স্কাউটিং হলো বিশ্বব্যাপী একটি সামাজিক আন্দোলন

 

স্কাউটার মো. আলতাফ হোসেন ঃঃ
“পৃথিবীটাকে যেমন পেয়েছো তার চেয়ে একটু সুন্দর করে রেখে যেতে চেষ্টা করো” এই বাণীকে সামনে রেখে স্কাউট আন্দোলন ১৯০৭ সালে স্কাউট প্রবর্তক লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল শুরু করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল। স্কাউটিং বিশ^ব্যাপী একটি যুব সংস্থা। এর লক্ষ্য যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ যাতে করে তারা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। স্কাউটিং এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশু-কিশোর কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক গুণাবলী উণ্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে পরিবার, সমাজ দেশ তথা বিশে^র সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

যদিও তখন কেবল শিশু কিশোরদের জন্যই স্কাউটিংয়ের দ্বার উম্মুক্ত ছিল। তবে কালক্রমে এটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে ১৯১৮ সালে যাত্রা করে তরুণদের নিয়ে রোভার স্কাউটিং সমিতির প্রতিনিধিত্ব করছে। আমাদের দেশে স্কাউটিং এর যাত্রা শুরু হয় বিশ^ স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের ব্রিটিশ ভারতীয় শাখার অংশ হিসেবে। পরে পাকিস্তান বয় স্কাউট অ্যাসোনিয়েশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত এখানে স্কাউটিং এর কার্যক্রম চলে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ে স্কাউটিং এর সংগঠন গড়ে ওঠে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কাউট আন্দোলনের সদস্য হয়।

বাংলাদেশ স্কাউটস কার্যক্রম শুরু করেছিলো মাত্র ৫৬,৩২৫ জন সদস্য নিয়ে। ১৯৭৮ সালে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় গোটা দেশে সকল স্তরের জন্য ট্রেনিং কোর্সসমূহ পরিচালনায় মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে উণ্নতি হয়। এরপর বাংলাদেশ স্কাউটস ১৯৯৫ ও ৯৬ সালে গ্রহণ করে স্ট্রাটেজিক প্লান-২০১৩। এ প্ল্যানে স্কাউটদের শুধু সংখ্যা বৃদ্ধিই নয় গুণগত মান, অর্জনেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল ৬টি অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে ভলেন্টিয়ার লিডার ও স্কাউটবৃন্দ সমন্বিতভাবে ২০২১ সালের মধ্যে ২১ লক্ষ স্কাউট তৈরির চেষ্টা করছেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৭ সালের স্কাউটের সংখ্যা ১৬,৮২,৭৬১ এ পৌঁছেছে যা বাংলাদেশকে বিশ^ স্কাউট সংস্থায় ৫ম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশ স্কাউটস অগ্রাধিকার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের লক্ষে ২০টি উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে যেগুলোর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট এবং অভিজ্ঞ স্কাউটারগণ। ২০১৫ সালের হিসেবে বাংলাদেশকে মোট স্কাউটের সংখ্যা ১, ৪৭৪, ৪৬০ জন।

স্কাউটিং এর মূলনীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে দেশের শিশু কিশোর ও যুবকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম স্কাউটিং সর্বজন স্বীকৃত। স্কাউটিং এর বাস্তবমুখী ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা

থেকেই সঠিক দিক নির্দেশনার ফলে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পেয়ে থাকে। নিরক্ষর ও মাদকমুক্ত সমাজ সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে এবং ছিন্ন মানুষের সেবা ও সহযোগিতা করার জন্য স্কাউটরা সমাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে দেশের সরকার ও সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে সক্ষম হয়েছে। স্কাউটিং একটি শিক্ষামূলক যুব আন্দোলন। স্কাউটিং এর মাধ্যমে ০৬/২৫ বয়সীদের মুক্তাঙ্গনের বৈচিত্রময় কর্মসূচীর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো হয়ে থাকে যা দৈহিক, মানসিক/আবেগিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ঘটিয়ে চরিত্রবান দক্ষ ও আত্ম নির্ভরশীল আদর্শ নাগরিক রূপে গড়ে তোলার বিশেষ কৌশল হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। মূলত: প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি সম্পূরক সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম হচ্ছে স্কাউটিং। স্কাউট ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে তরুণদের চরিত্রবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনায় স্কাউটিং আজ বিশে^র সর্ব বৃহৎ শিক্ষামূলক যুব আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃত। সমগ্র বাংলাদেশের ৬৯৪টি প্রশাসনিক জেলা, ৫টি মেট্রোপলিটন এলাকা এবং ৪৮৯ উপজেলায় (নবগঠিত উপজেলাসহ) স্কাউটিং এর সাংগাঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । রোভার, রেলওয়ে, নৌ ও এয়ার এই চারটি বিশেষ অঞ্চল শুধুমাত্র জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। অঞ্চল সমূহের আওতাভুক্ত প্রশাসনিক জেলা ৬৪টি, ৫টি মেট্রোপলিটান জেলা, ৬৪টি রোভার জেলা, ১৩টি রেলওয়ে জেলা, ৫টি এয়ার জেলা এবং ৬টি নৌ জেলাসহ সর্বমোট ১৫৭টি জেলা স্কাউটস রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউসের আওতাধীন অঞ্চলের সংখ্যা ১২টি।

দেশে শিশু কিশোর তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট ব্যবহারিক, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, সৎ, চরিত্রবান, কর্মোদ্যোগী, সেবাপরায়ণ এবং সর্বোপরি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে বাংলাদেশ স্কাউটস নিরলসভাবে কাজ কের যাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে দেশ ও জাতি গঠনে স্কাউট আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়ম শৃঙ্খলা ও নৈতিক অনুমীলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন ও আর্তপীড়িতদের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যেই স্কাউটরা দীক্ষা নেয়। মানুষের সেবা করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকাই স্কাউটদের মূলমন্ত্র। চারটি স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে স্কাউটরা নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পায়।
১. সদস্য স্তর, ২। স্ট্যান্ডার্ড স্তর। ৩। প্রোগ্রেসস্তর, ৪. সার্ভিস স্তর। এসব স্তরে তারা সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ কবে, এতে তারা সুনাগরিক হিসেবে জীবন যাপন করার সুযোগ পায়। জীবনে চলার পথে যেসব বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়, সেসবের মোকাবেলা সম্পর্কেও তারা পূর্বাভাস অর্জন করে সর্বাধিক ৩ বছর ধরে নানা প্রোগ্রামের অনুশীল শেষে একজন স্কাউট সাফল্যেল দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন ও নিজেকে গড়ে তোলায় সফল হন।

বাংলাদেশ স্কাউট আন্দোলন প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ১০ বয়সী শিশুদের কাব স্কাউট, স্কুল ও মাদ্রাসার ১১ থেকে ১৬ বয়সী বালক বালিকাদের স্কাউট এবং কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ের ১৭-২৫ বয়সী যুবক রোভার স্কাউট বলে। তবে রেলওয়ে নৌ এবং এয়ার অঞ্চলের চাকরিজীবীদের জন্য ৩০ বছর পর্যন্ত বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে মুক্ত দল। উৎসাহী বয়স্করা বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে ইউনিট লিভার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকমন্ডলী বাংলাদেশ স্কাউসের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট রয়েছেন।

বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক গুণাবলী উন্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে পরিবার, সমাজ দেশ তথা বিশে^র সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা স্কাউট কার্যক্রমে কতকগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যণীয়। হাতে কলমে কাজ শেখা; ছোট দল পদ্ধতিতে কাজ করা, কাজ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের স্কীকৃতি প্রদান; মুক্তাঙ্গনে কাজ সম্পাদন, তিন আঙ্গুলে সালাম ও ডান হাত করমর্দন স্কাউট পোশাক স্কার্ফ ও ব্যাজ পরিধান এবং সর্বদা স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা মেনে চলা, স্কাউটদেরকে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের নির্দেশিত নিয়ম অনুসারে অনুশীল, প্রতিজ্ঞা পাঠও সর্বোচ্চ হচ্ছে রৌপ্য ইলিশ। বিশ^ স্কাউট সংস্থাও বিভিন্ন দেশের অসাধারণ স্কাউটারদের দিয়ে থাকে ব্রোঞ্জ উলফ ব্যাজ। তবে এ ব্যাজ খুব কম সংখ্যক স্কাউটই পেয়ে থাকেন। ১৯৩৫ সনের ২ আগস্ট লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলকে সর্বপ্রথম এই ব্যাজ প্রদান করা হয়েছিলো। স্কাউটিং এ রয়েছে অনেক দিক। কিছু দিক যেমন: ক্যাম্পিং, হাইকিং, ট্র্যাকিং, ফার্স্ট এইড, দড়ির কাজ, পাইওনিয়ারিং রান্না অনুমান খেলা এবং আরো কতো কি। মজার মজার এসব বিষয় শিখে ফেলা যায় নিজের অজান্তেই, এমনকি কিছু বিষয়ে হয়ে ওঠা যায় পারদর্শী। তখন সে অনুযায়ী পোশাকে লাগানো যায় নিত্য নতুন ব্যাজ। এই অর্জনকে ব্যাজ নয় স্কাউট পোশাকের অলংকার বলেছেন বি.পি।

স্কাউট কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশে স্কাউটদের রয়েছে প্রায় ৩০টির মতো প্রকাশনা। এগুলো অবশ্য ব্যাডেন পাওয়েলের বিভিন্ন লেকার ওপর ভিত্তি করেই রচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে; পি.আর.ও, কাব স্কাউট হ্যান্ডবুক, ট্রেনিং ম্যানুয়াল, প্রোগ্রাম বই, স্কাউট রেকর্ড, প্যাট্রল লিডার্স হ্যান্ডবুক এবং প্রোগ্রাম বুলেটিন ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস, রোভার অঞ্চল বিপির লেখা রোভারিং টু সাকসেস বইটির দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনে সদস্য হতে হয়। স্কাউটদের মটো বা মূলমন্ত্র হচ্ছে: কাব যথাসাধ্য চেষ্টা করা; স্কাউট সদা প্রস্তুত এবং রোভার সেবাদান। স্কাউট কার্যক্রমে রয়েছে, সাপ্তাহিক ক্লাশ, ক্যাম্প ও হাইকিং কমডেকা এবং বড় সমাবেশ যথা ক্যাম্পুরি (বাবদের), জাম্বুরি (স্কাউটদের) ও মুটি রোভারদের) আয়োজন করা হয়ে থাকে জাতীয় আঞ্চলিক; জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে (এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে) বিশ^ স্কাউট সংস্থা ও করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বিভিন্ন গ্রুপ ও জেলা পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপন; টিকাদান, স্যানিটেশন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, জ¦ালানি সাশ্রয়ী চুলা এবং বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্কাউটদের সেবাদান কর্মসূচি বাংলাদেশের মানুষ সর্বদাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

স্কাউটদের এ সকল কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ট্রেনিং এর জন্য বিভিন্ন ব্যাজ প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হয়। স্কাউটের তিনটি শাখার জন্য সর্বোচ্চ ব্যাজ হচ্ছে শাপলা কাব, প্রেসিডেন্টস স্কাউট এবং প্রেসিডেন্টস রোবার স্কাউট। অ্যাডাল্ট লিডারদের স্কাউটিং এ অবদান রাখার জন্য তাদেরকেও বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে রৌপ্য ব্যাঘ্র এবং দ্বিতীয় অনুবাদসহ প্রায় ডজন খানেক বই প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ স্কাউসদের অগ্রদূত নামে একটি মাসিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, যা সম্প্রতি ৫৭ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে স্কাউটদের দ্বারা এবং স্কাউটদের জন্য অগ্রদূত নামে একটি অনুষ্ঠানও প্রতিমাসের ২ বার নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে।

যোগদান করেই একজন স্কাউট হয়ে ওঠা যায় না। এর জন্য থাকতে হবে একাত্মতা। তাহলে খুঁজে পাওয়া যাবে এর আনন্দ। কিছুদিন এর শিক্ষার পর শপথ পাঠের মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে হয়ে ওঠে স্কাউট সদস্য পরতে পারে স্কাউট পোশাক, লাগাতে পারে সদস্য ব্যাজ এবং গলায় নিজ দলের স্কার্ফ। এরপর সে পার করে প্রতিটি স্তর এবং খুঁজে পায় নানান বিষয়। একজন স্কাউট এগিয়ে যায় সকলের সাহায্যে। কোনো কিছুর প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নয়, মানবতার টানে, স্কাউটিং নেতৃত্বদানে করে তোলে পারদর্শী। জীবনে সকল কাজেই সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে সে। আবার কারো সাথে থেকেও শেষ করতে পারে যে কোনো কাজ।

স্কাউটিং সকলকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সকল মানসিক গুণাবলি কমবেশি দেখা যায় স্কাউদের মধ্যে। নিয়ম শৃংখলা মেনে চলা এবং সকলের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার মনমানসিকতা থাকে তাদের মধ্যে। বাংলাদেশ স্কাউটিং এগিয়ে যাচ্ছে নিজ গতিতে। ছেলে মেয়েরা স্কাউটিং এর মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠেছে আত্মনির্ভরশীল। নানান শিক্ষার মধ্য দিয়ে বাড়ছে তাদের দক্ষতা তাও এক নির্মল আনন্দের মধ্য দিয়ে। ২০০৭ সালে স্কাউট আন্দোলনের শতবর্ষ পালন উপলক্ষে বিশ^ স্কাউট সংস্কা ‘এক বিশ^ এক প্রতিজ্ঞা” থিম নির্ধারণ করে যুক্তরাজ্যে বিশ^ স্কাউট জাম্বরিসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। বাংলাদেশও স্কাউট যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করে তার মধ্যে আন্তর্জাতিক শতবর্ষ কমডেক, জাম্বুরি অন দ্য ট্রেন, চতুর্থ এপিআর এয়ার ইন্টারনেট জাম্বুরি, নবম জাতীয় রোভার মুট এবং দ্বাদশ মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ উল্লেখযোগ্য।

লেখক: সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ(কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান) চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব
সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি, গবেষক,শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট