রূহ বা আত্মা হলো আল্লাহর আদেশ যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীতে পূত পবিত্র, জীবন-যাপনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগ্য প্রদর্শণ করে পরলোকের অনন্ত জীবনে বেহেশত বা আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অধিকারী হওয়া। পবিত্র জীবন-যাপন ও ঈমান বা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও একান্ত আনুগ্য এই-ই হচ্ছে পরলোকের মুক্তির পথ। যে তা লাভ করে পৃথিবীতে সে শুধু যে তার আত্মার মাঝে অপার বেহেশতি শান্তির পরশ অনুভব করে তাই-ই নয়; তার চারিত্রিক বৈশিষ্টের আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। সৃষ্টির আদিতে আত্মার যে পবিত্রতাসহ সে জন্মলাভ করেছিলো, যে সব গুণাবলী সে স্রষ্টার নিকট থেকে লাভ করেছিলো। পূত পবিত্র জীবন-যাপনের দ্বারা এবং স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের মাধ্যমে সে আত্মার আদি অবস্থা প্রাপ্ত হয় যা তার জন্য বয়ে আনে অপার শান্তির অনুভূতি। এই অনুভূতি আর কিছু নয় এ হচ্ছে বান্দার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রকাশ।

রূহ এমন একটি আকৃতি (কাঠামো) যা বাহ্যিক শরীরের সত্তা (প্রকৃতি) থেকে আলাদা। রূহ নূরানী আকৃতি, ঊর্ধ্বমুখী, অতিসূক্ষ্ম, জীবিত ও চলনশীল। এটি শরীরের প্রধান কাজ করে, গোলাপের মধ্যে যেমন পানি গোপন থাকে তেমনিভাবে শরীরে রূহ গোপন থাকে; যাইতুনের মধ্যে যেমন তেল বিদ্যমান থাকে তেমনিভাবে শরীরের মধ্যে রূহ বিদ্যমান; কয়লার মধ্যে যেভাবে আগুন সূক্ষভাবে থাকে তেমনিভাবে রূহ শরীরের মধ্যে অতি সূক্ষ্মভাবে বিদ্যমান থাকে। যতক্ষণ শরীর প্রচুর পরিমাণে কাজ করার সামর্থ্য রাখে ততক্ষণ উক্ত সূক্ষ্ম শরীর (রূহ) এ শরীরের সাথে আঁকড়ে থাকে এবং রূহের এ প্রভাব তার অনুভূতি, ইচ্ছাকৃত চলাফেরায় পরিলক্ষিত হয়। আর এ শরীর যখন কঠোর মিশ্রন করার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং শরীরের মধ্যে কাজ করার যোগ্যতা বিলুপ্ত হয়, তখন রূহ শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এবং রূহ জগতের সাথে মিলে আলাদা হয়ে যায়।

রূহ বা আত্মা হলো আল্লাহ তা’য়ালার একটি আদেশ বা হুকুমমাত্র। আত্মা কি? এটা কোথায় থেকে আসে এবং কোথায় যায়? এ কোন ‘অচিন পাখি’,যার আগমনে মানবদেহ স্পন্দিত হয়- আর সে উড়ে গেছে জীবনের ঝরণাধারা শুকিয়ে যায় একেবারে, আর আনবিক বোমার আবিস্কর্তা ও চন্দ্রপৃষ্টে ভ্রমণকারী মানুষও তখন পরিণত হয়ে যায় মাটির পুতলে? আত্মা কোন আমলের দ্বারা পূত-পবিত্র হয় এবং কিসের দ্বারা হয় সে কলুষিত? এ হচ্ছে মানুষের কৌতুহলী মনের এক বিরাট প্রশ্ন। প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী, মহান ইমাম ও দার্শনিক আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহঃ) কোরআন ও হাদীসের আলোকে আত্মা সংক্রান্ত এ ধরনের বিশটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাঁর অমর গ্রন্থ কিতাবুর রূহে।

পবিত্র রূহ আরবী ভাষায় “রুহুল কুদুস” শব্দটি বেশ কয়েকবার পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। যেখানে তাকে আল্লাহর বার্তা বাহক হিসাবে বলা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুসারে মুসলিমরা গ্যাব্রিয়েলকে (আরবী উচ্চারণে জিবরাঈল) রুহুল কুদুস বা পবিত্র আত্মা বলে। তবে কোরআনে ট্রিনিটিকে অস্বীকার করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামে রুহুল কুদুসকে আল্লাহ্ এর সমতুল্য মনে করা বিশেষভাবে নিষিদ্ধ। নূর বা আলোর তৈরি,আল্লাহর পক্ষ হতে আল্লাহর বানী নবি রাসূলদের ওপর অবতীর্ণ করেন ফেরেশতাদের সর্দার। এছাড়া শুধুমাত্র আত্মা আল-রূহ, ‘পবিত্র’ বা ‘গৌরবান্বিত’ বিশেষণটি ছাড়া শব্দটি ইসলামে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে যেমন, প্রথম মানব আদম (আ:) কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তার মধ্যে আত্মা প্রবেশ করিয়ে জীবন দান করেন বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন। এছাড়া ঈসাকে (আ.) রূহুল্লাহ বা আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘আত্মা’ বলা হয়েছে। কারণ ইসলাম অনুসারে তার জন্ম অলৌকিক পন্থায় হয়েছিলো। আত্মা সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে : “বলো, ‘রূহ আমার রবের আদেশ থেকে, আর তোমাদেরকে জ্ঞান থেকে অতি সামান্যই দেয়া হয়েছে’।”

মু’মিন বান্দার মৃত্যু, অন্য সব মানুষের মৃত্যুর মতো নয়। আল্লাহ তা’য়ালা ঈমানদার বান্দাদের সুন্দর ও উত্তম মৃত্যু দান করবেন মর্মে হাদিসে বর্ণনা করেছেন প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মু’মিন বান্দা সেখানে আল্লাহর কাছে নিজের পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার আকুতি জানাবে। মু’মিনের মৃত্যুর বর্ণনা, কবরের প্রশ্নোত্তর, কবরের প্রশান্তি-নেয়ামত ও মু’মিন বান্দার আত্মার চাহিদা সম্পর্কে দীর্ঘ এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মৃত্যুর স্বাদ নেবে না- এমন কোনো প্রাণী নেই। কোরআনের বর্ণনায় প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেনো, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদি তোমরা সুউচ্চ-সুদৃঢ় দুর্গেও অবস্থান করো।’(সুরা নিসা : আয়াত ৭৮)

‘কোনো মু’মিন বান্দার যখন দুনিয়া থেকে আখেরাতে পাড়ি জমানোর (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত হয়। তখন আসমান থেকে সাদা চেহারা বিশিষ্ট ফেরেশতারা নিচে নেমে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের মতো আলোকজ্জ্বল হয়। তাদের সঙ্গে থাকে বেহেশতের কাফন ও সুগন্ধি। তাঁরা তার (মৃতব্যক্তির) চোখের সীমানায় এবং মৃত্যুর ফেরেশতা (মৃতব্যক্তির) মাথার কাছে বসেন। মৃত্যুর ফেরেশতা বলেন, ‘হে পবিত্র ও নেক আত্মা! তুমি আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে আসো। তখন আত্মা বেরিয়ে আসে, যেভাবে কলসি থেকে পানি বেরিয়ে আসে। তখন ফেরেশতারা মু’মিন ব্যক্তির ওই আত্মাকে ধরবেন; তাঁকে বেহেশতের আতরযুক্ত কাফনে রাখবেন; সেই কাফন থেকে পৃথিবীর সর্বোত্তম মেশকের সুঘ্রাণ বের হতে থাকবে। তারপর তারা তা (আত্মা/রূহ) নিয়ে ওপরে যাবেন। তারা যখন কোনো ফেরেশতা দলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবেন, তখন ফেরেশতারা বলবে, এটি একটি উত্তম আত্মা। বহনকারী ফেরেশতারা বলবেন, ‘এটি অমুকের আত্মা। অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে তার নামের পরিচয় দেবেন। তারা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত দরজা খুলে দিতে বলবেন। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে। তারপর ঘনিষ্ঠ ফেরেশতারা পরবর্তী আসমান পর্যন্ত তাকে বিদায় জানাবেন। সপ্তম আসমান পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকবে। অতপর আল্লাহ তা’য়ালা আদেশ দেবেন- ‘আমার বান্দার দফতর ইল্লিয়্যিনে লিখে রাখো;’ আর ইল্লিয়্যিন হচ্ছে সপ্তম আসমানে মু’মিন বান্দার আত্মা সংরক্ষণের স্থান।

একটি সময় মু’মিন বান্দার আত্মাকে পুণরায় জমিনে (কবরে) তার দেহে ফেরত পাঠানো হবে। এরপর দু’জন ফেরেশতা এসে তাঁকে (মৃতব্যক্তিকে) কবরে বসাবেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করবেন-তোমার রব কে? আত্মা বলবে- আমার রব আল্লাহ। তারপর জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার দ্বীন কি? আত্মা বলবে- আমার দ্বীন ইসলাম। ফেরেশতারা জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার কাছে প্রেরিত লোকটি কে? আত্মা বলবে- তিনি আল্লাহর রাসূল। তারপর জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কিভাবে জানো? আত্মা বলবে- আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এনেছি এবং তা বিশ্বাস করেছি।

এরপর আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আওয়াজ দিয়ে বলবেন,‘আমার বান্দা ঠিক বলেছে’ তার জন্য বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং বেহেশতের একটি দরজা তাকে খুলে দাও। তখন সে বেহেশতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি লাভ করবে। তার কবরকে নিজ চোখের দৃষ্টি সীমানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

হযরত বারা ইবনে আজেব (রা.) বলেন, ‘তার কাছে সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট একজন লোক আসবে’ যার পরনে সুন্দর কাপড় ও শরীরে সুঘ্রাণ থাকবে। সে বলবে, ‘তুমি সুখের সুসংবাদ গ্রহণ করো। এটি সেই দিন, যে দিন সম্পর্কে তোমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো।’

“যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়াতে পরিচিত তার কোনো মৃত্যু ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গমন করে এবং তাকে সালাম দিলে তখন তার সালামের উত্তর দেওয়ার জন্য আল্লাহ তার রূহকে ফেরত দেন।” হাদিসের এ কথা দ্বারা প্রমাণিত যে,মৃত ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন এবং তার সালামের উত্তর দেন। বিশ^ মানবতার দূত হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে,কবরবাসীকে যখন তারা সালাম দিবেন তখন তাদেরকে মুখাতিব তথা উপস্থিত ব্যক্তিকে সম্বোধন করার শব্দ দ্বারা সালাম দিবেন। ফলে মুসলিম কবরবাসীকে সালামের সময় বলবে,“তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে মু’মিনদের গৃহে বসবাসকারী।”

মুতাওয়াতির সূত্রে সালাফদের থেকে অসংখ্য আশার বাণী বর্ণিত আছে যে, মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির যিয়ারত বুঝতে পারেন এবং এতে সে খুশী হন। কবর যিয়ারতকারী মুসলিমকে যিয়ারতকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারা যদি কারো উপস্থিতি অনুধাবন করতে না পারে তবে যিয়ারতকারীকে যায়ির তথা যিয়ারতকারী বলা হতো না। কেননা যার যিয়ারতের জন্য যাওয়া হয় সে যদি যিয়ারতকারীকে না জানে তবে এ কথা বলা শুদ্ধ হবে না যে, সে তার যিয়ারত করেছে। যিয়ারতের এ ব্যাপারটি সব জাতির কাছে জ্ঞাত ব্যাপার। এমনিভাবে কবরবাসীকে সালাম দেওয়া। কেননা যাকে সালাম দেওয়া হয় সে যদি তা বুঝতে না পারে এবং সালাম প্রদানকারীকে না জানে তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়াও অসম্ভব। সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, মৃত ব্যক্তির জানাযার পরে তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ কারো অবস্থান করে থাকা সে পছন্দ করে ও ভালোবাসে।

মৃত ব্যক্তিদের রূহ কি পরম্পর মিলিত হয়? পরম্পর সাক্ষাৎ করে ও কথাবার্তা বলে? জবাব: রূহ দু’প্রকার: (১) ‘আযাবপ্রাপ্ত রূহ আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি- এ ধরণের রূহ শাস্তি ভোগের কারণে ব্যস্ত থাকবে বলে পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ ও মিলিত হওয়া থেকে বিরত থাকবে। (২) নি‘য়ামতপ্রাপ্ত রূহ। এসব রূহ বিচরণকারী হবে, এরা আবদ্ধ থাকবে না। তারা পরস্পর মিলিত হয়ে দুনিয়া ও দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ব্যাপারে কথাবার্তা বলবেন এবং নিজেরা নিজেদের পরিচিতদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবেন। প্রত্যেক রূহ তার আমল অনুযায়ী তার পরিচিত বন্ধুর সাথে থাকবেন। আমাদের নবী (সা.) সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে থাকবেন। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেছেন, “আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে অনেক উত্তম।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৯) দুনিয়ায়,বারযাখে ও জান্নাতে এভাবে একত্রে থাকা সাব্যস্ত আছে। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেছেন,“হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।” (সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭-৩০) অর্থাৎ তাদের সাথে শামিল হও এবং তাদের সাথে থাকো। আর এ কথা মৃত্যুর সময় আত্মাকে বলা হবে। আল্লাহ তা‘য়ালা শহীদদের সম্পর্কে বলেছেন,“তারা তাদের রবের নিকট জীবিত। তাদেরকে রিযিক দেওয়া হয়।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯) আল্লাহ তা‘য়ালা শহীদদের সম্পর্কে আরও বলেছেন,“আর তারা উৎফুল্ল হয়, পরবর্তীদের থেকে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয় নি তাদের বিষয়ে।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭০) আল্লাহর পথে যাঁরা নিহিত হয় তাঁদেরকে মৃত বলো না, বরং তাঁরা জীবিত;কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। (সূরা আরা বাকারা;আয়াত-১৫৪)

রূহ জীবিত ও মৃত মানুষের রূহের সাথে সাক্ষাৎ করে ও মিলিত হয়, যেভাবে রূহ মৃত ব্যক্তির রূহের সাথে মিলিত হয় ও সাক্ষাৎ করে। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেছেন,“আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরে নি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল জাতির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।” (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪১)

রূহ কি মারা যায়, নাকি শুধু শরীর মারা যায়? আত্মার মৃত্যু হলো শরীর থেকে আলাদা হওয়া ও বের হয়ে যাওয়া। এ হিসেবে মৃত্যু ধরা হলে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আত্মা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী। আর যদি বলা হয় যে, আত্মা মরে যায় বলতে তা বিলীন হয়ে যায়, একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়, নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে বলা হবে, এ দৃষ্টিকোণে আত্মা মারা যায় না; বরং তা শরীর থেকে বের হওয়ার পরে নি‘য়ামত বা ‘আযাব ভোগের স্থানে অবশিষ্ট থাকে।

হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কাফির ব্যক্তির মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে বলেন,কাফির বান্দার যখন দুনিয়া ছেড়ে আখিরাতে যাওয়ার সময় হবে তখন তার কাছে আসমান থেকে বীভৎস কালো চেহারার একদল ফিরিশতা অবতরণ করবে। তাদের সাথে থাকবে মোটা গরম পশমী কাপড়। তারা তার সামনে চোখের সীমানা জোড়া হয়ে বসবে। অতঃপর মালকুল মাউত এসে তার মাথার সামনে বসবে। অতঃপর সে বলবে, হে খবিশ আত্মা! আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির দিকে বের হও। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রূহকে তার শরীর থেকে এমনভাবে বের করা হবে যেভাবে শিক কাঁচা চামড়া থেকে বের করা হয়। অতঃপর নিমিষেই তা উক্ত গরম পশমী কাপড়ে রাখবে, এর থেকে পৃথিবীতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মৃত পঁচা দুর্গন্ধের চেয়েও মারাত্মক দুর্গন্ধ বের হতে থাকবে। অতঃপর তারা রূহটি নিয়ে উপরে উঠতে থাকবে। যখনই তারা ফিরিশতাদের দলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে তারা জিজ্ঞেস করবে, এ খবিশ রূহ কার? তারা বলবে, অমুকের ছেলে অমুকের, দুনিয়াতে তাকে সবচেয়ে খারাপ যে নামে ডাকা হতো সে নাম উল্লেখ করবে। এভাবে তারা প্রথম আসমানের দরজায় পৌঁছলে দরজা খুলতে আবেদন করবে; কিন্তু তার জন্য দরজা খোলা হবে না। অতঃপর রাসূল (সা.) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন,“তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে।” (সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৪০) অতঃপর আল্লাহ তা‘য়ালা বলবেন, তার নাম জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে সিজ্জীনে লিপিবদ্ধ করো। ফলে তার রূহ সেখান থেকে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর রাসূল (সা.) এ আয়াত পাঠ করলেন,‘‘আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়লো। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিম্বা বাতাস তাকে দূরের কোনো জায়গায় নিক্ষেপ করলো।” (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩১)

তাফসীরে ইবন আব্বাস (রা.) বলেছেন, আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, “জীবিত ও মৃত ব্যক্তির রূহ স্বপ্নে মিলিত হয়ে পরস্পর পরস্পর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। অতঃপর আল্লাহ মৃত ব্যক্তির রূহ রেখে দেন এবং জীবিত ব্যক্তির রূহ তার শরীরে ফিরে দেন।”
জীবিত ও মৃত ব্যক্তির আত্মা যে একত্রিত হয় এর প্রমাণ হলো, জীবিত ব্যক্তি স্বপ্নে মৃত ব্যক্তিকে দেখে, অতঃপর জেগে সে তা বর্ণনা করেন, মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তিকে এমন সংবাদ দেয় যা জীবিত ব্যক্তি আগে জানত না। অতঃপর মৃত ব্যক্তির প্রদত্ত সংবাদ অতীতে বা ভবিষ্যতে প্রতিফলিত হয় যেভাবে সে সংবাদ দেয়। এ ধরণের অসংখ্য ঘটনা মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত আছে। রূহ, এর বিধান ও এর অবস্থা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ এ ব্যাপারটি অস্বীকার করে না।

শরীর থেকে আত্মা আলাদা হওয়ার পরে তা আবার কিভাবে উক্ত শরীরকে চিনে? রূহ শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পরে তা শরীর থেকে এমন এক আকৃতি (প্রতিচ্ছবি) নিয়ে যায় যা উক্ত শরীররে সাথেই নির্দিষ্ট হয়ে যায়, অন্য শরীরের সাথে মিলিত হবে না। কেননা সে তার শরীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যায় এবং শরীরে ফিরে আসে, যেভাবে শরীর তার রূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এবং রূহের কাছে ফিরে আসে। ফলে ভালো শরীর ভালো আত্মা থেকে উত্তম জিনিসগুলো লাভ করে, আবার খারাপ শরীর নিকৃষ্ট আত্মা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস লাভ করে। এমনিভাবে উত্তম রূহ তার উত্তম শরীর থেকে এবং নিকৃষ্ট রূহ তার নিকৃষ্ট শরীর থেকে ভালো এবং খারাপ জিনিসগুলো অর্জন করে।

অতঃপর তার শরীরে রূহ প্রবেশ করানো হবে। তখন দু’জন ফিরিশতা এসে তাকে বসাবেন এবং প্রশ্ন করবেন, তোমার রব কে? তখন সে বলবে, হা-হা-লা-আদরী অর্থাৎ হায় আফসোস! আমি তো জানি না। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার দীন কী? সে বলবে, হায় আফসোস! আমি জানি না। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, এ ব্যক্তি কে, যাকে দুনিয়াতে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিলো? তখন সে বলবে, হায় আফসোস! আমি জানি না। তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এরূপ বলতে থাকবেন, সে মিথ্যা বলেছে। তার কবরে আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে আগুনের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার কবর থেকে জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও; যাতে তার কবরে জাহান্নামের আগুনের প্রচন্ড তাপ ও ভাঁপ আসতে থাকে। এরপর কবর তার জন্য এতই সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার পাঁজরের একপাশ অপরপাশে চলে যায়। এরপরে নোংরা কাপড় পরিহিত, দুর্গন্ধযুক্ত একজন কুৎসিত চেহারার লোক তার কাছে আসবে। সে বলবে, তোমাকে যে সংবাদ কষ্ট দিবে (তোমার জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে) সে সংবাদ শুনে খুশি হও! এটি সে দিন যে দিনের ওয়াদা তোমাকে দেওয়া হয়েছিলো। তখন মৃত ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করবে, তুমি কে? তোমার মতো কুৎসিত চেহারায় খারাপ কিছু আসে। তখন সে বলবে, আমি তোমার খারাপ আমল। তখন সে বলবে, হে আমার রব, কিয়ামত সংঘটিত করবেন না।”

দার্শনিকদের মতে আত্মা অমর। এ মতের বিরোধিতা করে ইমাম গাযযালী (রহ.) বলেছেন যে, আত্মা এবং দেহ উভয়ই অমর। জন্মের পরে যেমন দেহ ও আত্মার মিলন হয়, তেমনি হাশরের দিনে দেহ ও আত্মার মিলন হবে। তিনি বলেন যে, যেহেতু আত্মার ক্ষেত্রে জ্ঞানের প্রকার প্রযোজ্য নয়, তাই আত্মার কোনো পরিমাণ নেই। আত্মা যদিও শ্রেষ্ঠ তবুও এর কোনো আকার নেই। আত্মা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। আল্লাহ তা’য়ালা কোরআনে এরশাদ করেন, ‘এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেব এবং পুণরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করবো।’ (সুরা ত্বাহা : আয়াত ৫৫) আল্লাহ তা’য়ালা সব মানুষের রূহকে সৃষ্টি করে ‘আলমে আরওয়াহ’তে রেখেছেন। সেখান থেকে সময়ের ব্যবধানে পর্যায়ক্রমে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

মৃত্যুর পর মানুষের রূহ বা আত্মা কোথায় যায় এবং কোথায় অবস্থান করে? কিয়ামত সংঘটিত হবার পরে বিচার শেষে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিন্তু এর পূর্বে সুদীর্ঘকাল মানুষের আত্মা কোথায় অবস্থান করবে? কোরআন-হাদীসে এর স্পষ্ট জবাব রয়েছে। মৃত্যুর পরের সময়টিকে যদিও পরকালের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে, তবুও কোরআন-হাদীস মৃত্যু ও বিচার দিনের মধ্যবর্তী সময়কে আলমে বরযখ নামে অভিহিত করেছে। রুহ আত্মা এবং মানুষকে পরিশীলিত ও পরিশুদ্ধ করার জন্য নিম্নের কর্মসূচিগুলো নিতান্তই উপকারী ও পালনযোগ্য- ১. ঈমান, ২. তাওবা,৩. তাকওয়া, ৪. তাওয়াক্কুল, ৫. সিয়াম সাধনা, ৬. হজ পালন, ৭. কোরআন তেলাওয়াত, ৮. আল্লাহর প্রশংসা করা ৯. নেক আমল করা ১০. সালাত আদায়, ১১. ইখলাছ ১২. যাকাত প্রদান, ১৩. যিকির, ১৪. ধৈর্যধারণ, ১৫. শুকরিয়া আদায় করা, ১৬. আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ, ১৭. পশুত্ব চরিত্র বর্জন, ১৮. নিজেকে স্বাভাবিক রাখা, ১৯. পাপকর্ম থেকে মুক্ত থাকা, ২০.সুন্নতে রাসূল্লাহর অনুস্মরণ, ২১. কালেমার দাওয়াত প্রচার করা, ২২. মা-বাবার সন্তুষ্টি অর্জন, ২৩. দ্বীনি শিক্ষা অর্জন, ২৪. মানুষের হক আদায়, ২৫. আল্লাহ ওয়ালাদের সান্নিধ্য লাভ। যারা সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহু তা’য়ালার বর্ণনা মতে, এবং শেষ নবী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর দেখানো পথে জীবনযাপন করে ইহকাল ত্যাগ করবেন তার জন্য রয়েছেÑ চিরসুখের ঠিকানা জান্নাত। আর যিনি আল্লাহর বর্ণনার অবাধ্য পথে, আখেরি রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আদর্শের বিপরীত তথা গোনাহের কাজ করে পরকালীন জীবনে চলে যাবেন, তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তিসহ চিরকষ্টের ঠিকানা জাহান্নাম। কিয়ামতের পর হাশরের ময়দানে মানুষের বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেদিন বিচার পরিচালনা করবেন স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা। হাশরের ময়দানের ফয়সালা অনুযায়ী মানুষের চিরস্থায়ী আবাস নির্ধারিত হবে। মু’মিন বান্দারা যাবেন চিরস্থায়ী সুখের আবাস জান্নাতে আর গোনাহগাররা যাবে ভয়াবহ জাহান্নামে।

মনে রাখতে হবে আমরা আল্লাহকে না দেখলেও মহান মালিক কিন্তু আমাদের সব দেখেন, এমনকি তিনি অন্ধকার রাতে পিপীলিকা চলাকালীন পায়ের আওয়াজ শোনেন এবং পদচিহ্নও দেখেন! অতএব পারিভাষিক ভাষায় আমরা উল্লেখ করতে পারিÑ “আত্মশুদ্ধি এমন একটি বিষয়, যার দ্বারা রূহ বা আত্মাকে সংশোধন করা হয়, আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং তাঁর মারিফত অর্জন করা সম্ভবপর’’। পারতপক্ষে আত্মশুদ্ধি ছাড়া কখনো একটি মানুষ নিঃস্বার্থ, নির্লোভ, নিরহংকারী, দুনিয়াবিমুখ ভালো মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। প্রকৃত মানুষের সুচিক্রমে যাপিত হোক প্রতিটি মানবাত্মার জীবন। রূহ আত্মা ও মানুষ নিয়ে আলোচনায় প্রতীয়মান হয়Ñ মানুষ রূহ বা আত্মা এবং দেহের সমন্বয়ে গঠিত। একটি অপরটি ছাড়া অচল। আর দেহ মানুষের বাহ্যিক বিষয় তাই এর অবকাঠামো আমাদের দৃষ্টিতে ভাসে। অথচ এই মানুষের দেহ কেবলমাত্র এই দুনিয়ার জীবনের জন্য। কিন্তু রূহ মানুষের মৌলিকত্ত্ব! আত্মা মানুষের আখিরাতের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। আত্মিক চিকিৎসা দৈহিক চিকিৎসার ন্যায় জরুরি। আর এটা বাতেনিভাবে করতে হয়। কেউ যদি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে আখিরাতে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হবে। তাই আত্মার পরিশুদ্ধতা অর্জন করা একান্তভাবে অপরিহার্য একটি বিষয়। রূহের বাস্তবতাই মূলত মানুষের সজিবতা ও সঞ্জিবনী। মানুষের পরিচয়ের ব্যাপক উদ্ধৃতি থাকলেও একজন মানব প্রকৃত মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করতে এবং পরকালীন মুক্তি সাধনে সচেষ্ট হলে উল্লেখিত আলোচনা আমলে নেয়াটা নৈতিক দায়িত্বের দাবিদার।

আমরা জানি না পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে আমাদের অবস্থান কি ছিলো, আবার পৃথিবীর জীবনকে মৃত্যুর মাধ্যমে ত্যাগ করার পর আমাদের অবস্থান কী হবে। আমাদের চেতনা শুধু এই পার্থিব জীবনকেই ঘিরে থাকে। এ কথা যেনো কেউ মনে না করে যে জীবন শুধু মাত্র পৃথিবীর কর্মক্ষেত্রে আনন্দ উৎসবের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে; এ জীবন উদ্দেশ্যবিহীন মৃত্যুই জীবনের সমাপ্ত এনে দিবে। যদিও পার্থিব জীবন শুরু করার পূর্বের অবস্থা এবং মৃত্যুর পরের অবস্থান আমরা কল্পনা করতে পারি না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। জীবনের বৃহত্তর ও মহোত্তর উদ্দেশ্য রয়েছে এবং সে লক্ষে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে উত্তম কর্ম বা সৎ কাজের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে হবে। এ পৃথিবীর জীবনে, পৃথিবীর জীবনকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন পরিক্ষা করার জন্য ‘‘তোমাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম’’ মানুষ দুর্বলচিত্ত। এই দুর্বলচিত্ত মানুষ জীবনের বন্ধুর পথ অতিক্রম করে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছাতে সক্ষম। কারণ সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তিনি ‘‘পরাক্রমশালী’’ এবং তাঁর ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম। তিনি ক্ষমাশীল অন্যথায় দুর্বল মানুষের পক্ষে লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব ছিলো না।

পৃথিবীর জীবন শুরুর পূর্বে আমরা ছিলাম অস্তিত্ববিহীন বা অন্যরূপে বিরাজমান বর্তমানে পৃথিবীতে আমরা যেভাবে অবস্থান করছি একদিন সে জীবনের অবসান ঘটবে, কিন্ত আমাদের অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে না। কারণ আত্মা অমর। শুধু আত্মার সামনে থাকবে পর্দা বা বাঁধার প্রাচীর । এই পর্দার আবরণ থাকবে দৈহিক মৃত্যুর পর থেকে শেষ বিচারের পূর্ব পর্যন্ত। শেষ বিচারের দিনে এই পর্দার অবসান ঘটবে পরে প্রত্যের জন্য হবে নতুন জীবনযাত্রা। সে জীবন হবে অনন্ত জীবন। নতুন পৃথিবীতে নতুন আঙ্গিকে। যখনই কোনো মু’মিন বান্দা তাঁর আত্মাকে সকল পাপ মুক্ত করে পূত পবিত্র রাখে এবং সেই আত্মাকে সে আল্লাহর প্রতি আনুগ্য ও ভালোবাসাতে নিবেদিত করে আল্লাহ তা গ্রহণ করেন এবং প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থীদের ঈমানকে আরো সুদৃঢ় করেন। শুধু তাই নয় তাদের ঈমানকে সুদৃঢ় ও মজবুত করার জন্য আল্লাহ তাদের পবিত্র রূহ দ্বারা সাহায্য করেন। যদিও সারা সৃষ্টিই হচ্ছে আল্লাহর তবুও মানুষ তার কৃতকর্মের দ্বারা শয়তানের দলে পরিণত হয়। অপরপক্ষে যারা ন্যায় ও সত্যের অনুসারি বা পূত পবিত্রভাবে জীবন-যাপন করে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যে আত্মোৎসর্গ করে যাদের বলা হয়েছে আল্লাহর দল তারা অনন্ত জীবন লাভ করবে বেহেশতি শান্তির মাধ্যমে।

চেয়লেখকঃ গবেষক,সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,
চেয়ারম্যান গ্রীণ ক্লাব, মানিকগঞ্জ,সাংবাদিক ও কলামিস্ট