সৌহার্দ্যপূর্ণ সুখ ও শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিতদের অধিকার

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ

এতিম শব্দের অর্থ নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ। বাংলা অভিধান অনুযায়ী, মাতা-পিতাহীন বালক-বালিকাকে এতিম বলা হয়। ইসলামী পরিভাষায়, যে শিশুর পিতা ইন্তেকাল করেছেন, শুধু তাকে এতিম বলা হয়। পিতা উপস্থিত থাকা অবস্থায় মাতাবিহীন শিশুকে ইসলামী পরিভাষায় এতিম বলা হয় না। কেননা সন্তানের লালন-পালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব পিতার। তাই শিশুকে তখনই নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ ধরা হবে, যখন পিতা থাকবে না। মাতার অবর্তমানেও এই দায়িত্বভার পিতার ওপর অর্পিত। তাই মাতাবিহীন শিশু নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ নয়। আর সন্তান যখন বালেগ হয়ে যায়, তখন তাকে এতিম বলা হয় না। কেননা সে তখন স্বনির্ভর। এতিম সম্পর্কে ইসলাম শুধু নৈতিক নির্দেশনামা দেয়নি; এতিমের প্রশাসনিক ও আইনগত অধিকারের ভিত্তিও দাঁড় করিয়েছে। এর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে হাদিস ও ফিকহের কিতাবে। এতিমের দায়িত্ব গ্রহণে মর্যাদা ও নির্দেশনা সম্পর্কিত আয়াতগুলো পবিত্র কোরআনে অনেক। এক আয়াতে এসেছে, ‘তারা তোমাকে এতিম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, তাদের ইসলাহ তথা সুব্যবস্থা (পুনর্বাসন) করা উত্তম।’ (সূরা : বাকারা, আয়াত : ২২০) যারা এতিমের প্রতি অবিচার করে, আল্লাহ তা’য়ালা তাদের ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘অসম্ভব, (কখনোই নয়) বরং তোমরা এতিমের সম্মান রক্ষা করো না।’ (সূরা : ফজর, আয়াত : ১৭)

এতিমের মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, বিধবা, এতিম ও গরিবের সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে মুজাহিদের সমতুল্য। অথবা তার মর্যাদা সেই (নামাজের জন্য) রাত জাগরণকারীর মতো, যে কখনো ক্লান্ত হয় না। অথবা তার মর্যাদা সেই রোজাদারের মতো, যে কখনো ইফতার (রোজা ভঙ্গ) করে না। (মুসলিম) ইসলামের দৃষ্টিতে এতিমের প্রতিপালন জান্নাতে যাওয়ার উপায়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো এতিমকে আপন মাতা-পিতার সঙ্গে নিজেদের (পারিবারিক) খাবারের আয়োজনে বসায় এবং (তাকে এই পরিমাণ আহার্য দান করে যে) সে পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করে, তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

জাহেলি যুগে মানুষেরা এতিমদের ধন-সম্পদ থেকে উপকার হাসিলে সীমালঙ্ঘন করতো। এমন কি সম্পদের লোভে কখনো বিয়ে করত অথবা সম্পদ যাতে হাত ছাড়া না হয়ে যায় সেজন্য নিজের ছেলেকে দিয়ে বিয়ে করাত এবং বিভিন্ন পন্থায় তাদের সম্পদ ভক্ষণের চেষ্টা করত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল করেন। আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে ইবনে জারির (রহ.) বলেছেন, এতিমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণকারী কিয়ামতের দিন এমতাবস্থায় উত্থিত হবে যে, তার পেটের ভেতর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা মুখ, দুই কান, নাক ও দুই চক্ষু দিয়ে বের হতে থাকবে। যে তাকে দেখবে সে চিনতে পারবে যে, এ হচ্ছে এতিমের মাল ভক্ষণকারী। (ইবনে কাসীর)

নবী করিম (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন এক সম্প্রদায় নিজ নিজ কবর হতে এমতাবস্থায় উত্থিত হবে যে, তাদের মুখ থেকে আগুন উদগীরণ হতে থাকবে। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এরা কারা? তিনি বললেন, তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, যারা এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করে না। (ইবনে কাসীর)

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে রাতে আমাকে ভ্রমণ করানো হলো (অর্থাৎ ইসরার রাতে), সেখানে এমন এক সম্প্রদায়কে দেখলাম তাদের রয়েছে উটের ঠোটের ন্যায় ঠোট, যারা তাদের দায়িত্বে নিয়োজিত তারা ওই সকল লোকদের মুখের চোয়াল খুলে হা করাচ্ছে তারপর তাদের মুখ দিয়ে আগুনের পাথর ঢুকিয়ে দিচ্ছে, আর সঙ্গে সঙ্গে পাথরগুলি তাদের মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি জিবরাঈলকে বললাম, এরা করা? তিনি বললেন, এরা হচ্ছে এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণকারী। (ইবনে কাসীর)
এতিম ও গরিব-মিসকিনের হক ও অধিকার আদায় করা ইসলামের নির্দেশ। এতিমের সঙ্গে কেমন ব্যবহার হবে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা আপনাকে এতিম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, তাদের সুব্যবস্থা তথা পুনর্বাসন করা উত্তম।’ (সূরা বাকারা : ২২০)। এতিমদের হক নষ্ট করলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং জাহান্নামে যেতে হবে। আর যারা এতিমের হক আদায় করবে তাদের ঠিকানা হবে জান্নাত। এতিম প্রতিপালনের দ্বারা শুধু এতিমরাই উপকৃত হয় না বরং এতিম প্রতিপালনকারীর রিজিক প্রশস্ত হয় এবং সে আল্লাহর রহমত ও বরকত প্রাপ্ত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দুর্বল-অসহায়দের কারণেই তোমরা সাহায্য ও রিজিক প্রাপ্ত হও।’ এতিম প্রতিপালনের মাধ্যমে মানুষের কঠোর হৃদয় নরম ও কোমল হয়। একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তার অন্তর কঠিন এ মর্মে অভিযোগ করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, ‘যদি তুমি তোমার হৃদয় নরম করতে চাও তাহলে দরিদ্রকে খানা খাওয়াও এবং এতিমের মাথায় হাত বুলাও।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৭৫৭৬)

ইসলাম সমাজের ধনবান, সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের সম্পদে নিঃস্ব, এতিম, বিধবা ও দুর্দশাগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। যারা এতিমকে ভালোবাসে, তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করে, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রিয় নবী (সা.) তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘মুসলমানের ওই বাড়ি সর্বোত্তম, যে বাড়িতে এতিম আছে এবং তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়। আর ওই বাড়ি সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে বাড়িতে এতিম আছে অথচ তার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়। অতঃপর তিনি তাঁর দুই আঙ্গুলের দিকে এশারা করে বললেন, আমি এবং এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এমন কাছাকাছি অবস্থান করবো।’ (ইবনে মাজাহ)।

এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎকারী কিয়ামতের দিন এমতাবস্থায় উত্থিত হবে যে, আগুনের লেলিহান শিখা তাদের নাক-মুখ দিয়ে উদগীরণ হতে থাকবে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন এক সম্প্রদায় নিজ নিজ কবর হতে এমতাবস্থায় উত্থিত হবে যে, তাদের মুখ থেকে আগুনের উদগীরণ হতে থাকবে।’ সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এরা কারা? তিনি বললেন: ‘তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, যারা এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করে না।’ (ইবনে হিব্বান : ৫৫৬৬)

পবিত্র রমজান মাস সহমর্মিতার মাস। আর সহমর্মিতা প্রকাশের সবচেয়ে বেশি হকদার সমাজের এতিমরা। পবিত্র মাহে রমজানে তাদের প্রতি একটু যত্নবান হওয়া দরকার। বরকতের এই মাসে যত বেশি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা হবে, অন্য সময়ের তুলনায় অনেক গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে বলে, হাদিসে বলা হয়েছে। সেইসাথে বলা হয়েছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কথা। শরিয়তে পিতৃহারা শিশুকে এতিম বলা হয়।

এতিমদের অধিকার বা হক সুসংরক্ষণে রাসূল (সা.) বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে দূরে থাক। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন, সেগুলো হলো- ১. আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করা ২. জাদু করা ৩. অহেতুক আল্লাহর নিষিদ্ধ জীবজন্তু হত্যা করা ৪. সুদ খাওয়া ৫. এতিমের মাল ভক্ষণ করা ৬. জিহাদের মাঠ থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ৭. সতী-সাধ্বী মুসলিম নারীর ওপর ব্যভিচারের মিথ্যা দোষারোপ করা।’ বুখারি, মুসলিম।

‘এতিমদের তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদলবদল কোরো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রণ করে তা গ্রাস কোরো না। নিশ্চয়ই এটা বড়ই মন্দ কাজ।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ২)। ‘আর যদি তোমরা ভয় করো যে, এতিম মেয়েদের হক যথাযথভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়ের মধ্য থেকে যাদের ভালোলাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে একটি অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের, এতে পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ৩)।

‘আর এতিমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পারো, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করতে পারো। এতিমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ কোরো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা সচ্ছল তারা অবশ্যই এতিমদের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যর্পণ করো, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ৬)।

‘সম্পত্তি বণ্টনের সময় যখন আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মিসকিন উপস্থিত হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু খাইয়ে দাও এবং তাদের সাথে কিছু সদালাপ করো।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ৮)। ‘যারা এতিমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে এবং সত্বরই তারা অগ্নিতে প্রবেশ করবে।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ১০)। ‘আর উপাসনা করো আল্লাহর, শরিক কোরো না তাঁর সাথে অন্য কাউকে। বাবা-মায়ের সাথে সৎ ও সদ্ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ৩৬)।

‘তারা আপনার কাছে নারীদের বিবাহের অনুমতি চায়। বলে দিন আল্লাহ তোমাদের তাদের সম্পর্কে অনুমতি দেন এবং কুরআনে তোমাদের যা যা পাঠ করে শোনানো হয়, তা ওই সব পিতৃহীন নারীদের বিধান, যাদেরকে তোমরা নির্ধারিত অধিকার প্রদান কর না অথচ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বাসনা রাখ। আর অক্ষম শিশুদের বিধান এই যে, এতিমদের জন্য ইনসাফের ওপর কায়েম থাক। তোমরা যা ভালো কাজ করবে, তা আল্লাহ জানেন।’ (সূরা-নিসা, আয়াত : ১২৭) ‘এতিমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না, কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ করো ন্যায়সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দিই না। যখন তোমরা কথা বলো তখন সুবিচার করো, যদি সে আত্মীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। (সূরা-আল আনআম, আয়াত : ১৫২)। ‘আর এ কথাও জেনে রাখো যে, কোনো বস্তুসামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনিমত হিসেবে পাবে, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এতিম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর ওপর এবং সে বিষয়ের ওপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালের দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর ওপরই ক্ষমতাশীল।’ (সূরা-আল আনফাল, আয়াত : ৪১) ‘আর, এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাক্সক্ষা ছাড়া; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যৌবনে পদার্পণ করা পর্যন্ত এবং অঙ্গীকার পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সূরা-বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩৪)।

‘আল্লাহ জনপদবাসীর কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর রাসূলের, তাঁর আত্মীয়স্বজনের, এতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্য, যাতে ধনৈশ্বর্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সূরা-আল হাশর, আয়াত : ৭)। ‘তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে আহার্য দান করে।’ (সূরা-আদ দাহর, আয়াত : ৮)।‘এতিম আত্মীয়কে (অথবা ধূলিধূসরিত মিসকিনকে।’ (সূরা-আল বালাদ, আয়াত : ১৫)।‘তিনি কি আপনাকে এতিম রূপে পাননি?’ (সূরা-আদ দুহা, আয়াত : ৬)।‘সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।’ (সূরা-আদ দুহা, আয়াত : ৯) ‘আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচার দিবসকে মিথ্যা বলে? সে সেই ব্যক্তি, যে এতিমকে গলাধাক্কা দেয়।’ (সূরা-আল মাউন, আয়াত : ২)। কোরআনের এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, এতিমের হক রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এতিম শব্দটি আরবি,যার অর্থ নি:সঙ্গ। একটি ঝিনুকের মধ্যে যদি একটি মাত্র মুক্তা জন্ম নেয় তখন একে দুররে এতিম বা নি:সঙ্গ মুক্তা বলা হয়। ইবনু মন্জুর লিসানুল আরব অভিধানে বর্ণনা করেছেন। এতিম এমন বাচ্চাকে বলা হয় যার পিতা মারা গিয়েছে, বালেগ হওয়া অবধি সে এতিম হিসাবে গণ্য হবে, বালেগ হবার পর এতিম নামটি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর মেয়ে বাচ্চা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত এতিম বলে গণ্য হবে বিয়ের পর তাকে আর এতিম বলা হবে না। মহানবী (সা.) বলেছেন: বালেগ হওয়ার পর আর কেউ এতিম থাকে না। মেশকাত: পৃষ্ঠা নং ২৮৪ লিসানুল আরবে আরো বর্ণিত আছে যে, মানুষের মাঝে এতিম হয় পিতার পক্ষ থেকে আর চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে এতিম হয় মায়ের পক্ষ থেকে।

আমাদের সমাজে কোনো নারী স্বামীহারা হলে তার গঞ্জনা ও গ্লানির শেষ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর জন্য তাকেই দায়ী করা হয়। এমনকি তাকে ‘অপয়া’, ‘অলক্ষ্মী’ ইত্যাদি মনে করা হয়। এভাবে বিধবা নারীরা সমাজে ভীষণভাবে অবহেলিত ও বিপদগ্রস্ত। ইসলাম বিধবা নারীদের অনেক অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের স্ত্রীদের কর্তব্য হলো চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এরপর যখন ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পূর্ণ করে নেবে, তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে বিধিমতো ব্যবস্থা নিলে তাতে কোনো পাপ নেই। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত আছেন’ (সূরা বাকারা : ২৩৪)। এছাড়া পিতৃহীন এতিম শিশুর দেখাশোনা করা, তার দায়িত্ব গ্রহণ করা, তাকে স্নেহমমতা দেয়া, তার প্রতি দয়া করা, তার সম্পদ রক্ষা করা ইত্যাদি ইসলামের দৃষ্টিতে বিশাল মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। মহান আল্লাহ্ বলেন, “আর এতিমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার,তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করো। এতিমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা সচ্ছল তারা অবশ্যই এতিমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যার্পণ কর, তখন সাক্ষী রাখবে।” (সূরা নিসা: ৬)

রাসূলের বর্ণনার কারণে দেখা যায় সাহাবাগণ, তাবেঈন, তাবে’ তাবেঈনগণ তাঁরা প্রত্যেকে প্রতিযোগিত করতেন এতিম লালন পালন করার জন্য। তা ছাড়া আমি আরব রাষ্ট্রগুলো প্রত্যক্ষ করেছি যে, এসব দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে এতিমদের লালন পালনের ব্যবস্থা রয়েছে, এতে দেশের ধনী লোকেরাও অংশগ্রহণ করছে।

কথিত আছে এক ব্যক্তি মদ্য পান ও গুণাহর কাজ করতো। এক প্রচন্ড শীতের রাতে রাস্তা দিয়ে চলতে ছিলো। অত:পর দেখতে পেলো, একটি ছোট ছেলে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদছে ও প্রচন্ড শীতের কারণে কাঁপছে। ছেলিটির সাথে সে কথাবর্তা বললো, পরিচয় নিয়ে জানতে পারল যে, সে একজন এতিম। তার দুরাবস্থা দেখে লোকটি প্রভাবিত হলো। সে ছেলেটিতে খানা খাইয়ে দিলো এবং নিজের পোষাক খুলে তাকে দিলো যাতে সে শীতের কষ্ট থেকে রক্ষা পায়। তারপর নিজ বাড়িতে ফিরে আসলো এবং ঘুমিয়ে পড়লো। স্বপ্নে দেখলো যেন কেয়ামত উপস্থিত হয়েছে। মানুষ হিসাব নিকাশের জন্য দাড়িয়েছে, আর তার নিজের ব্যাপারে সে দেখছে যে, আজাবের ফেরেশতাগণ এসে তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সামনে সে লাঞ্জিত ও অপমাণিত হচ্ছে। আর যে মুহূর্তে তাকে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই মুহূর্তে সেই এতিমের সাথে দেখা হলো। এতিমটি তার দুরাবস্থা দেখে আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলো। আল্লাহ এতিমের প্রার্থনা কবুল করলেন এবং ফেরেশতাদেরকে এতিমের প্রতি ভালো ব্যবহারের কারণে তাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন, লোকটির হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে সে ভীত হয়ে পড়লো। অত:পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো। গুনাহ থেকে তাওবা করলো ও পাপকাজ ছেড়ে দিলো এবং আল্লাহর আনুগত্যশীল বান্দায় পরিণত হয়ে গেলো। এবং সংকল্প করলো যে, সব সময় এতিমের প্রতি ভালো ব্যবহার করবে।

এতিম প্রতিপালন নি:সন্দেহ এমন কাজ যার দ্বারা দুনিয়া-আখিরাত উভয় জগতের যাবতীয় কল্যাণ সাধন করা যায়। সন্তুষ্টি পাওয়া যায় মহা মহিম আল্লাহ তা’য়ালার। তাই আমাদের সকলের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে এ বিষয়ে সচেষ্ট হয়ে উভয় জগতের সফলতা অর্জন করা। সত্য-সুন্দরের প্রতিষ্ঠাতা ইসলাম। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সব ক্ষেত্রে ইসলাম দিয়েছে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য শ্রেষ্ঠতম রীতিনীতি। মানুষে মানুষে বিবাদ নয়! ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে সাম্য-সম্প্রীতির সুদৃঢ় প্রাসাদ। ইসলামের বিধানে মুসলিমরা পরস্পর ভাই ভাই। আল কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘মু’মিনগণ একে অন্যের ভাই।’ (সূরা হুজরাত-১০)।

অল্প বয়সে যাদের পিতা অথবা পিতামাতা উভয়ের ছায়া সরে যায় তাদেরকে আমরা এতিম হিসেবে চিনি। তাদের প্রতি সমাজের সবার করুণার দৃষ্টি থাকে। তবে মাঝে মাঝে কিছু সুযোগসন্ধানী লোক এতিমদের সম্পদ কৌশলে দখল করে। এটা খুবই অন্যায়। এমনিতেই অন্য করা সম্পদ অন্যায়ভাবে দখলের অনুমতি শরিয়তে নেই। আর এতিমের সম্পদ দখল আরও জঘন্য পাপ। কোরানে এটা আগুন দিয়ে উদরভর্তি করার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা এতিমের সম্পদ খায় অন্যায়ভাবে, তারা কেবল আগুন দিয়ে তাদের উদর পুরা করে। আর তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সূরা নিসা-১০) এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভোগকারী ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন এমনভাবে উঠানো হবে যে, তার পেটের ভেতর প্রজ্ব¡লিত আগুনের শিখা তার চোখ, মুখ, নাক দিয়ে বের হয়ে আসতে থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি বিবেকবান ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভোগ করা, তাদের হক মেরে দেয়া, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং বেইনসাফি করাকে মন্দ এবং নিষ্ঠুরতা মনে করে। কিন্তু এমন কিছু প্রচলন আছে যার মাধ্যমে সবাই হরহামেশাই এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলেছে। অথচ একটু খেয়ালও করছে না। ভেবেও দেখতে পায় না তারা কেমন অন্যায় ও অমানবিক কাজ করে যাচ্ছে। নিজেরা তো তা খাচ্ছেই আবার অন্যদের খাইয়ে দিয়ে পাপের পরিধি প্রশস্ত করেই চলেছে। নানা ধরনের কপ্রথায়িয় পেটুক শ্রেণির মানুষের দ্বারা এসব অন্যায় কাজ বেশি সংঘটিত হয়। যেমন কেউ মারা গেলে এই শেণির আত্মীয়স্বজন মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সমবেদনা জানানোর নামে শোক প্রকাশের অজুহাতে তাদের বাড়ি গিয়ে আস্তানা গেড়ে বসে। অথবা সকাল-বিকেল সেখানে গিয়ে গিয়ে ভূরি ভোজ করে আসে। সঙ্গে তাদের বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে যেতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। এভাবে কয়েকদিন ধরে এমন জুলুম চলতে থাকে। শোকাহত পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করার পরিবর্তে তারা আরও বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। একেই বলে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। তাছাড়া কেউ মারা যাওয়ার পর তার নাবালেগ সন্তানরা এতিম হয়ে যায়। মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের মালিক তারা।তাদের সম্পদ দিয়ে মৃতের জন্য সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার নামে হাঁকডাক করে যা করা হয় সেটাও ইসলাম সমর্থন করে না।

