রিকশাচালক-শ্রমিক-কৃষক সবাইকে ‘স্যার’ ডাকেন এএসপি আনোয়ার !

 

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে৷ গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যের নীতিভ্রষ্টতার কারণে এমন অভিযোগ পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর এসে পড়ে৷ তবে এর পেছনে নাগরিক সমাজের ভূমিকাও কম দায়ী নয়। নতুন খবর হচ্ছে, পেশায় একজন রিকশাচালক মোতালেব মিয়া। বয়স ৬০-এর বেশি। কয়েকদিন আগে পারিবারিক একটা সমস্যায় আইনগত সেবা নেয়ার জন্য এসেছিলেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের অফিসে।

রাস্তাঘাটের তিক্ত অভিজ্ঞতায় এমনিতেই ভীষণ পুলিশ ভীতি তার। তবে লোকমুখে এলাকায় ভালো এএসপি আসছেন শুনে তার কাছে আসেন সমস্যার সমাধানে। ওয়েটিং রুমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা শেষে এএসপির কক্ষে ঢুকতেই চমকে উঠেন তিনি। এএসপি তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করে বসতে বলেন। কিন্তু নিজ কানে শুনেও বিশ্বাস করাতে পারেন না মোতালেব। তাকে স্যার সম্বোধন করছেন একজন এএসপি! এটা সত্যিই কী একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারের মুখের ভাষা!

সেদিন বৃদ্ধ এই রিকশাচালকের সঙ্গে এএসপির ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হন পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। এরপরই এএসপির সাধারণ মানুষকে ‘স্যার’ ডাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু বৃদ্ধ মোতালেবই নন। এই এএসপির সুন্দর ব্যবহার, আর সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলার প্রশংসা উত্তর চট্টগ্রামবাসীর সবার মুখে মুখে। রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, মুচি, মেথর থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রমজীবী মানুষকেই তিনি ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন।

বিপরীতে কেউ তাকে স্যার ডাকল তিনি নিষেধ করে দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের ট্যাক্সের পয়সা দিয়েই আমার বেতন। আপনাদের শ্রম-ঘামের ওপরই আমাদের জীবন-জীবিকা। যেহেতু আমি একজন জনগণের কর্মচারী, তাই প্রকৃতপক্ষে আপনারাই আমার স্যার। দয়া করে আমাকে স্যার না ডেকে ভাই বলে ডাকলেই বেশি খুশি হব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তার অফিস থেকে কেউ চা না খেয়ে যেতে পারেন না। বয়স্ক কোনো সেবাপ্রার্থী আসলে এএসপি নিজেই উঠে গিয়ে সেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে সসম্মানে অফিস কক্ষে নিয়ে আসেন। তথ্য সূত্র-ফেসবুক, এটিম মুজাহিদুল বারী,আমরা সিংগাইরবাসী-১৮২০