সিংগাইরে পাটের বাম্পার ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

 

আরিফ হাসান নিরব, সিংগাইর ( মানিকগঞ্জ )প্রতিনিধি ঃঃ
সোনালী আঁশ পাটের সুদিন আবার ফিরে এসেছে। পাট চাষে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আগের মতো পাট চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। উপজেলা পাট অধিদপ্তরের সুষ্ঠু তদারকির কারণে সিংগাইরে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট কাটা, জাগ দেয়া, ধোয়া ও শুকাতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তাদের যেন দম ফেলানোর সময় নেই। পাটের ফলন ও ভালো, দামও ভাল পাচ্ছেন। সঙ্গত কারণেই চাষিদের মুখে ফুটে উঠেছে স্বপ্ন পূরণের হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ টিপু সুলতান জানান, আমাদের সাধ্য মত কৃষককে সবধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছি এবং গত বছরের তুলনায় এবার সিংগাইর উপজেলায় পাটের চাষ হয়েছে বেশি। এবার ৯ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। সিংগাইর উপজেলা কৃষি অদিদপ্তরের আওতায় ২০জন কৃষক এবং পাট অধিদপ্তর থেকে ৩০০০ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে।

এছাড়াও নিজ উদ্যোগে অনেক কৃষক উচু এলাকায় সঠিক সময়ে জমিতে পাট বীজ বপন করেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। এই অঞ্চলের কৃষকরা দেশি, তোষা, মেশতা, রবি-১ ও-৯৮,৯৭, জাতের পাটের আবাদ করেছে। তবে উচ্চ ফলনশীল তোষা জাতের পাট চাষ বেশি হয়েছে। নদী-নালা-খাল-বিলে পানি একটু কম থাকায় পাট জাগ দিতে একটু সমস্যা ছিল ।

এছাড়া, পাটের ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট পেয়েছে চাষিরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জয়মন্টপ ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামে পাট চাষী মোঃ আজহারের সাথে, কথা বলে জানাযায় এবার পাটের ভাল ফলন হয়েছে গত বছরের তুলনায় এবার দামও বেশি পাবে বলে তার আশা।

প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, সেচ, রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পাট কাটা, শুকানোসহ খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় লাভ হবে ৫/৬ গুণ। গত বছর বিঘাপ্রতি ৭/৮ মণ পাট পাওয়া গেছে। কিন্তু এবার ফলন ভালো হওয়ায় বিঘাপ্রতি ১০/১২ মণ পাট পাওয়া যাচ্ছে।

পাট শুকানোর পর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিমণ পাট ৩ হাজার টাকা হতে ৩৫০০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অল্প পরিশ্রমে চাষিরা জমিতে পাট চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। পাট ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে।