মোরাকাবার মাধ্যমেই স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝের ভেদ রহস্য উম্মোচন করা সম্ভব

 

মো. আলতাফ হোসেন ঃঃ
মোরাকাবা আরবী শব্দ। এর অর্থ পর্যবেক্ষণ, ধ্যানে, গভীরভাবে তন্ময় হওয়া ইত্যাদি। আল্লাহ্ পাকের সাণ্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে পার্থিব জগতের ঝামেলা থেকে নির্জনে চুপচাপ বসাকে মোরাকাবা বলে। এটি এলমে তাসাউফ, এলমে লাদুনি বা মারাফাত বিদ্যার শিক্ষা। এলম বা বিদ্যা দু’ধরনের এলমে শরীয়ত ও এলমে মারাফাত এলমে শরীয়তকে জাহেরী এলেম বলা হয়। এর দ্বারা শরীয়তের বিধি বিধান, হালাল, হারাম ইত্যাদি অবগত হওয়া যায়। আর এলমে মারাফাত দ্বারা আল্লাহ্কে চেনা যায়। মারাফাত শিখতে হলে কোনো হক্কানী পীরের হাতে বাইয়াত হতে হয়। মারাফাতের অনেক স্তর আছে। এগুলো সম্বন্ধে পীর বা মুর্শেদ অবগত করে থাকেন। মোরাকাবা অর্থ ধ্যান, গভীর চিন্তা। সুফি বা সাধু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত বিশেষ এক তন্ময়তা বা সম্মোহিত অবস্থা। জগতের সকল ধর্মেই নিগুঢ় ব্যবস্থাপত্র হচ্ছে মোরাকাবা।

আল্লাহ্ পাক কুরআনে বলেছেন, “তোমরা আল্লাহ্র কাছে পৌঁছাতে ওছিলা (উপায়) খোঁজ কর।” এ উছিলা হচ্ছে পীর। যিনি এলমে মারাফাত তা’লীম দেবেন; এলমে মা’রাফাতের দ্বারাই ওলী গাউস ও কুতুবগণ খাঁটি পন্থা রূপে পরিণত হতে সক্ষম হয়েছেন। “মুমিনের অন্তরে আল্লাহ্র আরশ (বুখারী) অর্থাৎ মুমিন বান্দা খাঁটি দিলে আল্লাহ্র ধ্যানে বসে অর্থাৎ মোরাকাবা করে তখন আল্লাহ্ সেই অন্তরে অবস্থান নেয়।

মোরাকাবা বা ধ্যানের উৎপত্তি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়্যত প্রাপ্তির পূর্ব মূহুর্তে তিনি অনবরত হেরার গুহায় মোরাকাবার বসতেন। আর এভাবে এ অবস্থায়ই তিনি পেলেন আল-কুরআনের বাণী “পড়”। পরবর্তী বললে, ছাহাবা কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনগণ ও এ মিলসিলা পুনোদ্দমে চালু রাখেন। আলী আওলিয়াগণ মারাফাতের পথে এতো অগ্রসর হয়েছিলেন যে তাঁরা বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। আল্লাহ্কে পাওয়ার চেয়ে চরমও পরম সম্পদ আর কি থাকতে পারে। বান্দা যখন মোরাকাবার মাধ্যমে আল্লাহ্র সাথে মিশে যান, তখন তিনি বাকাফিল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহ্পাকের মধ্যে নিজেকে বিলীন করে দেন। যেমন মনসুর হাল্লাজ। তিনি এতোই আল্লাহ্র সানিধ্য পৌঁছেছিলেন, যে তিনি ও আল্লাহ্ পাকের কোনো তফাৎ দেখতে পান নি। তখন তিনি রাতে আরম্ভ করলেন, আনাল হক অর্থাৎ “আমি খোদা” আল্লাহ্কে জানার ও চেনার জন্যই এলমে মারাফাত শিক্ষা করাও ওয়াজেব। বান্দা তার হৃদয়ে আল্লাহ পাকের নূরের তাজল্লী দেখতে পান।

মোরাকাবার উদ্দেশ্যে: মোরাকাবার একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ্র দীদার। মোরাকাবার ক্বলবের মধ্যে আল্লাহ্র জিকির করতে হয়। আর এ যিকির হচ্ছে রেত স্বরূপ- যা দিয়ে ক্বলবকে ছাফ করা হয়। কারণ- মানুষ পাপ করতে করতে তার কলবে ময়লা ও মরিচা পড়ে যায়। আল্লাহু আল্লাহু যিকির দ্বারা ক্বলবের সে ময়লা ও মরিচা দূর হয়।মোরাকাবার শিক্ষার বিষয়টি শরীয়তের চর্চার মধ্যে দেখা যায় না। এ শিক্ষা কেবল খাঁটি পীর বা আউনিয়ায়ে কেরামের মজলিসে প্রচলিত আছে। তরীকতে মোরাকাবা ছাড়া সাধনার স্তর অতিক্রম করার কোনো বিধান নেই। মোরাকাবা করলে হৃদয়ের কালিমা বিদুরিত হয়ে হৃদয় আলোকিত হয়। মোরাকাবার জন্য অতি উত্তম সময় হচ্ছে রাতের শেষ প্রহরে রহমতের সময়। এসময় প্রকৃতি থাকে নিরব। পরিবার পরিজনও থাকে ঘুমিয়ে। এমন সময়টাই মোরাকাবার জন্য বেছে নেন সাধকগণ। এসময় আল্লাহ্ পাক বান্দার ডাকে অধিক সাড়া দেন। তিনি বান্দাকে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন; তাকে ডাকতে বলেন, তাঁর ইবাদত করে আর নৈকট্য লাভের আহ্বান করেন। মোরাকাবা হলো নফল ইবাদত। নফল ইবাদত হলো আল্লাহ্র নৈকট্য ও কামিলিয়াত লাভের উত্তম পন্থা।
তাই মোরাকাবা সাধকের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মোরাকাবা অন্তরের কালিমাকে পরিস্কার করে দেয়। যার হৃদয়ের কালিমা বিদূরিত হয়েছে, সে নামাজে আল্লাহ্র সাথে কথোপকথন করে। তাই প্রতি ওয়াক্ত নামাজ ও ইবাদতের শেষে অন্তত ২ মিনিটের জন্য হলেও নিয়মিত মোরাকাবা অব্যাহত রাখা উচিত। তাহলেই সাধক ধীরে ধীরে আল্লাহ্র নৈকট্যে পৌঁছে যেতে সক্ষম হবেন, মোরাকাবা করলে কলবের চোখ খুলে যায়। ইবাদতে জাহেরী চোখ বন্ধ করলেই কেবল বাতেনী চোখ খোলে।

সাধক পৃথিবীতে অন্য দশজন মানুষ হতে আলাদা। তিনি সকল লোভনীয় বিষয় সমূহের ওপর ভাসমানরূপে ওয়াহেদে বসবাসরত মহাপুরুষের দলের অন্তর্ভৃক্ত হয়ে থাকেন। রহস্যময় দয়ার হাত যার উপর রাখেন সেই শুধু মুক্তি পেয়ে থাকেন। তাই এই অতি দয়ার বিষয়টিও সার্বজনীন নয়। অতি দয়ার বিষয়টি এই জন্য বলা হলো কারণ কুরআন বলছেন, “যাকে এলমে লাদুনি দান করা হয়েছে তাকে যথেষ্ট কল্যাণ দান করা হয়েছে। মারেফত সবার জন্য নয়। বেশির ভাগ মানুষের জন্য শরিয়ত। সাধক সাধনা করে আত্মশুদ্ধির পথ ধরে।
যদি ইবাদতের কঠিন পরিশ্রম এবং দীনের জিহাদ বা প্রকৃত সুণ্নতের অনুস্মরণ ব্যতিরেকে করা হয়, তা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেননা যোগী, হিন্দু, ব্রাক্ষ্মন এবং বৈজ্ঞানিক মত বাদীগণ সুণ্নতে রাসূলের অনুস্মরণ ছাড়া তাদের নিজ মনগড়া মতবাদের দ্বারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যদিও কোনো অলৌকিকত্ব লাভ করতেও দেখা যায় তা কখনো সঠিক হতে পারে না। (বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে ইহাকে ইস্তেদরাজ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।) যা ধ্বংস হওয়া ব্যতিত অন্য কোনো উপকারে আসবেনা। শরীয়তের পাবন্দী যত বেশি হবে, ততোই মারেফাত বেশি লাভ হবে।

আর যে ব্যক্তি আলস্য বশত: শরিয়ত থেকে বঞ্চিত থাকবে সে কখনো মারিফাত লাভ করতে সম হবে না। সুতরাং শরিয়তের প্রয়োজনীয় এলেম যারা অর্জন করে; সে মোতাবেক আমলও করতে থাকে; আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য বাতেনী এলেম (মারেফাতের দরজা) খুলে দেন।
আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে এলহাম দ্বারা শরিয়তের হুকুম আহ্কাম এর এলেম অর্জন করতে গেলে আল্লাহ্র হাবিবের বাতিনি সাহায্যের অতীব প্রয়োজন এবং সাথে সাথে কুরআন সুণ্নাহর সঙ্গে তার পূর্ণ মুয়াফিক আছে কি না এদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
আল্লাহ্র হাবিবের বাতেনি সাহায্য বা উসিলা ব্যতিরেকে সরাসরি আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে কেউ কোনো সঠিক ইলিম লাভ করতে সম হবে না।

মারেফাত ছাড়া বাতেনী রাস্তায় অনুসন্ধানী হওয়া যায় না। যে কোনো বিষয়ে অনুসন্ধানী হলে যেমন বিশাল অর্জন সম্ভব হয়, ঠিক তেমনি আল্লাহ্র পথের অনুসন্ধানী এলে আল্লাহ্ তা’আলা বা মোমেন হওয়া যায়। মানুষের দিল হচ্ছে মহাভেদ ও বাতেনের দরিয়া। আল্লাহ্কে পাওয়ার জন্য অনেকগুলো সাধনা রয়েছে; তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মোরাকাবা। সুতরাং মোরাকাবার মাধ্যমেই স্রষ্টার সৃষ্টির মাঝের ভেদও রহস্য উম্মোচন করা সম্ভব।

মোরাকাবা, ধ্যান বা ম্যাডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। নিরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন বাড়ায় মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা, মনের জট খুলে যায়, সৃষ্টি হয় আত্মবিশ^াস ও ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি। হতাশা ও নেতিবাচকতা দূর হয়। প্রশান্তি ও সুকানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘটে অন্তরজাগ্রত। তার চেয়ে সাধনা আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসের সঞ্চিবিত ওয়াস টাইপিং ম্যাথড ম্যাডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে ম্যাডিটেটিভ লেভেলে পৌঁছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়। গভীর আত্মনিমগ্রতা আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকেই। অন্তরের জাগরণ বদলে দেয় জীবনের বাকী সব কিছু। কোনো ম্যাডিটেশন মোরাকাবা করা প্রয়োজন? ম্যাডিটেশন হলো সচেতনভাবে দেহ মন মস্তিষ্ককে শিথিল করার আধুনিক বৈজ্ঞানিক এবং সহজ প্রক্রিয়া। ম্যাডিটেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরকে শিথিল এবং মন ও মস্তিষ্ককে প্রশস্ত করতে পারি। ফলে টেনশন অস্থিরতা মুক্ত হয়ে আমরা সচেতন ভরে দেহ মনে সুকানুভূতি তৈরী এবং সবসময় তা উপভোগ করতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ করতে পারি আনন্দ নিয়ে। পেতে পারি সহজ সাফল্য অর্থাৎ শারীরিক, মানসিক, বৈষয়িক, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশান্তিতে থাকার জন্য ম্যাডিটেশন হচ্ছে দেহ মনে অবস্থা সৃষ্টির একটি সহজ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। যেমন টেনশন- ম্যাডিটেশনের প্রথম লাভই হলো টেনশন মুক্তি। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীলে টেনশন থাকে সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না। আর শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা এখন জানি মনে দৈহিক ৭৫ ভাগের রোগের কারণই টেনশন। তাই ম্যাডিটেশন করলে আপনি শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ যেমন” মাইগ্রেন সাইনোসাইটিস, ঘাড়ে, পিঠে, কোমরে, শরীরে যেকোন স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হযমের সমস্যা আইভিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিন্দ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন বা অন্যান্য নিরাময় হতে পারবেন। আর অন্যান্য রোগ নিরাময় ওষুধ ও সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ্য জীবনদৃষ্টি এবং ম্যাডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি ম্যাডিটেশন করার মাধ্যমে শিখবেন অখন্ড মনোযোগ ও অল্প সময়ে পড়া আয়ত্ব করার টেকনিক। একজন গৃহিণী হিসেবে আপনি ম্যাডিটেশন করে পাবেন সুখী পারিবারিক জীবন যাপনের আনন্দ। একজন পেশাজীবি হয়ে সব সময় মাথা ঠান্ডা রেখে আপনি নিতে পারবেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আর একজন সফল মানুষ হওয়ার জন্য ম্যাডিটেশন মন ছবি চর্চা করে আপনি আপনার জীবনের যেকোনো চাওয়াকে পরিণত করতে পারেন স্বতস্ফূর্ত পাওয়ায় আর ইবাদত উপাসনায় একাগ্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মিক আধ্যাত্মিকভাবে আপনি অগ্রসর হতে পারেন মোরাকাবা বা ধ্যানের পথ ধরে। এভাবে একটি প্রশান্ত মন, সুস্থ জীবন ও কর্মব্যস্ত সুখি জীবনের জন্যেই আপনার প্রয়োজন ম্যাডিটেশন বা মোরাকাবা করা।

মোরাকাবা বা ম্যাডিটেশন করলে কি কি উপকার পাওয়া যায়: নিয়মিত ম্যাডিটেশন করার ফলে আপনার জীবন হবে সহজ, আরো সুন্দর আরো উপভোগ্য। আপনি পাবেন সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন। উপকারিতা: ১। মোরাকাবা বা ম্যাডিটেশন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে; ২। হৃদরোগেরও উপশম হয় ম্যাডিটেশনে; ৩। আবেগ, অভিমান, হীনমন্যতা দূর করে; ৪। মানসিক চাপ কমায়; ৫। চিন্তাশক্তির প্রখরতা বাড়ায়; ৬। মনোকষ্ট দূর করে; ৭। দীর্ঘায়ু লাভ হয়; ৮। দেহতন্ত্রের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুন্দরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে; ৯। অনিদ্রা থেকেও মুক্তি পেতে সক্ষম; ১০। মনের উদ্বিগ্ন হতাশ অশান্তি দূর করে; ১১। দেহের কর্মক্ষমতা বাড়ায়; ১২। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক; ১৩। মনের একাগ্রতা বাড়ে। আত্মার সাথে দেহের সম্পর্ক মনের অনুভূর্তির সম্পর্ক এই সব মিলিয়েই যে শিক্ষা সেটা আধ্যাত্মিকতা। আর যে এই শিক্ষা লাভ করেছে সে আধ্যাত্মিক। আধ্যাত্মিকতা একটা অনুভূতির অভিজ্ঞতা, যা অতি চেতন মনের কাছে প্রভাব ফেলে। ধর্ম এবং দর্শনের উপর নির্ভর করে আধ্যাত্মিকতার ধারণায় একটু পার্থক্য থাকে। আবার অনেক মিলও থাকে। এই শিক্ষার পথ ভিণ্ন হয় ধর্ম এবং দর্শনভেদে। আবার আত্মার ভবিষ্যৎ এবং অতীতের সম্পর্কে ধারণা ও ভিণ্ন হয় ধর্মীয় মতবাদ অনুযায়ী। আমরা সবাই জানি যে, আমাদের মাইন্ড ২ ভাগে বিভক্ত: ১। কনসাস মাইন্ড এবং ২। সাব কন্সসাস মাইন্ড

আমাদের ব্রেনে ১০ ভাগ জুড়ে আছে কনসাস মাইন্ড আর বাকী ৯০ ভাগ জুড়ে আছে। সাব কনসাস মাইন্ড। আমাদের পৃথিবীতে সে সফল মানুষ আছে তারা এর ১০ ভাগ ছাড়াও সাব কনসাস মাইন্ডও ব্যবহার করেছে। তাই আজ তারা সাকসেসফুল।ভারতে ১১ বছরে এমনই একটি মেয়ে ইয়োগমাতা, যার কথা অনুযায়ী তার দুই চোখ বন্ধ থাকা সত্বেও সে তার ৩য় চোখ দিয়ে সব কিছু দেখতে পায় এবং এ রকমটা সে ক্যামেরারা সামনে বহুবার করেছে। বিজ্ঞানীরা ইয়োগমাতার এই আশ্চর্য কর্ম ক্ষমতা দেখে সত্যই অবাক এবং তাদের কাছে এর ব্যাখ্যা স্বরূপ এমন কোনো উত্তর নেই। ৩য় চোখ এই রহস্যের সমাধান হওয়া এখনো বাকী এবং যার খোঁজ আজও চলছে।

নিজের কল্পনা শক্তিকে বাড়ান। চোখ বন্ধ করে মনের ক্যানভাসে নানা কিছু আঁকতে শুরু করেন। এক কথায় নিজের ক্রিয়েটিভিটিকে আরো বাড়ান। যত এমনটা করবেন; ততো মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশের ক্ষমতা বাড়বে। সেই সঙ্গে অবশ্যই বাড়বে তৃতীয় চক্ষুর কর্ম ক্ষমতাও। মস্তিষ্কের অন্দরে লুকিয়ে থাকাই হলো তৃতীয় চক্ষু। আর একবার যদি কেউ নিজের মস্তিষ্কের অন্দরে লুকিয়ে থাকা অফুরন্ত শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারেন, তাহলে সফলতা তার চিরসঙ্গী হবে। আর মস্তিষ্কের এই ক্ষমতাই তো এক কথায় তৃতীয় চক্ষু।
আধ্যাত্মিকতার ভাষায় যা তৃতীয় চক্ষু বিজ্ঞানের ভাষায় তা হলো পিটুইটারি পিনাল গ্ল্যান্ট। আসলে মোহাম্মাদী ইসলামের শিক্ষাটাই মোরাকাবা ভিত্তিক। আপনাকে প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাযের পর মোরাকাবা করতেই হবে। আর ধ্যান বা মোরাকাবার শিক্ষাই ছিলো রাসূল (সা.) শিক্ষা। কেননা রাসূল (সা.) নিজেও দীর্ঘ ১৫ বছর হেরাগুহায় ধ্যান করেছেন। আর এই মোরাকাবার দ্বারাই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা যায়। আর পরিশুদ্ধ আত্মার দ্বারাই আল্লাহ্র দিদার এবং নামাজের মেরাজ লাভ সম্ভব। আর এর জন্য মোরাকাবার বিদ্যা লাগবেই। আসলে যার আত্মা পরিশুদ্ধ হয় তার পক্ষে সব কিছুই জানা সম্ভব; সেটা হয় স্বপ্নের মাধ্যমেই বা এলহাসের মাধ্যমে। যাদের অন্তর পবিত্র তারা খুব সহজেই ভাল-মন্দ খারাপটা বুঝতে পারে। আর এ সংবাদটা পরিশুদ্ধ অন্তর থেকেই আসে।

আর বিজ্ঞান ও এখন প্রমাণ করছে আসলে পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি হলেও, তারা বলছে, ধ্যানই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। আসলে এটা এখন বাস্তব প্রমাণিত। কারণ বিজ্ঞানও বলছে ধ্যান করলে মানুষের মেধা শক্তি কিভাবে বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞান এ প্রমাণ পাচ্ছে বিধায় তারা এ কথা বলতে পারছে। অথচ এই ধ্যানের শিক্ষাটা আমাদের রাসূল (সা.) ই দিয়ে গেছেন সেই ১৫০০০ বছর আগে। আর সেটার প্রমাণ এখন বিজ্ঞানীরা পাচ্ছে। আর তাই তারা অকপটে স্বীকার করতে বাধ্যও হচ্ছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।
মানুষের ক্বলব পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে এ ধ্যানের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। গুরুত্ব এবং ফজিলত ও অপরিসীম। হযরত নবী করিম (সা.) ফরমান, “কিছুক্ষণ আল্লাহ্র ধ্যানে বসা হাজার বছর নফল এবাদতের চেয়ে উত্তম।

মোরাকাবার ব্যবহৃত অর্থ হলো ক্বলবকে শান দেয়া। নিয়মিত ক্বলবকে কিছুক্ষণ শান দিলে ঐ ক্বলব আয়নার মতো হয়ে ওঠবে। ক্বলবের সেই আয়নার মাধ্যমে অনেক কিছু দেখা যাবে। অনেক কিছু জানা যাবে। বাতেনী চোখ দিয়ে ক্বলবের নূর দেখা সম্ভব হবে। হযরত নবী করিম (সা.) ফরমান এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ।” ঘুমন্ত অবস্থায় যে স্বপ্ন দেখা যায় তাতে কিছু কিছু সত্য এর কিছু কিছু মিথ্যাও থাকে। কিন্তু জাগ্রত অবস্থায় ক্বলবের সাহায্যে যা কিছু দেখা যায় তাতে বিন্দু মাত্রও মিথ্যে নেই । আল্লাহ্ তা’আলা এরশাদ করেন “ তান্ডব দিয়ে যা কিছু দেখা হয়, তা মিথ্যে নয়। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) “সিররূল আসরার” কিতাবে লেখেন, ক্বলবের দুটি চোখ আছে। একটি বড় ও অন্যটি ছোট। ছোট চোখ সিফাতের নূর সমূহ আল্লাহ্পাকের নূর দ্বারা মহান আল্লাহ্র জ্যোতি নূরসমূহ অবলোকন করে। আল্লাহ্র পবিত্র সিফাতি নূর সমূহ দৃষ্টিগোচর হয়। সাথে সাথে ক্বলবের আয়নায় আল্লাহ্র প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হয়। হুজুর (সা.) এরশাদ করেন, “মোমেন আল্লাহ্র নূর দ্বারা দেখে।” আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, “আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে করেন তাকে সেই নূরের সন্ধ্যান দেন। সাধনা না করে সেই নূরের সন্ধান পাওয়া সম্ভব নয়। লতিফাগুলো পবিত্রতা অর্জন করলে, রূহানী চোখ দ্বারা সেই নূর দেখা সহজ হবে। আল্লাহ্র সিফাতের নাম সমূহের নূর দ্বারা জ্যোতিময় হবে। ক্রমান্বয়ে উক্ত নূরসমূহ তিরোহিত হবে। ফলে স্বয়ং আল্লাহ্র নূরে জ্যোতিময় হবে। আল্লাহ্পাক কুরআনে এরশাদ করেন: বল, তিনিই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” (সূরা মূলক: ২৩)

লেখক: সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক,গবেষক,সাংবাদিক,কলামিস্ট