখিয়া শেষ করিতে পারিবো না।

যে যাই বলুন না কেন, জমিদার মহাজনদের অপ্রতিরোধ অবিচার, শোষণ একমাত্র গ্রামের লোকই মোকাবিলা করিয়াছে। তাহাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও ঐক্য দান করাটাই ছিল শুধু আমাদের কাজ। তাই আমি আজীবন সম্মেলনকে ভালবাসিয়াছি। ভাসান চরের সম্মেলন, ফুলছুড়ি ঘাটের সম্মেলন,ঘাগমারী সম্মেলন, সিরাজগঞ্জ সম্মেলন, কাগমারী সম্মেলন ইত্যাদি অত্যন্ত পরোক্ষ ভাবে হইলেও আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধন করিয়াছে। সূক্ষ্মভাবে যাচাই করিলে তাহা উপলব্ধি করা যাইবে। আর এইসব সম্মেলন করতে গিয়া আমি যেমন একাধারে সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকটা আবিষ্কার করিয়াছি, ঠিক পাশাপাশি তেমনি সেই সমাজভুক্ত মানুষের সুপ্ত মহাশক্তিকে উপলব্ধি করিয়াছি।

সূত্র- আমার জিন্দেগী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী,