মুখোমুখি ফিলিস্তিন-ইসরাইল :নিহত-৪৩

 

সংবাদ জমিন ডেস্ক ঃঃ
খন পবিত্র ঈদের আনন্দ মুসলিমদের ঘরে ঘরে, তখন ফিলিস্তিনিরা উপহার পাচ্ছেন স্বজনের লাশ। সেই লাশকে সামনে নিয়ে তাদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। ইসরাইলের বিমান হামলায় রক্তস্রোত বয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। ২০১৪ সালের যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আজ বুধবার ভোরে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে গাজায় ১৩ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। ভোরে গাজার ওপর বৃষ্টির মতো শত শত বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ফিলিস্তিনিরা, বিশেষ করে হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী এর জবাব দিয়েছে রকেট নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। তারা তেল আবিব এবং বীরশেবায় রকেট হামলা করেছে।

এতে ৫ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ইসরাইলের বিমান হামলায় গাজায় একটি একতলা আবাসিক ভবন ধসে গেছে। আরেকটি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার হামাসের বেশ কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে জেট বিমান থেকে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরাইল। তারা বলেছে, এতে হামাসের বেশ কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। যেসব স্থান থেকে হামাস রকেট নিক্ষেপ করেছে, হামাসের অফিস আছে যেখানে এবং হামাসের কর্মকর্তারা যেসব বাড়িতে থাকেন, তা লক্ষ্য করেও বিমান হামলা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। তারপর এই তাদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এতে সতর্কতা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘের শান্তির দূত টোর ওয়েনেসল্যান্ড টুইট করে বলেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করুন। আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনের জন্য উভয় পক্ষের নেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে। গাজায় এই লড়াইয়ের মূল্য বিপর্যয়কর এবং এর মূল্য দিচ্ছে সাধারণ জনগণ। পরিস্থিতি শান্ত করতে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ। এখনই সহিংসতা বন্ধ করুন।

বুধবার খুব ভোরে ইসরাইলের বিমান হামলায় গাজাবাসীর বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। আকাশ আলোকিত হয়ে পড়ে। হামাসের ছোড়া রকেটের আলোও প্রজ্বলিত করে তোলে রাতের আধারকে। এসব রকেটকে ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিচ্ছিল আকাশেই। কয়েক মিনিটের মধ্যেই কমপক্ষে ৩০টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় আতঙ্কিত ইসরাইলিরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। তেল আবিবের কাছে আরব-ইহুদিদের মিশ্রিত শহর লোড-এ রকেট হামলায় নিহত হয়েছে দু’জন। গাজায় সহিংসতা এবং জেরুজালেমে সহিংসতার প্রতিবাদে লোড এবং অন্য শহরগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা থেকে বলা হয়েছে, তারা গাজা সিটির টাওয়ার ভবনগুলোতে বোমা হামলার জবাবে বীরশেবা ও তেলআবিব শহরে ২১০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয় তেলআবিবকে। হামাস এই শহরকে টার্গেট করেছে। এর ফলে হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাত নতুন এক চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে চলে এসেছে। উল্লেখ্য, মুসলিমদের কাছে অতি পবিত্র মাস রমজানজুড়েই জেরুজালেমে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। সেখানে আল আকসা মসজিদ চত্বরে নামাজরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে। এতে কয়েক শত মানুষ আহত হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপন করে ইসরাইল। যেসব পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের বিষয়ে একটি আদালতের শুনানিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।