‘শিবলিঙ্গে কনডমের পুরস্কার নির্বাচনী টিকিট’

 

সংবাদ জমিন অনলাইন ডেস্ক ঃঃ
শুক্রবারই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের নাম ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে লড়ছেন সায়নী। আর এরপর থেকেই পুরনো সেই ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ প্রসঙ্গ তুলে সায়নীকে আক্রমণ করা শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়। বিজেপি সমর্থকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, “শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানোর পুরস্কার হিসেবেই কি তৃণমূলের হয়ে টিকিট পেলেন সায়নী?”

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই পাঁচ বছর আগের এক টুইট নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন সায়নী। সায়নীর সেই টুইটে দেখা যাচ্ছিল শিবলিঙ্গের মাথায় কনডম পরাচ্ছেন এইডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের ম্যাসকট ‘বুলাদি’। ওই ছবিতে লেখা ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। আর পোস্টের ক্যাপশনে সায়নী লিখেছিলেন, “ঈশ্বর এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না।” পুরনো সেই টুইট ঘেঁটেই সায়নীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন একদা রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি তথা সদ্য মেঘালয়ের রাজ্যপাল পদ থেকে অবসর নেওয়া রাজনীতিক তথাগত রায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হেনস্থার স্বীকার হন সায়নী। কিন্তু তখন দমে যাননি সায়নী। মমতার সমর্থনও পেয়েছিলেন। এখন যখন আবার তৃণমূল কংগ্রেসের পদপ্রার্থী হয়েছেন তখন বিজেপি সমর্থকদের “শিবলিঙ্গে কনডম পরানোর পুরস্কার হিসেবেই কি তৃণমূলের হয়ে টিকিট পেলেন সায়নী?”- এমন প্রশ্নেরও কড়া জবাব দিলেন এক টুইটে। তিনি লিখেনঃ

Dear BJP, আপনাদের এই পার্সোনাল অ্যাটাক বা স্মিয়ার ক্যাম্পেইন, ট্রোল বা মিম, আমাদের চলচ্চিত্র জগতের মানুষের কাছে নতুন নয়। চিরাচরিত এবং বাধাগত ফর্মুলা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্তি ছড়ানো, তাঁদের মনে ব্যক্তি সম্পর্কে ভুল ধারনা তৈরি করা, মেরুকরণ আপনাদের বাধাগত ছক। তবে এইটুকু মনে রাখতে হবে যে আমরা বাংলার অনেক পুরনো সহচর। বাংলার মানুষের ভালোবাসা আমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বোঝাই যাচ্ছে আপনারা একটু অস্বস্তিতে পড়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধাচারণ এটা আরও পরিষ্কার করে দিচ্ছে মানুষের কাছে। আর মেয়েদের সম্মান করা আপনাদের ধাতে নেই। আর তা থাকবেই বা কেন!! আপনাদের দলের নেতাই যখন আদ্যাশক্তি, মহামায়া, দেবী দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগে নিজের দলের মহিলাদের নিঃশর্তভাবে সম্মান করতে শিখুন। বেশি কথা বাড়ালে আপনারাই অস্বস্তিতে পড়বেন। এছাড়া বাংলার মানুষের মনোভাব, মুখের ভাষা বিষিয়ে দিতে আপনাদের জুড়ি মেলা ভার। ধার করতে আপনারা ওস্তাদ। তা আমাদের দলের থেকে নেতা হোক বা পরিবর্তনের স্লোগান।