এতিমের প্রতি ইসলাম: ইসলামী সমাজ এমন একটি সমাজ, যে সমাজে পরস্পর সহানুভূতিশীল ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্প্রীতি বর্তমান থাকে। আল্লাহ বলেন; মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; (সূরা ফাত্হ: ২৯) আল্লাহর রাসূল মু’মিনদের গুণ বর্ণনা করেন এভাবে যে, সমস্ত মু’মিনগণ একটি শরীরের মত। রাসূল (সাঃ) বলেন; মু’মিনগণ পরস্পর দয়া ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ভালোবাসার দিক হতে একটি শরীরের মত। যদি শরীরের কোন অঙ্গে আঘাত লাগে সমস্ত শরীর ব্যথায় কাতরায়। এই হাদীস স্পষ্ট প্রমাণ করে যে এতিমদেরকে দয়া মায়া মমতা ভালোবাসা দিয়ে তাদেরকে আপন করে নিতে হবে।
এতিমের লালন পালন করা যেন নিজের সন্তানের লালন পালন করার মত। কেননা আল্লাহ না করুন নিজের সন্তান এতিম হলে তখন অন্যরা এই এতিম সন্তানটি লালন পালন করবে। পক্ষান্তরে নিজে অন্য সন্তানের খুঁজ না নিলে, কেউ নিজের সন্তানের খুঁজ-খবর নিবে না, এটাই রীতি। প্রবাদ রয়েছে; যেমন কর্ম তেমন ফল।

ইসলামী সমাজ পরস্পর সহযোগিতার শিক্ষা দেয়। ইসলাম উৎসাহ প্রদান করেছে, একে অন্যের সুখে-দুঃখে শামিল হওয়ার জন্য। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন রাসূল (সাঃ)’কে কেউ জিজ্ঞাস করলো যে, উত্তম আমল কোনটি? রাসূল (সাঃ) বললেন; তুমি তোমার মুসলিম ভাইয়ের আনন্দে শরীক হও, তার ঋণ পরিশোধ কর, তাকে খানা খাওয়াও। রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে, আল্লাহ ও তার প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসবেন। রাসূল (সাঃ) আরো বলেন; আল্লাহর নিকট ঐ ব্যক্তি প্রিয়, যে মানুষের উপকার করে।

ইসলামি পরিভাষায় এতিম বলা হয় তাদের, যাদের শিশু অবস্থায় বাবা মৃত্যুবরণ করেন। ১৮ বছর বয়স অর্থাৎ বালেগ হওয়ার আগে বা বিবাহ হয়া পর্যন্ত কোনো শিশুর বাবা মারা গেলে সেই শিশুই এতিম। পশু জগতে বাচ্চাদের মা মারা গেলে সেই বাচ্চারাও এতিম হয়ে যায়। তবে মানুষের সাথে পশুদের অনেক পার্থক্য রয়েছে। এতিমদের সম্পদ সংরক্ষণ করার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘এতিমের সম্পদ তাদেরকে ফেরত দিয়ে দাও; ভালো মাল খারাপ মালের দ্বারা বদলিয়ে নিও না; আর তাদের মাল তোমাদের মালের সাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেলো না; এটা বড়ই গুণাহ’ (সূরা নিসা : ২)।

যে মানুষ বিশেষ করে এতিমের কাছে আত্মীয়দের মধ্য থেকে এতিমদের অভিভাবক নিযুক্ত হবেন তিনি যেন এতিম সন্তান বালেগ না হওয়া পর্যন্ত যত্নসহকারে তাদেরকে বড় করে তোলেন। এতিমের প্রতি কোনো প্রকার লোভ লালসা কিংবা তাদের সম্পদের প্রতি লোভলালসা ছাড়া দায়িত্ব নেয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ রয়েছে। আর আল্লাহর পক্ষ হতে যা কিছু করা; না করা; আদেশ নিষেধ তা সবই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। সে জন্য এতিমদের ব্যাপারে লোভলালসা করা যেমন সে লোভ সম্পদের হোক আর সুন্দরের হোক তা ত্যাগ করে যথাযথভাবে বালেগ হওয়া পর্যন্ত তাকে দেখাশোনা করা অত্যাবশ্যক। নিকট আত্মীয়দের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো এতিমের দায়িত্ব না নেয় তাহলে সমাজের কারো ওপর সে দায়িত্ব বর্তায়।

এতিমের ব্যাপারে ১০টি হকের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম সেইসাথে ইসলাম এতিমের হক আদায়ের ব্যাপারেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। বিশেষ করে বয়স পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি এতিমের ব্যাপারে ১০টি হকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ১. এতিমের সম্পদ অন্যদের স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। ২. কঠোরতা বা জোর করা নিষিদ্ধ। ৩. মর্যাদার অধিকার। ৪. রূঢ়তা ও দুর্ব্যবহার নিষিদ্ধ। ৫. খাদ্যের অধিকার। ৬. আশয় প্রদানের অধিকার। ৭. বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তরাধিকার সংরক্ষণ। ৮. ইহসানের বা ভালো ব্যবহার করার অধিকার। ৯. ইনসাফের বা ন্যায় বিচারের অধিকার। ১০. ফাইর বা কাফেরদের যে মাল যুদ্ধ ছাড়া হস্তগত হয়। যেমন খেরাজ, জেযিয়া ইত্যাদি মালের অধিকার। ইসলামে এতিম প্রতিপালনের ফজিলত আল্লাহ তা’য়ালার প্রিয় হাবিব, আমাদের নবি মুহাম্মদ (সা.) মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন এবং ছয় বছর বয়সে মা আমিনাকেও হারান। তারপর তার লালন পালনের দায়িত্ব নিলেন দাদা আব্দুল মুত্তালিব। কিন্তু তিনিও মাত্র দুই বছর পর এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। সে হিসাবে তিনি ছিলেন সর্বদিক দিয়েই এতিম। তাই আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, তিনি কি আপনাকে এতিম রূপে পাননি? অত:পর আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অত:পর পথ প্রদর্শন করেছেন। আপনাকে পেয়েছেন নি:স্ব, অত:পর অভাবমুক্ত করেছেন। সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না। (সূরা দুহা : ৬-৯)

নবী করিম (সা.) এর দুধমাতা হালিমা বর্ণনা করেন যে, এতিম হওয়ার কারণে শিশু মুহাম্মদ (সা.) লালন পালন করার জন্য কেউ সম্মত হয়নি। আমার উট ছিলো দুর্বল তাই আমি সবার শেষে গিয়ে পৌঁছি। এরপর আর কোনো উপায় না পেয়ে এতিম মুহাম্মদকে গ্রহণ করি। কিন্তু মহান করুণাময়ের অশেষ করুণায় আমার উট এমন সবল হলো যে, আমি আমার গোত্রের সবার আগে পৌঁছে গেলাম। শুধু তাই নয়, আমার স্তনের দুধ, বকরি ও অন্যান্য সকল বস্তুতে এই এতিম বালকের কারণে কল্পনাতীত বরকত ও রহমত নাজিল হতে থাকল। তাই তাদের প্রতি আল্লাহর করুণা ও রহমত রয়েছে, বিধায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিম প্রতিপালনে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত রয়েছে। সাহল বিন সাদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি ও এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকবো।
সূরা নিসার প্রথম কয়েকটি আয়াতে এতিম ও অনাথ শিশুদের প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরা হয়েছে। একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) এর একজন সাহাবীর ইন্তেকালের পর তাঁর সমস্ত সম্পত্তি কয়েকজন ভাতিজা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। অথচ ঐ সাহাবীর স্ত্রী ও তাঁর কয়েকটি শিশুকে সম্পত্তির কোনো অংশ দেয়া হয়নি। এর কারণ, অজ্ঞতার যুগে আরবদের বিশ্বাস ছিলো শুধুমাত্র যুদ্ধ করতে সক্ষম পুরুষরাই উত্তরাধিকার বা মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ পাবার যোগ্য। মহিলা বা শিশুরা যুদ্ধ করতে সক্ষম নয় বলে তারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো সম্পদের অংশ পাবার যোগ্য নয়। এ অবস্থায় পবিত্র কোরআনের এই আয়াত নাজিল হয়। এতে নারীর অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে- মীরাস বা উত্তরাধিকারগত সম্পদে পুরুষদের যেমন অংশ আছে, তেমনি তাতে নারীদেরও অংশ রয়েছে। উত্তরাধিকারগত সম্পদ কম বা বেশি যাই হোক না কেন তাতে নারীর অংশ আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট।

পবিত্র কোরআন এতিমদের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে দয়া সঞ্চারের জন্য তাদের অসহায় সন্তানের একটি কল্পিত দৃষ্টান্ত দিচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, ধরে নেয়া যাক, তারা এমন পাষাণ-হৃদয় মানুষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে যিনি তাদের কচি মনের অনুভূতিকে কোন গুরুত্বই দেন না এবং তাদের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ন্যায় বিচার করেন না। এমন অবস্থায় মানুষ নিশ্চয়ই এই ভেবে উদ্বিগ্ন হবে যে, তাদের মৃত্যুর পর অন্যরা তাদের সন্তানদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে? এরপর আল্লাহ বলেছেন, “হে মানুষ! অন্যদের এতিম সন্তানের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে তোমাদেরকেও আল্লাহকে মনে রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার না করে ভাল ও পছন্দনীয় আচরণ কর। এতিমদের মন জয় করো এবং তাদেরকে ভালবেসে তাদের স্নেহের চাহিদা পূরণ করবে।
পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা ও তা জোরদার করতে হলে সুন্দর ও মানবিক ব্যবহার জরুরী। তাই উত্তরাধিকারগত সম্পদ বণ্টনের বিধান উল্লেখের পরপরই কোরআনের আয়াতে এ সম্পর্কিত দু’টি নৈতিক বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এর একটি হলো, উত্তরাধিকারগত সম্পদ বণ্টনের সময় আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে এতিম ও দরিদ্র-আত্মীয় স্বজন উপস্থিত থাকলে তারা সম্পদের উত্তরাধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও সব উত্তরাধিকারীর সম্মতি নিয়ে মোট উত্তরাধিকার থেকে তাদেরকে কিছু দেয়া যেতে পারে ও দরিদ্র আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ধনী আত্মীয়ের প্রতি যদি হিংসা বিদ্বেষ থেকেও থাকে, তাহলে এই দানের ফলে তা প্রশমিত হতে পারে এবং পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধনও এতে শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয় নৈতিক বিধানে বঞ্চিত ও দরিদ্র আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সুন্দর এবং ভদ্রভাবে কথা বলার নিদের্শ দেয়া হয়েছে, যাতে তারা এমন ধারণা করার সুযোগ না পায় যে, দারিদ্রের কারণে তাদের সাথে নির্দয় আচরণ করা হচ্ছে।

মিসকিনদের ভালোবাসতে হবে এবং তাদের প্রতি সদাচরণ ও দয়া প্রদর্শন করতে হবে। তাই আল্লাহর হাবিব (সা.) দোয়া করতেন, “হে প্রভু ! আমি যেনো ভাল কাজ করি ও মন্দকে পরিত্যাগ করতে পারি এবং মিসকিনকে ভালবাসতে পারি, সে তওফিক আপনার নিকট চাই, আর যখন লোকদেরকে পরীক্ষায় ফেলতে ইচ্ছা করেন তখন আমাকে গোলযোগমুক্ত অবস্থায় আপনার নিকট গ্রহণ করে নিবেন”-(মুয়াত্তা: ৪৯৪)।

এছাড়াও ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি দয়া প্রদর্শন করার জন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। হযরত জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেন, “যে লোক মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করে না তাকে আল্লাহ তা’য়ালাও দয়া করেন না”-(তিরমিজি: ১৯২২)। তিনি আরো বলেন, “শুধুমাত্র হৃদয়হীন, নিষ্ঠুর ও দুর্ভাগা মানুষের কাছ থেকেই রহমত ছিনিয়ে নেয়া হয়”-(তিরমিজি:১৯২৩)। আল্লাহর রাসূল (দ.) এর আরো ফরমান, “আল্লাহ তা’য়ালা দয়ালুদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন। যারা যমিনে বসবাস করছে তাদের প্রতি তোমরা দয়া কর, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। দয়া রহমান হতে উদ্গত। যে লোক দয়ার সম্পর্ক বজায় রাখে আল্লাহ তা’য়ালাও তার সাথে নিজ সম্পর্ক বজায় রাখেন। যে লোক দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহ তা’য়ালাও তার সাথে দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করেন”-(তিরমিজি:১৯২৪)।

আমরা এতিমদের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের জীবনযাত্রার সুব্যবস্থা করে সমাজে অবদান রাখতে পারি। এই কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য বড় সংস্থা-সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই। আমরা তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে পারি। বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সুশিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারি। তাদের মধ্যে যারা মেধাবী, যাদের সৃজনশীল ক্ষমতা আছে, তাদের জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমাদের এসব কর্মতৎপরতা তাদের হৃদয়ে প্রভাব সৃষ্টি করবে। তবে লক্ষণীয় যে, এসব কাজ এমন আন্তরিকতার সঙ্গে করতে হবে, যেন আমাদের হূদয়ে তার পিতৃহীনতার বিষয়টি অনুভূত না হয়। সারা দেশে ছিন্নমূল মা-বাবা হারা অগণিত এতিম ও অসংখ্য এতিমখানা রয়েছে। এই এতিমদের চলাফেরা ও যাতায়াতের সুবিধার্থে সব ধরনের গাড়িভাড়া মওকুফের জন্য সুব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন বা সরকারি যানবাহন বাস, নৌযান, রেলগাড়ি প্রভৃতি যন্ত্রচালিত গাড়িতে এতিমদের চলাচলের ক্ষেত্রে ভাড়া মওকুফ করা যেতে পারে। সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুরা নানা প্রতিকূলতার মাঝে বেড়ে ওঠে। এতিম, অনাথ, সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুরা এক ধরনের প্রতিহিংসা নিয়ে বেড়ে ওঠে। মানুষ খাবার খাচ্ছে, কিন্তু সে পাচ্ছে না— এই চিন্তা হিংসার জন্ম দেয়। অন্যদের জন্য বস্ত্র আছে, শীত নিবারণের উপকরণ আছে, কিন্তু তার নেই— এই চিন্তা প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। এতে এসব শিশুর আচরণ বিকৃত হয়ে যায়। ফলে তারা কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না। তাদের মধ্যে ধ্বংসাত্মক কাজে আগ্রহ জন্মে। তাই এদের পক্ষে খুন, ধর্ষণ,ছিনতাই ও মমতাহীন কাজ করা খুবই সহজ। তাদের থেকেই হয়তো গড়ে উঠেছে মুরগি মিলন, টোকাই সাগরসহ বড় বড় সন্ত্রাসী।

ইসলাম ন্যায় ও ইনসাফের ধর্ম। ইসলাম দয়া ও ভালোবাসার ধর্ম। এই ধর্ম হৃদয়ে আশার প্রদীপ প্রজ্বালন করে। অসহায়ের দায়িত্ব নিতে উদ্বুদ্ধ করে। এই ধর্মের মহান শিক্ষা হচ্ছে, আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের অধিকারী হলে নিজের ও পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বও পালন করতে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,‘‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে রয়েছে দরিদ্র ও বঞ্চিতজনের নির্দিষ্ট অধিকার।’’ (সূরা আল যারিয়াত;আয়াত-১৯)

বিশ^ মানবতার দূত হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের প্রিয় হতে চায় তার কর্তব্য হবে-সত্যবাদী হওয়া, বিশ্বাস ভাজন হওয়া এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহারকারী হওয়া।(মিশকাত শরীফ) নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে তথা নিঃস্বার্থভাবে এতিমের মাথায় স্নেহের হস্ত বুলায় তাহার হস্তস্পর্শিত প্রতিটি লোমের পরিবর্তে নেকি লাভ করবে। যে ব্যক্তি কোন এতিম বালক বা বালিকার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে সে বেহেশতের মধ্যে আমার অতি নিকটবর্তী হবে।(তিরমিজী শরীফ) প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, আত্মীয় বা অনাত্মীয় এতিমের লালন-পালনকারী ও আমি বেহেশতে এরূপ নিকটবর্তী থাকব যেরূপ হাতের দুটি আঙ্গুল। (বোখারী শরীফ)

আজ লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে রাস্তায় ঘুমায়। তাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাদের পরিবারে হাজার হাজার সন্তান বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষাদীক্ষাসহ সামাজিক সব অধিকার থেকে। আজ বিশ্বে যদি ইসলামী বিচারব্যবস্থা চালু হয় তাহলে কেউ গ্রাস করতে পারবে না এতিমের সম্পদ। নির্মম নির্যাতন করতে পারত না অসহায় মজলুম মানুষের ওপর। কিন্তু আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে চলছে অন্যায়-অবিচার, মানুষের চোখে-মুখে হতাশা, হাহাকার কিন্তু এর কি কোনো সমাধান নেই? মুক্তি নেই! এটাই কি তাদের অবধারিত নিয়তি, অবশ্যই সে সমাধান পেতে হলে ফিরে আসতে হবে ইসলামের ছায়াতলে। বস্তুত ইসলাম মানবসমাজের কল্যাণের জন্য এবং জুলুম-অত্যাচার বন্ধের কার্যকর বিধান দিয়েছে, এর অনুকরণ আমাদের সবার ঈমানী কর্তব্য। একমাত্র ইসলামী অনুশাসনই পারে সমাজের সব অন্যায়-অবিচার দূর করে গরিব,দুঃখী, এতিম, দুস্থ, মিসকিনদের মুখে হাসি ফোটাতে। বিশ্বকে উপহার দিতে পারে সাম্য-সম্প্রীতির এক মহামিলনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সুখময় শান্তিময় সমাজ। এতিম, অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বেশির ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে পরিচিত হয়ে পড়ে। এসব শিশুদের হোমে প্রেরণের আগেই তাদের মাদকাসক্তি চিকিৎসা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এতিম, অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিশুকে জন্ম নিবন্ধন, শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে আইনি বাধাগুলো অপসারণ করা সময়ের দাবি।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,লেখক,গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট