স্বামী-স্ত্রীর সুদৃঢ় বন্ধন সুখকর হয়ে ওঠতে পারে দাম্পত্য জীবন

 

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর রয়েছে নির্দিষ্ট অধিকার ও কর্তব্য। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক। সুতরাং উভয়েরই রয়েছে উভয়ের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব ও করণীয়। আল্লাহ তা’য়ালা কোরআনুল করিমে বলেন, ‘তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ।’ (সূরা: ২ বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সততা, বিশ্বস্ততা ও সদ্ভাব প্রদর্শন করা: যাদের মাঝে নিবিড় বন্ধুত্ব, অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক, অধিক মেলামেশা, সবচেয়ে বেশি আদান-প্রদান তারাই স্বামী এবং স্ত্রী। এ সম্পর্কের চিরস্থায়ী রূপ দিতে হলে ভালো চরিত্র, পরস্পর সম্মান, নম্র-ভাব, হাসি-কৌতুক এবং অহরহ ঘটে যাওয়া ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং এমন সব কাজ, কথা ও ব্যবহার পরিত্যাগ করা অবশ্যম্ভাবী , যা উভয়ের সম্পর্কে চির ধরে কিংবা মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেন-‘তাদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে আচরণ কর।’(সূরা নিসা,আয়াত : ১৮) রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন-‘তোমাদের মাঝে যে নিজের পরিবারের কাছে ভালো, সেই সর্বোত্তম। আমি আমার পরিবারের কাছে ভালো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ১৯৬৭) অন্যত্র এরশাদ করেন-শুধুমাত্র সম্মানিত লোকেরাই নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করে। আর যারা অসম্মানিত, নারীদের প্রতি তাদের আচরণও হয় অসম্মানজনক।”(জামে তিরমিযী)

স্ত্রী হলেন বৈবাহিক সম্পর্কের নারী। স্ত্রীকে জায়াও বলা হয় যা একটি লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ। এই শব্দটি সে সমস্ত নারীর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় যে তার সঙ্গী হতে আলাদা হয়ে গেছে এবং কেবলমাত্র সে নারীর ক্ষেত্রে যার আইনত স্বীকৃত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বা তার স্বামী মারা গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বিধবা বলা হয়, বিবাহ বিচ্ছেদের পর নয়। সঙ্গীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব এবং সমাজে ও আইনে তার অবস্থান সংস্কৃতি ও সময়ের সাথে আলাদা হয়ে থাকে। অধিকাংশ সংস্কৃতিতে এটি সাধারণ প্রত্যাশা যে স্ত্রী তার স্বামীর পদবি গ্রহণ করবে যদিও তা সার্বজনীন না। একজন বিবাহিত নারী বিভিন্নভাবে তার বৈবাহিক অবস্থা প্রকাশ করতে পারেন। পশ্চিমা সংস্কতিতে বিবাহিত নারী বিয়ের আংটি পড়ে থাকে। বিয়ের দিন এমনকি বিয়ের পরও একজন নারীকে বধূ বলা হয় যদিও বিয়ের বা মধুযামিনির পর তাকে স্ত্রী বলাই যথাযথ। বিয়ের সময় তার ছেলে সঙ্গীকে বর ও বিয়ের পর তাকে তার স্বামী বলে। ইসলাম আল্লাহর মনোনীত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। তাই ইসলামে যেভাবে নারীর অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে, ঠিক তেমনি স্থান পেয়েছে স্বামীর অধিকারও।

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, হে মানব জাতি! স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার ব্যাপারে আমার হুকুম মান্য করো। পাজরের হাড় থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, স্বভাবতই তারা বাঁকা। যদি তুমি বাঁকা হাড়কে শক্তির দ্বারা সোজা করতে যাও, তবে তা ভেঙে যাবে। তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দাও, সব সময় বাঁকাই থাকবে। এজন্য আমার শেষ নির্দেশ হিসেবে কবুল কর, স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর। (বোখারী ও মুসলিম) স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর ও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের আপন করে নিতে হবে। স্বামীর কাছ থেকে যখন কোনো স্ত্রী ভালোবাসা পাবে, তখন সে তার সবটুকু স্বামীর জন্য উজাড় করে দিবে। রাসূল (সা.)বলেছেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর উভয়ে যখন একে অপরের দিকে ভালোবাসার নজরে তাকাবে, মহান আল্লাহ তাদের দিকে রহমতের নজরে তাকাবেন।

স্ত্রী যদি উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়, তাহলে সে যদি স্বামীর পরিবার থেকে আলাদা ভিন্ন ঘরের দাবি করে, তাহলে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে ভিন্ন ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। স্বামীর মা-বাবার সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রী বাধ্য নয়। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলে তাকে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে এক ঘরে রাখা গেলেও তার পৃথক কক্ষ, টয়লেট, গোসলখানা, পাকের ঘরসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস করারও দাবি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রেও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রীকে বাধ্য করা যাবে না। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের হলে টয়লেট, গোসলখানা, পাকের ঘর ইত্যাদি ভিন্ন দিতে বাধ্য না হলেও তার জন্য একটি পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে, যার হস্তক্ষেপ স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ করতে পারবে না। ওই কক্ষে স্বামীর মা-বাবা, ভাইবোন বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবে না। স্ত্রীর এমন কক্ষ দাবি করার অধিকার ইসলাম স্বীকৃত। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২৩, রদ্দুল মুহতার : ৩/৬০১)

স্বামী-স্ত্রীর জন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সাথে নিজেদের যৌনচারের কথা আলোচনা করা বাঞ্ছনীয় নয়। এমন বিষয় অনুপযুক্ত, অশ্লীল ও লজ্জাজনক বলে গণ্য। এবিষয়ে উভয়েরই উচিত পরস্পরের গোপনীয়তাকে শ্রদ্ধা করা। কিয়ামতদিবসে আল্লাহ্র দৃষ্টিতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ওই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট যায় এবং স্ত্রী স্বামীর নিকট যায় অতঃপর সে তার রহস্য উম্মোচিত করে দেয়। (সহি মুসলিম : ১৪৩৭)

যে নির্দেশ কিংবা চাহিদা পূরণে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, সে ব্যাপারে স্বামীর আনুগত্য করা আবশ্যক করে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেন-‘নারীদের ওপর পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী।’ (সূরা বাকারা, আয়াত :২২৭) অন্যত্র এরশাদ করেন- ‘পুরুষগণ মহিলাদের অভিভাবক এবং দায়িত্বশীল। এটা এজন্য যে, আল্লাহ তা’য়ালা তাদের একের ওপর অন্যদের বিশিষ্টতা দান করেছেন এবং যেহেতু পুরুষগণ তাদের সম্পদ থেকে তাদের স্ত্রীদের জন্য ব্যয় করে থাকে।”(সূরা নিসা,আয়াত: ৩৪) উপরন্তু এ আনুগত্যের দ্বারা বৈবাহিক জীবন স্থায়িত্ব পায়, পরিবার চলে সঠিক পথে। আর স্বামীর কর্তব্য, এ সকল অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের অনুসরণ করা। স্ত্রীর মননশীলতা ও পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে সত্য- কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের উপদেশ প্রদান করা কিংবা হিতাহিত বিবেচনায় বারণ করা। এক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ ও উন্নত মননশীলতার পরিচয় দেয়া। ফলে সানন্দ চিত্তে ও স্বাগ্রহে স্ত্রীর আনুগত্য পেয়ে যাবে।

স্বামীর হক আদায় না করে,তাঁর অনুগত না থেকে কথায় কাজে তাঁকে অপমান করা কোনো ভদ্র মহিলার কাজ নয়। পুণ্যবতী নারীর অন্যতম পরিচয় স্বামীর আনুগত্য। নারীকে তার নিজ স্বার্থে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে। নচেৎ পারস্পরিক সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। মুসনাদে আহমাদ বর্ণিত হাদিসে আছে, যে মহিলা যথারীতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজান মাসের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে চলে এবং স্বামীর পূর্ণ আনুগত্য করে, তার ইচ্ছা, সে জান্নাতের (আটটি দরজার) যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।
শু’আবুল ইমান লিল বাইহাকি বর্ণিত হাদিসে আছে, তিন প্রকারের লোকের নামাজও কবুল হবে না এবং কোনো নেকিও উপরে উঠবে না। ১. পালিয়ে যাওয়া গোলাম; যে পর্যন্ত মনিবের হাতে ফিরে না আসে। ২.ওই মহিলা যার ওপর স্বীয় স্বামী নারাজ হয়ে যায়। ৩. ওই শরাব পানকারী মাতাল; যে পর্যন্ত তার শরাবের ক্রিয়া শেষ না হয়। হাদিসে আছে, মহান আল্লাহ ওই মহিলার দিকে তাকান না,যে মহিলা তার স্বামীর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, অথচ সে তার দিকে মুখাপেক্ষী। ওই মহিলা সবচেয়ে অভিশপ্ত, যে মহিলা (স্বামীর) বিনা অনুমতিতে ঘর থেকে বের হয়, এমতাবস্থায় সে নিজের স্বামীর বদনাম করে। উল্লেখ্য, নিচ ও রুচিহীন মহিলার অভ্যাস হলো স্বামীর বদনাম করা, গিবত করা। ইমাম ইবনে মালেক (রহ.) এর মতানুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর আপসের প্রত্যেকের কথাবার্তা, কার্যকলাপ অপরের কাছে আমানত। তাদের যে কেউ তা প্রকাশ করবে, যা সে অপছন্দ করে, তাহলে নিশ্চিতই সে খেয়ানত করলো। আর তা যদি হয় অপবাদ তাহলে তো তা মারাত্মক ঘৃণিত কবিরা গুণাহ। তিরমিজি শরিফ ও ইবনে মাজাহ শরিফে বর্ণিত হাদিসে আছে, দুনিয়াতে যখন কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে বিরক্ত করে এবং কষ্ট দেয়, তখন জান্নাতের যে সব হুর আখেরাতে ওই পুরুষের সঙ্গিনী ও সহধর্মিণী হবে তারা ওই মহিলাকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, মহান আল্লাহ তোমার সর্বনাশ করুন, তুমি আর তাঁকে কষ্ট দিও না, তিনি মাত্র কয়েক দিন তোমার কাছে মেহমান স্বরূপ আছেন, কিছু দিনের মধ্যেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমার কাছে চলে আসবেন।

একজন স্ত্রী যেমন স্বামী ছাড়া পরিপূর্ণ নন তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রী ছাড়া পরিপূর্ণ নন। সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহ মহান এদের একজনকে অপরজনের সহায়ক এবং মুখাপেক্ষী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একজন আদম দ্বারা কখনোই পরিপূর্ণতা লাভ করত না এই ধরাধাম। একজন হাওয়ার আগমন ঘটিয়েছিলেন তাই আল্লাহ মহান। একজন স্ত্রীর দায়িত্বে স্বামীর যেমন কিছু হক বা অধিকার রয়েছে, একজন স্বামীর দায়িত্বেও তেমনি স্ত্রীর কিছু হক বা অধিকার রয়েছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম সম্পর্ক স্বামী স্ত্রী। এ সম্পর্কের চেয়ে মিষ্টি ও মধুর কোনো সম্পর্ক নেই। এ সম্পর্ক মধুর হলেই একটি সংসার ও একটি পরিবার সব দিক থেকে সুখী হয়ে উঠে। আর এ সম্পর্কে মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হলেই যতো অশান্তি। দু’জন দুজনার প্রতি একান্ত ভালোবাসাই এ সম্পর্ককে মধুর ও মজবুত করতে পারে। একে অপরকে প্রাধান্য দেয়া ও ছাড়ের মানসিকতা থাকলেই এ সম্পর্কগুলো খুব মধুময় হয়। এ ক্ষেত্রে দু’জন দু’জনকেই গুরুত্ব দিতে হবে। স্বামীর ওপর যেমন দায়িত্ব স্ত্রীর সব অধিকার আদায় করা তেমনি স্ত্রীর ওপরও দায়িত্ব স্বামীর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। স্বামীর আনুগত্য না করলে পরকালের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

এক হাদিসে নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, যদি আমি দুনিয়াতে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, নারীকে হুকুম দিতাম তার স্বামীকে সেজদা করতে। তবে সেজদা যেহেতু অন্য কারো জন্য বৈধ নয় তাই এ নির্দেশ দিইনি। বলার উদ্দেশ্য-স্বামীর আনুগত্য করা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা স্ত্রীর আবশ্যিক করণীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। যখন সে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে, মূলত আল্লাহ তা’য়ালারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। কারণ আল্লাহ তা’য়ালার কাছে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এতটা অপছন্দনীয়-তিনি নারীদেরকে বলে দিয়েছেন,এ কারণে তোমরা জাহান্নামে যাবে। কত ভয়ানক কথা!

হাদিস শরিফে রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, মানুষকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে তার মুখ। সাধারণত মুখ নিয়ন্ত্রিত না হলে তার থেকে গুণাহ বেশি প্রকাশ পায়। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পুরুষের মুখ নিয়ন্ত্রনে থাকে। আর নারীরা মুখ নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বারোপ করে না। ফলে অশান্তি সৃষ্টি হয়। আল্লাহর ওয়াস্তে মুখ সাবধানে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। অন্যের হৃদয় আহত হয় এমন কথা যেন মুখ থেকে বের না হয়। বিশেষত স্বামী, যার মন রক্ষা করে চলা আল্লাহ তা’য়ালা স্ত্রীর আবশ্যিক করণীয়-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি এবং ফাতিমা (রা.) নবী করিম (সা.) এর নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি খুব কান্নাকাটি করছেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর কোরবান হোক। আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন, হে আলী! ‘যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছে এবং আমাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে রাতে আমি আমার উম্মতের বহু নারীকে নানা প্রকার আজাব ভোগ করতে দেখেছি। তাদের কঠোর আজাব দেখে আমি কেঁদে দিয়েছি। এক নারীকে তার চুল দ্বারা বেঁধে লটকানো অবস্থায় দেখেছি এবং তার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছিলো। আর এক নারীকে তার জিহ্বা দ্বারা লটকনো অবস্থায় দেখেছি এবং তার মুখের ভেতরে গরম পানি ঢালা হচ্ছিলো। অন্য এক নারীকে দেখলাম তার পা স্তনের সঙ্গে এবং হাত কপালের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। অপর এক নারীকে তার স্তন দ্বারা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় দেখতে পেলাম। অপর এক নারীকে দেখলাম তার মাথা শূকরের মতো এবং দেহ গাধার মতো, তার ওপর রয়েছে হাজারো প্রকার আজাব। অপর এক নারীকে কুকুরের আকৃতিতে দেখলাম। আগুন তার মুখ দিয়ে ঢুকে গুহ্যদ্বার দিয়ে বেরুচ্ছে এবং ফেরেশতারা আগুনের হাতুড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করছে। একথা শুনে ফাতিমা (রা.) উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আমার প্রিয়তম ও নয়নের তৃপ্তি পিতা! এ সব নারীর কোন আমলের কারণে এরুপ আজাব হচ্ছে? তিনি বললেন, হে আমার কন্যা! যে নারীকে চুল দ্বারা বেঁধে লটকিয়ে রাখা হয়েছে, সে মাথার চুল ঢেকে চলাফেরা করতো না। যাকে জিহ্বা দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছে, সে তার স্বামীকে কথা দ্বারা কষ্ট দিতো। যাকে স্তনের সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, সে তার স্বামীর বিছানায় অন্য লোককে স্থান দিতো। যার দু‘পা স্তনের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং হাত দু‘টো কপালের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং যাকে সাপ-বিচ্ছুতে কাটছে, সে নারী যৌন মিলনের পর এবং ঋতু বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে পবিত্র হতো না এবং নামাজের সঙ্গে উপহাস করতো। আর যার মাথা শুকরের মতো এবং দেহ গাদার মতো সে ছিল চোগলখোর ও মিথ্যুক। যে নারীর আকৃতি ছিলো কুকুরের মতো এবং মুখ দিয়ে আগুন প্রবেশ করে গুহ্যদ্বার দিয়ে বেরুচ্ছে সে হলো হিংসুক এবং খোঁটাদানকারী। মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্ত্রী তার স্বামীকে দুনিয়াতে এই বলে কষ্ট দেয় সে জান্নাতের হুর। তাই তাকে কষ্ট দিয়ো না। সাবধান ওহে নারী সমাজ! যে নারী তার স্বামীর অবাধ্য, তার রয়েছে দুর্ভোগ। নারীদের কঠোরভাবে তাদের স্বামীর আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে। অন্য দিকে স্বামীকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার স্ত্রীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার এবং তার প্রতি নম্র ব্যবহার করার জন্য। তার কোনো প্রকার খারাপ অভ্যাস প্রকাশ পেলে তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং তাকে ভরণ-পোষণ, কাপড়-চোপড় ও সাহচর্য প্রদান করে তার প্রতি কর্তব্য পালনে তৎপর হতে হবে। ‘তোমরা তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো।’ নবী করিম (সা.) বলেছেন: স্ত্রীদেরকে উপদেশ প্রদান করো, স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার আছে; তাদের অধিকার হলো তাদের খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর তোমাদের অধিকার হলো যাদেরকে তোমরা অপছন্দ করো তাদেরকে তোমাদের বিছানা স্পর্শ করতে দেবে না এবং যাদেরকে তোমরা পছন্দ করো না তাদেরকে তোমারেদ ঘরে প্রবেশ করতে দেবে না। হুকুম পালনের ব্যাপারে নবী করিম (সা.) নারীদেরকে বন্দীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখিত হাদিস থেকে আরেকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়-রাসূল (সা.) নারীদের বেশি সংখ্যক জাহান্নামে যাওয়ার কারণ এটা বর্ণনা করেননি-তারা এবাদত কম করে, অজিফা কম করে, নফল কম পড়ে, তেলাওয়াত কম করে, বরং দু’টি কারণ বর্ণনা করেছেন। ১. পরস্পরকে অভিশম্পাত করা, ২. স্বামীর অকৃতজ্ঞতা। উভয়টাই বান্দার হকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, নফল এবাদতের চেয়ে বান্দার হকের গুরুত্ব বেশি।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম-যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।’ অন্য রিওয়ায়াতে আছে তোমাদের মধ্যে উত্তম ওই ব্যক্তি, যে স্ত্রীর প্রতি নম্র ব্যবহার করে। নবী করিম (সা.) তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নম্র ব্যবহার করতেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর খারাপ ব্যবহারের ওপর ধৈর্যধারণ করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে ওই পরিমাণ সওয়াব দান করবেন যে পরিমাণ সওয়াব তিনি হজরত আইয়ুব (আ.)-কে বিপদে ধৈর্যধারণের জন্য দিয়েছিলেন। আর যে নারী তার স্বামীর অনাচারের ওপর ধৈর্যধারণ করবে আল্লাহ তাকে ওই পরিমাণে সওয়াব দান করবেন যে পরিমাণ সওয়াব তিনি দিয়েছিলেন হজরত আছিয়া বিনতে মুযাহিম (রা.)-কে অর্থাৎ ফিরাউনের স্ত্রীকে।

একজন স্বামীর ওপর স্ত্রীর হক বা অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে ১. সামর্থ্য অনুযায়ী ভরণ-পোষণ ও খরচাদি দিতে কোনো প্রকার অবহেলা না করা। ২. স্ত্রীকে দ্বীনি মাসআলা-মাসায়িল শিক্ষা প্রদান করা। ৩. ভালো কাজের প্রতি উদ্ভূত করা। ৪. যাদের সঙ্গে দেখা দেয়ার ব্যাপারে ইসলামের অনুমতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ প্রদান করা। ৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ প্রদান করা। ৬. কোনো প্রকার ভুল বা অসাবধানতা হলে ধৈর্য ধারণ করা। ৭. শাসন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা। ৭. মহর আদায় করা। ৮. ইসলামি শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে স্ত্রীর মন জয় করা। ৯. একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় রাখা। ১০. নির্যাতন না করা। যারা তাদের স্ত্রীর কাছে উৎকৃষ্টৃ নবিজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে তারাই উৎকৃষ্ট, যারা তাদের স্ত্রীর কাছে উৎকৃষ্ট এবং আপন পরিবার-পরিজনের প্রতি স্নেনশীল। (তিরমিজি শরিফ) অপর এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর কষ্টদায়ক আচরণে ধৈর্য ধারণ করবে, মহান আল্লাহ তাকে হযরত আইয়ুব (আ.)-এর সমান ‘সওয়াব’ দান করবেন।

নারীদের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বক্রতা থাকলেই যে তাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এমন নয়; বরং তার মধ্যে অনেক ভালো গুণও আছে। কোন বিষয় হয়তো আপনি অপছন্দ করছেন কিন্তু তাতেই রয়েছে আপনার জন্য প্রভূত কল্যাণ যা আপনি জানেনই না। আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেছেন,আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর। আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছো আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন। (সূরা আন-নিসা: ১৯)

স্ত্রীর নিকট থেকে কোনো বিরোধিতা বা অপছন্দনীয় বিষয় প্রকাশ পেলে দ্রুত তাকে উপদেশ দিবে নসীহত করবে। আল্লাহর কথা স্মরণ করাবে, তাঁর শাস্তির ভয় দেখাবে। তার আবধ্যতা ও গোঁড়ামীর পরিণতি যে ভয়াবহ সে সম্পর্কে সতর্ক করবে। কিন্তু এরপরও যদি স্ত্রীর মধ্যে অবাধ্যতা, হঠকারিতা ও অসৎ চরিত্র লক্ষ্য করা যায়, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সীমারেখা রয়েছে যা লঙ্ঘন করা থেকে সাবধান থাকতে হবে। কোরআনুল কারীম এবং সুন্নাতে নববীতে এর একটি সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ বলেন, পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত,তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাজতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাজত করেছেন। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ করো এবং তাদেরকে (মৃদু) প্রহার করো। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অনুসন্ধান করো না।

প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে উপদেশ দেওয়া : এ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে, তাকে ভদ্র ও নম্রভাবে বুঝাতে হবে, বিরোধীতা ও হঠকারিতার পরিণাম সম্পর্কে জ্ঞান দান করতে হবে। স্বামী যে সত্য সত্যই স্ত্রীর কল্যাণকামী এ বিষয়টি যেনো তার কাছে প্রকাশ পায় এমন ভাষা ব্যবহার করতে হবে। রাগতঃ ভাষায় কর্কষ কন্ঠের কথা কখনো উপদেশ হতে পারে না। স্ত্রীকে সংশোধন করার জন্য কখনোই কঠিন ও শক্ত ভাষা ব্যবহার করে উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করবেন না। কেননা অন্যায়কে অন্যায় দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। দ্বিতীয় পদক্ষেপ বিছানায় পরিত্যাগ করা : একই বিছানায় তার থেকে আলাদাভাবে শয়ন করা। এমন কথা নয় যে, তাকে ঘরের বাইরে রাখা বা অন্য ঘরে রাখা বা পিতা-মাতার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া। কেননা নবী করিম (সা.) এ আয়াতে নির্দেশিত বিছানায় পরিত্যাগ করারব্যাখ্যায় বলেছেন,হাকীম ইবন মুআবিয়া রহ. তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! স্বামীদের ওপর স্ত্রীদের কী হক? তিনি বলেন, “যা সে খাবে তাকেও (স্ত্রী) খাওয়াবে, আর সে যা পরিধান করবে তাকেও তা পরিধান করাবে। আর তার (স্ত্রীর) চেহারার উপর মারবে না এবং তাকে গালাগাল করবে না। আর তাকে ঘর হতে বের করে দিবে না। (আবু দাউদ: হাদীস নং ২১৪২) বিছানায় আলাদা করে রাখার অর্থ সম্পর্কে আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, তার সাথে তার বিছানাতেই শুইবে কিন্তু তারসাথে সহবাস করবে না। তার দিকে পিঠ ঘুরিয়ে শয়ন করবে। অন্য বর্ণনা মতে ইবনু আব্বাস বলেন, তার সাথে স্বাভাবিক কথা ছাড়া আর কিছু বলবে না।

হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজে¦র ঐতিহাসিক ভাষণে নবী করিম (সা.) বলেছেন,তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো। কেননা আল্লাহর আমানতে তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর বাণী সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হচ্ছে, তারা তোমাদের গৃহে এমন লোককে প্রবেশ করতে দিবে না যাকে তোমরা পছন্দ করো না। কিন্তু তারা যদি নির্দেশ লঙ্ঘন করে এরূপ করে ফেলে তবে, তাদেরকে প্রহার করো। কিন্তু প্রহার যেনো কঠিন ও কষ্টদায়ক না হয়। তোমাদের উপর তাদের অধিকার হচ্ছে, তোমরা সঠিকভাবে নিয়ম মাফিক তাদের খানা-পিনা ও কাপড়ের ব্যবস্থা করবে। (মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮)

হাসান বাসরী (রহ.) এই প্রহারের ব্যাখ্যায় বলেন, প্রহার যেনো এমন না হয় যার কারণে শরীরে কোনো চিহ্ন দেখা যায় বা শরীর ফুলে-ফুটে যায়। আত্বা (রহ.) বলেন, ইবন আব্বাসকে প্রশ্ন করা হলো, উক্ত প্রহার কিরূপ হবে? তিনি বললেন, মেসওয়াক বা অনুরূপ বস্তু দ্বারা গ্রহার হতে হবে। (তাফসীরে কুরতুবী)। অন্য হাদীসে প্রহারের ক্ষেত্রে হালকাভাবে হলেও মুখমন্ডলে প্রহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। একজন আদর্শ স্বামী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিতি করতে চাইলে পারিবারিক জীবনে রাসূল (সা.) এর আদর্শই আপনার আদর্শ হতে হবে। আপনি রাসূল (সা.) এর মত স্ত্রীকে ভালোবাসলেই আপনার স্ত্রী নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করবেন।

স্বামী ও স্ত্রী উভয় কাউকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তার কাছে কেন সম্মতি চাইব? তাকে কেন সব বলব? এসব ভাবনা পরিহার করাই ভালো ও উত্তম। কারণ স্বামী-স্ত্রী উভয় উভয়ের ঢালস্বরূপ। উভয়ের মাঝে সব কাজের সম্মতি চাওয়া বা আদায় করে নেয়া দোষের কিছু না। সুখী হতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সংসার জীবনে সুখের মূল হবে সম্মতি। দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া। কাউকে বড় করে বা কাউকে ছোট করে ভাবার বা দেখার কোনো অবকাশ নাই। বিয়ের পর যাবতীয় সন্দেহ দূর করুন। একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করুন। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে গোপন কিছু থাকার কথা না। সব কিছুতে সম্মতি দোষের কিছু না। ভালোবাসা বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

ইবনে মাযা ও তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হাদীসে নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে ভালো মন্দ তথা কল্যাণের দিকে খেয়াল রেখো। সাবধান! তারা তোমাদের বন্দিনী (হাতে ন্যস্ত),সাবধান! স্ত্রীদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি তোমাদের উপরও স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের কাছে স্ত্রীদের প্রাপ্য অধিকার হচ্ছে, তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ করবে, তাদের ভরণ পোষণ প্রদান করবে। আর স্ত্রীদের কাছে তোমাদের প্রাপ্য অধিকার হচ্ছে, তারা তাদের সতীত্ব সম্ভ্রম তোমাদের জন্য সংরক্ষন করবে এবং তোমাদের অবাঞ্ছিতদেরকে তোমাদের ঘরে ঢুকতে দিবেনা।

হযরত আয়েশা রাঃ বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.)বলেছেন,“তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি, যে আপন পরিবার পরিজনদের কাছে সবচেয়ে বেশি উত্তম।”(ইবনে হেব্বান) আর এক বর্ণনায় আছে, “তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম,যে নিজ পরিবারে সাথে অধিকতর কোমল আচরণকারী।”-স্বয়ং রাসূল (সা.) সহধর্মিনীদের সাথে অত্যধিক নরম-কোমল আচরণ করতেন। রাসূল (সা.) বলেন, যে লোক স্ত্রীর দুর্ব্যবহারে সবর এখতিয়ার করবে, যে হযরত আইয়ূব আঃ এর ন্যয় পুরস্কার পাবে। আর যে মহিলা স্বামীর দূর্ব্যহারে ধৈর্যধারণ করবে, সে ফেরআউনের বিদুষী স্ত্রী আছিয়া বিনতে মুজাতিমের ন্যায় পুরস্কার প্রাপ্ত হবে।

স্ত্রী হলেন সহধর্মিণী,অর্ধাঙ্গিনী,সন্তানের জননী; তাই স্ত্রী সম্মানের পাত্রী। স্ত্রীর রয়েছে বহুমাত্রিক অধিকার; সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে এবং উভয়ের পরিবার প্রত্যেকে নিজ নিজ অধিকারের সীমানা ও কর্তব্যের পরিধি জেনে তা চর্চা করে তাহলে তা সংসারের জন্য মঙ্গলজনক হবে। ইসলাম যেমন জীবন সঙ্গিনীর ওপর স্বামীর কতিপয় অধিকার আরোপ করেছে, তেমনি সঙ্গির ওপর স্ত্রীর কিছু অধিকার আরোপ করেছে।বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটি সুদৃঢ় বন্ধন। আল্লাহ তা’য়ালা এর চির স্থায়িত্ব পছন্দ করেন,বিচ্ছেদ অপছন্দ করেন। সুখকর দাম্পত্য জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার, পরার্থপরতায় ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অটুট রাখার জন্য স্বামী বা স্ত্রীর উভয়েরই কিছু দায়িত্ব থাকে। দুজনেরই সমান আন্তরিকতা এবং ভালোবাসায় সুখকর হয়ে উঠতে পারে পরিবার জীবন।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,লেখক,গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট